
কোলাঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা : – গ্রাম উন্নয়নের কাজে কোনও খামতি রাখতে চায় না সরকার। তবে পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আধিকারিকদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে এমনই কড়া বার্তা দিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটের বালাকা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় Rural Development–Outcome Review Meeting (RD-ORM)। বৈঠকে রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত স্তরে চলা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, কাজের গতি এবং পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, গ্রাম পঞ্চায়েত সচিব, জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার-সহ রাজ্য ও জেলার একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্লকের বিডিওরা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েত স্তরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কোথায় কতটা এগিয়েছে, কোথায় সমস্যা রয়েছে এবং কোন ক্ষেত্রে পারফরম্যান্স কম, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে কাজের গতি বা পারফরম্যান্স কম রয়েছে, আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই তা উন্নত করার চেষ্টা করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আবাস যোজনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী কড়া বার্তা দেন। তাঁর দাবি, যোগ্য নন এমন বহু মানুষ আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন। এমন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তাকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় এক হাজার জন টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও চলবে বলে স্পষ্ট করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, “সব দুর্নীতির হিসাব হবে।” তবে একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হল প্রকৃত যোগ্য অথচ এখনও আবাস যোজনার সুবিধা পাননি, এমন মানুষদের দ্রুত সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি দফতরের পক্ষ থেকে স্পেশাল অডিটও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ টাকা পড়ে থাকা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কীভাবে সেই টাকা দ্রুত এবং সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
শৌচালয় নির্মাণের ক্ষেত্রেও নতুন পদ্ধতি চালুর কথা জানান তিনি। আগে শৌচালয় নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ার পর টাকা দেওয়া হত। এখন কাজ শুরু করার সময় প্রথমেই ৫০ শতাংশ টাকা দেওয়া হবে এবং কাজ সম্পূর্ণ হলে বাকি টাকা দেওয়া হবে। এর ফলে যেসব এলাকায় শৌচালয় নির্মাণের কাজ আটকে রয়েছে, সেগুলি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বর্তমানে সরকারের মূল লক্ষ্য হল ‘পারফরম্যান্স’ ও ‘ডেলিভারি’-র উপর জোর দেওয়া। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে দফতর। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের কাজে কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেও বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।












Leave a Reply