ড. নীরু চাড্ডা: সমুদ্রের আন্তর্জাতিক আইন থেকে বিশ্ববিচারের মঞ্চে ভারতের এক পথিকৃৎ নারী।

সমুদ্রকে আমরা সাধারণত প্রকৃতি, বাণিজ্য, জাহাজ চলাচল কিংবা সীমাহীন নীল জলরাশির সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আইনের জগতে সমুদ্র একটি অত্যন্ত জটিল বিষয়। কোন দেশের সমুদ্রসীমা কোথায় শেষ হবে, কোন দেশ সমুদ্রের কোন সম্পদ ব্যবহার করতে পারবে, সামুদ্রিক পরিবেশ কীভাবে রক্ষা করা হবে কিংবা সমুদ্রপথ নিয়ে দুই দেশের বিরোধ হলে তার নিষ্পত্তি কীভাবে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয় আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে।

এই কঠিন ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রেই নিজের দীর্ঘ কর্মজীবন গড়ে তুলেছেন ড. নীরু চাড্ডা।

ভারতের আইনজগতের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শুধু একজন আইন বিশেষজ্ঞ নন; তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সামুদ্রিক আইন, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

২০১৭ সালে তিনি International Tribunal for the Law of the Sea বা ITLOS-এর বিচারক নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক পদে নির্বাচিত প্রথম ভারতীয় নারী। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রথম মহিলা Chief Legal Adviser হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

তাঁর জীবন তাই ভারতীয় নারীর আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির জগতে প্রবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

দিল্লিতে জন্ম, আইনের প্রতি আগ্রহ

নীরু চাড্ডার জন্ম ১৯৫৫ সালের ১৭ মার্চ দিল্লিতে।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। পরবর্তীকালে আইনকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি LL.M. সম্পন্ন করেন। এরপর আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে আরও উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের University of Michigan-এ পড়াশোনা করেন এবং সেখান থেকেও LL.M. অর্জন করেন।

পরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আইন বিষয়ে PhD সম্পন্ন করেন।

এই শিক্ষাজীবন তাঁকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষায়িত জগতের দিকে নিয়ে যায়।

আইন মানে শুধু আদালত নয়

আইনজীবী বা বিচারপতি বলতে সাধারণত আদালতের কথা মনে আসে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন অনেক বিস্তৃত।

দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ হতে পারে। সমুদ্রসীমা নিয়ে মতবিরোধ হতে পারে। আন্তর্জাতিক চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার কোনও রাষ্ট্রের নাগরিক বা সংস্থার কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পড়তে পারে।

নীরু চাড্ডার কর্মজীবনের বড় অংশ জুড়েই ছিল এই ধরনের আন্তর্জাতিক আইন।

তিনি বুঝেছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থ রক্ষা করতে শুধু কূটনৈতিক দক্ষতা যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন শক্তিশালী আইনি জ্ঞানও।

বিদেশ মন্ত্রকে দীর্ঘ কর্মজীবন

১৯৯২ সালে নীরু চাড্ডা ভারতের Ministry of External Affairs-এ যোগ দেন।

সেখানে তিনি Legal and Treaties Division-এ কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে তিনি Director, Legal and Treaties Division এবং আরও উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রথম মহিলা Chief Legal Adviser হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এই পদে তাঁর কাজ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক চুক্তি, রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আইনি সম্পর্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিরোধের ক্ষেত্রে ভারত সরকারের অবস্থান নির্ধারণে আইনি পরামর্শ দেওয়া ছিল তাঁর কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধিত্ব

নীরু চাড্ডার কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল জাতিসংঘে ভারতের Permanent Mission-এর সঙ্গে কাজ করা।

তিনি নিউইয়র্কে ভারতের Permanent Mission to the United Nations-এ Counsellor ও Legal Adviser হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করা মানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির জটিল বিষয় নিয়ে প্রতিদিন কাজ করা।

তাঁর কর্মজীবন ক্রমশ ভারতীয় আইন থেকে আন্তর্জাতিক আইনের বৃহত্তর মঞ্চে বিস্তৃত হয়।

বহু আন্তর্জাতিক আলোচনায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব

নীরু চাড্ডা শুধু অফিসে বসে আইনি পরামর্শ দেননি। তিনি ভারতের প্রতিনিধিদলের সদস্য বা নেতা হিসেবেও বহু আন্তর্জাতিক বৈঠক ও সম্মেলনে অংশ নেন।

International Tribunal for the Law of the Sea-এর সরকারি জীবনীতে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে। সেখানে জাতিসংঘ, UNCLOS, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, সামুদ্রিক সম্পদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিভিন্ন বহুপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁর অংশগ্রহণের উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ তাঁর কাজের পরিসর কোনও একটি আইনি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

সমুদ্রের আইন কেন গুরুত্বপূর্ণ?

সমুদ্র পৃথিবীর বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে। কিন্তু সমুদ্র কার?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়।

উপকূলবর্তী রাষ্ট্রের territorial sea, exclusive economic zone বা EEZ, continental shelf, সমুদ্রের নিচের সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা—প্রতিটি বিষয় আন্তর্জাতিক আইনের নির্দিষ্ট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

United Nations Convention on the Law of the Sea বা UNCLOS এই ক্ষেত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো।

ভারতের মতো দীর্ঘ উপকূলরেখা ও বিশাল সামুদ্রিক স্বার্থসম্পন্ন দেশের জন্য এই আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নীরু চাড্ডা এই সামুদ্রিক আইনের ক্ষেত্রেই বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।

বাংলাদেশ-ভারত সমুদ্রসীমা বিরোধ

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিন একটি বিরোধ ছিল।

এই ধরনের বিরোধ শুধু মানচিত্রের রেখা নিয়ে নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে মৎস্যসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, সমুদ্রপথ এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।

নীরু চাড্ডা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের Bay of Bengal Maritime Boundary Arbitration-এ ভারতের Agent হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ITLOS-এর সরকারি জীবনীতে তাঁর আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির এই দায়িত্বের উল্লেখ রয়েছে।

এটি ছিল আন্তর্জাতিক আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্ষেত্র।

Enrica Lexie মামলাতেও ভূমিকা

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের আরেকটি আলোচিত মামলায়ও নীরু চাড্ডা ভারতের হয়ে কাজ করেন।

Enrica Lexie মামলায় ইতালীয় জাহাজের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইতালির মধ্যে আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

নীরু চাড্ডা এই মামলায় ভারতের Agent হিসেবে কাজ করেন। ITLOS-এর সরকারি নথিতে তাঁর এই ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ধরনের আন্তর্জাতিক মামলায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা একজন আইন বিশেষজ্ঞের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

শুধু সমুদ্র নয়

নীরু চাড্ডার আন্তর্জাতিক আইনের কাজ সমুদ্র পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, শিশু অধিকার, সাংস্কৃতিক সম্পত্তি রক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনাতেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তিনি United Nations-এর বিভিন্ন অধিবেশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

এর ফলে তাঁর কর্মজীবন আন্তর্জাতিক আইনের একটি বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।

ITLOS-এ ঐতিহাসিক নির্বাচন

২০১৭ সালে আসে তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত।

International Tribunal for the Law of the Sea-এর বিচারক নির্বাচনের সময় নীরু চাড্ডা এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হন।

তিনি প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে ITLOS-এর বিচারক হন। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথম দফাতেই ১২০টি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এটি ভারতের আন্তর্জাতিক আইনচর্চার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল।

ITLOS কী?

International Tribunal for the Law of the Sea হল সমুদ্রের আইন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একটি আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠান।

এর সদর দপ্তর জার্মানির হামবুর্গে।

সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক অধিকার এবং UNCLOS-এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিরোধের ক্ষেত্রে এই ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা রয়েছে।

নীরু চাড্ডা ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর ITLOS-এর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিচারকের আসন থেকে নেতৃত্বের পর্যায়ে

নীরু চাড্ডার আন্তর্জাতিক ভূমিকা এখানেই থেমে থাকেনি।

২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ITLOS-এর Seabed Disputes Chamber-এর President ছিলেন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ITLOS তাঁকে Vice-President নির্বাচিত করে। সরকারি ITLOS তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ভাইস-প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ২০২৩ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত।

অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিচারব্যবস্থায় তিনি বিচারকের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন।

সমুদ্রের পরিবেশ নিয়ে তাঁর কাজ

আজকের পৃথিবীতে সমুদ্রের আইন শুধু সমুদ্রসীমা বা জাহাজ চলাচলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

সমুদ্রের দূষণ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

নীরু চাড্ডা এসব বিষয় নিয়েও আন্তর্জাতিক আলোচনায় বক্তব্য রেখেছেন। ITLOS-এর সরকারি জীবনীতে সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির আইনি প্রশ্ন নিয়ে তাঁর বক্তৃতা ও গবেষণার উল্লেখ রয়েছে।

এখানে তাঁর কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখা যায়—আইনকে তিনি শুধু বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যম হিসেবে দেখেননি; ভবিষ্যতের সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইনের ভূমিকা নিয়ে কাজ করেছেন।

একজন নারী আইন বিশেষজ্ঞের দীর্ঘ যাত্রা

নীরু চাড্ডার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির উচ্চপর্যায়ে ভারতীয় নারীদের উপস্থিতি আজকের তুলনায় অনেক কম ছিল।

তিনি একে একে বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—আইন বিশেষজ্ঞ, বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তা, Chief Legal Adviser, জাতিসংঘে ভারতের Legal Adviser, আন্তর্জাতিক বিরোধে ভারতের Agent এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক।

এই দীর্ঘ যাত্রার প্রতিটি ধাপ তাঁর পেশাগত দক্ষতার নতুন দিক প্রকাশ করেছে।

গবেষক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ

নীরু চাড্ডা শুধু প্রশাসনিক বা বিচারিক কাজ করেননি। তিনি আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখিও করেছেন।

তাঁর প্রকাশিত কাজের মধ্যে মানবতার সাধারণ সম্পদ হিসেবে চাঁদের ধারণা, কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, সাংস্কৃতিক সম্পত্তি রক্ষা, সমুদ্রের পরিবেশ এবং UNCLOS-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় রয়েছে।

অর্থাৎ তাঁর কর্মজীবনে বিচার, প্রশাসন, কূটনীতি এবং গবেষণা—সবকটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

নতুন প্রজন্মের জন্য বার্তা

নীরু চাড্ডার জীবন বিশেষ করে আইন পড়ুয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী তরুণদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আন্তর্জাতিক আইন এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে শুধু দেশের আইন জানা যথেষ্ট নয়। জানতে হয় আন্তর্জাতিক চুক্তি, কূটনীতি, ইতিহাস, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রের স্বার্থের পারস্পরিক সম্পর্ক।

নীরু চাড্ডার কর্মজীবন দেখায়, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে গভীর জ্ঞান কীভাবে একজন পেশাজীবীকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ দিতে পারে।

উপসংহার

ড. নীরু চাড্ডার জীবন ভারতীয় নারীর পেশাগত অগ্রযাত্রার একটি আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পড়া এক তরুণী ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠলেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেন, জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধে ভারতের হয়ে কাজ করলেন এবং শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক হলেন।

২০১৭ সালে ITLOS-এর প্রথম ভারতীয় নারী বিচারক হিসেবে তাঁর নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।

তারপর ২০২৩ সালে সেই একই প্রতিষ্ঠানের Vice-President হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়া তাঁর আন্তর্জাতিক আইনি কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তাঁর গল্পের বিশেষত্ব হল—তিনি এমন একটি ক্ষেত্র বেছে নিয়েছিলেন, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চোখের সামনে থাকে না। সমুদ্রের সীমানা, আন্তর্জাতিক চুক্তি, রাষ্ট্রের অধিকার এবং আইনি বিরোধ—এই জটিল বিষয়গুলির মধ্যেই তিনি নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন।

সমুদ্রের গভীরতা যেমন বাইরে থেকে বোঝা যায় না, আন্তর্জাতিক আইনের জগতের গভীরতাও তেমনই বিশাল।

নীরু চাড্ডা সেই জটিল জগতেই ভারতের হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় নিজের একটি স্থায়ী পরিচয় তৈরি করেছেন।

তাঁর জীবন তাই শুধু একজন নারী আইন বিশেষজ্ঞের সাফল্যের গল্প নয়—এটি দেখায়, জ্ঞান, অধ্যবসায় এবং একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা একজন মানুষকে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *