দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের মধ্যে মশলা দোসা অত্যন্ত জনপ্রিয়। পাতলা, সোনালি ও মুচমুচে দোসার ভিতরে মশলাদার আলুর পুর, সঙ্গে নারকেলের চাটনি ও সাম্বার—এই খাবারের স্বাদ সত্যিই অতুলনীয়। সকালের জলখাবার, বিকেলের খাবার কিংবা হালকা রাতের খাবার হিসেবে মশলা দোসা দারুণ উপযোগী। বাড়িতে কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে চললে রেস্তোরাঁর মতো মুচমুচে দোসা তৈরি করা যায়।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
দোসার ব্যাটারের জন্য
- চাল — ২ কাপ
- উড়দ ডাল — আধা কাপ
- মেথি দানা — আধা চা-চামচ
- চিঁড়ে — ২ টেবিল চামচ, ঐচ্ছিক
- নুন — স্বাদমতো
- জল — প্রয়োজনমতো
- তেল — দোসা ভাজার জন্য
আলুর পুরের জন্য
- আলু — ৪টি মাঝারি
- পেঁয়াজ — ২টি মাঝারি
- কাঁচালঙ্কা — ২টি
- আদা কুচি — ১ চা-চামচ
- সর্ষে — আধা চা-চামচ
- ছোলার ডাল — ১ চা-চামচ
- কারিপাতা — ৮–১০টি
- হলুদ গুঁড়ো — আধা চা-চামচ
- নুন — স্বাদমতো
- তেল — ২ টেবিল চামচ
- ধনেপাতা কুচি — সামান্য
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথম ধাপ: দোসার ব্যাটার তৈরি
চাল ও উড়দ ডাল আলাদা পাত্রে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চালের সঙ্গে চিঁড়ে এবং ডালের সঙ্গে মেথি দানা ভিজিয়ে রাখুন। চাল ৪–৫ ঘণ্টা এবং ডাল প্রায় ৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ভালো হয়।
এরপর জল ঝরিয়ে চাল ও ডাল আলাদা করে মিক্সারে মিহি করে বেটে নিন। প্রয়োজনমতো জল দিন, তবে ব্যাটার খুব পাতলা করবেন না। দুটো মিশ্রণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঢেকে উষ্ণ জায়গায় ৮–১২ ঘণ্টা গাঁজতে দিন। আবহাওয়া অনুযায়ী আরও সময় লাগতে পারে।
ব্যাটার গাঁজলে নুন মিশিয়ে নিন। ব্যাটার খুব ঘন হলে সামান্য জল দিয়ে এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে তাওয়ায় সহজে ছড়ানো যায়।
দ্বিতীয় ধাপ: আলুর পুর তৈরি
আলু সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে মোটামুটি চটকে নিন। একটি কড়াইয়ে তেল গরম করে সর্ষে ফোড়ন দিন। সর্ষে ফুটতে শুরু করলে ছোলার ডাল ও কারিপাতা যোগ করুন।
এরপর আদা কুচি, কাঁচালঙ্কা ও পেঁয়াজ দিয়ে পেঁয়াজ নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। হলুদ গুঁড়ো ও নুন দিন। এবার চটকানো আলু দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
প্রয়োজন হলে সামান্য জল দিয়ে ২–৩ মিনিট রান্না করুন। পুরটি খুব পাতলা করবেন না। শেষে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গ্যাস বন্ধ করুন।
তৃতীয় ধাপ: তাওয়া প্রস্তুত করা
একটি সমতল দোসার তাওয়া মাঝারি আঁচে গরম করুন। তাওয়ার উপর কয়েক ফোঁটা তেল ছড়িয়ে কাপড় বা কিচেন টিস্যু দিয়ে মুছে নিন।
তাওয়া অতিরিক্ত গরম হলে ব্যাটার ছড়াতে অসুবিধা হবে। আবার ঠান্ডা হলে দোসা মুচমুচে হবে না। তাই মাঝারি তাপ বজায় রাখা জরুরি।
চতুর্থ ধাপ: দোসা তৈরি
এক হাতা ব্যাটার তাওয়ার মাঝখানে ঢেলে গোল করে বাইরে দিকে পাতলা করে ছড়িয়ে দিন। চারপাশে সামান্য তেল ছড়িয়ে দিন।
মাঝারি আঁচে রান্না করুন। দোসার নিচের অংশ সোনালি ও মুচমুচে হয়ে এলে মাঝখানে ২–৩ টেবিল চামচ আলুর পুর রাখুন। এবার দোসা ভাঁজ করে তুলে নিন।
দোসা যদি সহজে তাওয়া থেকে না ওঠে, তাহলে আরও কিছুক্ষণ রান্না হতে দিন।
পঞ্চম ধাপ: পরিবেশন
গরম মশলা দোসা একটি প্লেটে রাখুন। পাশে নারকেলের চাটনি, টমেটো চাটনি এবং সাম্বার পরিবেশন করুন। চাইলে উপর থেকে সামান্য মাখনও দিতে পারেন।
মুচমুচে দোসা তৈরির বিশেষ টিপস
১. চাল ও ডালের সঠিক অনুপাত বজায় রাখুন। উড়দ ডাল দোসার ব্যাটারকে গাঁজতে সাহায্য করে।
২. ব্যাটার যথেষ্ট গাঁজতে দিন। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বেশি সময় লাগতে পারে।
৩. দোসা ছড়ানোর আগে তাওয়ার তাপমাত্রা ঠিক রাখুন।
৪. পাতলা করে ব্যাটার ছড়ালে দোসা বেশি মুচমুচে হয়।
৫. তাওয়ায় অতিরিক্ত তেল দেবেন না; অল্প তেলই যথেষ্ট।
৬. পরের দোসা বানানোর আগে তাওয়া খুব গরম হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে নিন।
উপসংহার
মশলা দোসা এমন একটি খাবার, যাতে মুচমুচে দোসা ও সুস্বাদু আলুর পুরের সুন্দর সমন্বয় রয়েছে। ব্যাটার তৈরি থেকে শুরু করে তাওয়ায় সঠিকভাবে দোসা ছড়ানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একটু যত্ন নিলেই বাড়িতে তৈরি করা সম্ভব রেস্তোরাঁর মতো মশলা দোসা। নারকেলের চাটনি ও সাম্বারের সঙ্গে পরিবেশন করলে এই খাবার হয়ে উঠবে আরও আকর্ষণীয়।













Leave a Reply