তপনের নিশ্চিন্তা গ্রামের বাসিন্দা মনোজ অধিকারী দিনের বেলায় জমিতে লাংগল নিয়ে ফসল ফলাতে নেমে পড়েন, রাত্রি বেলায় কাগজ পেন নিয়ে বসে পড়েন নিজের মনের কবিত্বকে লিপিবদ্ধ করতে।

দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- কথায় আছে যে রাধে সে চুলও বাধে। সেরকম একজন তপনের নিশ্চিন্তা গ্রামের বাসিন্দা মনোজ অধিকারী। যিনি এক দিকে দিনের বেলায় জমিতে লাংগল নিয়ে ফসল ফলাতে নেমে পড়েন। তিনিই আবার রাত্রি বেলায় কাগজ পেন নিয়ে বসে পড়েন নিজের মনের কবিত্বকে লিপিবদ্ধ করতে।কবিতা বা পদ্য হচ্ছে শব্দ প্রয়োগের ছান্দসিক কিংবা অনিবার্য ভাবার্থের বাক্য বিন্যাস— যা একজন কবির আবেগ-অনুভূতি, উপলব্ধি ও চিন্তাকে চিত্রকল্পের সাহায্যে সৃষ্টি করে যা নিজেকে তো তৃপ্তি দেবে পাশাপাশি পাঠকেও তৃপ্তি দেবে।
শুরু হয়েছিল সেই স্কুল জীবন থেকে, ক্লাস ম্যাগাজিন দিয়ে হাতে খড়ি কবিতার। স্কুলের মাষ্টার মশাইদের ও বন্ধু বান্ধবদের অনুপ্রেরনায় এগিয়ে চলা।স্কুল কলেজ পাঠ চুকতেই মনের মধ্যে চলা বিভিন্ন কল্পনা শক্তির সংমিশ্রনে সেই কবিতার চর্চাকে আরো এগিয়ে নিয়ে চলা। সুযোগ এসে যায় সামনে হঠাৎ করে কলকাতায় গিয়ে বেশ কয়েক বছর থাকা। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেখানে এক কবি সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে আরো ঘষে মেজে পালিস করে তোলা। কিন্তু বাস্তবের পারিবারিক টানে ফের তপনে ফিরে এসে সংসারের হাল ধরতে কৃষি কাজে নেমে পড়লেও মনের মধ্যে সযত্নে পালিত করা কবিত্বকে ভোলেন নি মনোজ অধিকারী। এর মধ্যে বিয়েও করেন। বিয়ে করে আসা নতুন বউ ও স্বামীর এই কবিতা চর্চার কথা জানতে পেরে অখুশি না হয়ে বরং খুশিই হয়েছিলেন। আর এর পর রাত্রে যখন আর সবাই ঘুমোয় তখন মনোজ বাবু নিজের মনে কবিতা লিখে চলেন। সেই লেখায় যাতে মানসিক কল্পনায় কবিতা লেখায় ব্যাঘাত না ঘটে তারজন্য তিনি চা কফি মনোজ বাবুর হাতের সামনে যোগান দিয়ে সাহায্য করতে ভোলেন না।

ইতিমধ্যে মনোজবাবু পাঠক মহলে ভালই সাড়া পেয়েছেন। তাই এর মধ্যে তার তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। দুটি বালুরঘাট থেকে হলেও অপরটি হয়েছে সুদুর পুরুলিয়া থেকে।জমি তে কৃষিকাজ করার সাথে সাথে ইতিমধ্যে পঞ্চায়েতে কন্ট্রাকচ্যুয়ালে কাজ করতে শুরু করেছেন।কিন্তু তবু তার কবিতা চর্চা ছাড়েন নি। বরং এই সব কাজের মধ্যেই দিনভর তিনি নিজের কবিতা লেখার রসদ মনের মনি কোঠায় সংগ্রহ করে রাখেন। তারপর সবাই যখন সারা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে বিছানায় শয্যা নেয়।তখন মনোজ বাবু নিজের সাধনায় বুদ হয়ে যেতে ভাল বাসেন।

জীবনান্দ দাস বলেছেন, “সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি”।কবি হবে মানবতার। কবি হবে সত্য ও সুন্দরের পূজারী। আর কবিতা হবে এই অমোঘ সত্যর নির্দেশক।মনোজ অধিকারী তার কবিতা লেখনীর মধ্যমে সেই কবি স্বত্বাকেই ফুটিয়ে তুলছেন এই তপনের মাটি থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *