নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাটঃ জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধি মহিলা, তবু বাবা মা নিয়ে সংসারের ভার তার উপর। বর্তমানে বয়স ৩৫ হলেও মাত্র ১০০০ টাকা প্রতিবন্ধি ভাতা আর মাত্র পৈত্রিক ১ বিঘা জমি সম্বল। দুর্মুল্যের এই বাজারে কি ভাবে চলবেন তা নিয়েই দিশেহারা দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বংশীহারি ব্লকের কাকিহার গ্রামের মহিলা প্রতিবন্ধী রুমেলা খাতুন।পাশাপাশি তার ক্ষোভ স্থানিও পঞ্চায়েত, বি ডিও অফিস থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত তাদের সরকারি সুযোগ সুবিধে পাবার আশায় দরবার চালিয়েও কোন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধে তিনি পান নি। এমনকি সরকারি আবাসনও কপালে জোটে নিঅথচ তার দাবি বর্তমানে রাজ্য সরকার কত মানবিক প্রকল্প চালু রাখলেও সেই সুবিধে থেকেও তিনি বঞ্চিত।কিন্তু সেই মাত্র ১০০০ টাকা ভাতা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। জন্ম থেকে ই পা নিয়ে সমস্যার জেরে তিনি প্রতিবন্ধি হিসেবে স্থানিও স্কুলে ক্লাস অষ্টম পাস করে বাড়িতে বসে আছেন। তার অভিযোগ একজন সুস্থ মানুষ কিছু না কিছু কাজ এমন কি পরের বাড়িতে কাজ করে নিজেদের খাওয়া পড়া চালিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু একজন প্রতিবন্ধি মহিলা পরের বাড়ির কাজও তো করে উঠতে পারবে না। তাহলে আমরা বাচব কি ভাবে।এরপরেই ক্ষুদ্ধ প্রতিবন্ধি রুমেলা আপশোষের সুরে বলেন সরকারের ভোটে আমাকে কাজে লাগালেও, আমাকে সরকার কাজে লাগালো না।
বাবা মুজাম আলি ও মা ওয়াসারা বিবি দুজনেই জানান তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে এই রুমেলা।জন্ম থেকেই সে প্রতিবন্ধি। দুই ছেলে বিয়ে করে ভিন্ন থাকে, মেয়েকে তো আর ফেলে দিতে পারব না, তাই সামান্য এক কাঠা জমিতে চাষাবাদ করে আর ওই সামান্য ভাতা আর নানা জনের সামান্য সাহায্যের উপর এই প্রতিবন্ধি মেয়েকে নিয়ে কোনরকমে কষ্টে চালিয়ে আসছেন। তাদের দাবিসরকার যদি একটু চাকরির সুযোগ সুবিধে দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে এই প্রতিবন্ধি মেয়েকে কোনমতে চালিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হব, নইলে এই দুর্ম্যেল্যের বাজারে আমাদের টিকে থাকাই দায় হয়ে উঠবে।
এই গল্প বিভীষিকাময়। সুস্থ–সবলভাবে পৃথিবীর আলো না দেখায় প্রতিবন্ধি হয়ে জীবনের একটি পর্যায়ে এসে বাবা মা কে নিয়ে বেচে থাকাই আজ দুষ্কর হয়ে উঠেছে রুমেলার। তবে ভাগ্যাহত এই জীবনের চাকা ঘোরানোর জন্য আজও সরকারের দোরে দোরে ঘুরে চলেছেন দক্ষিন দিনাজপুর জেলার বংশীহারি ব্লকের কাকিহার গ্রামের মহিলা প্রতিবন্ধী রুমেলা খাতুন। এখন দেখার কবে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।












Leave a Reply