কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা: পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো কোচবিহারে। এদিন ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় জেলা শাসকের কনফারেন্স হলে। এদিন কোচবিহার জেলা শাসক পবন কাদিয়ান, জেলা ট্রাফিকের আধিকারিক, পিডব্লিউডি আধিকারিক, আরটিও সাহেব, জেলার বিভিন্ন মহকুমা শাসকরা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে মূলত আলোচনা করা হয় কিভাবে পথ নিরাপত্তা করা যাবে এবং দুর্ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা যাবে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
জানা গেছে, কোচবিহার জেলার গত বছরে যেভাবে পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই পথ দুর্ঘটনার যাতে এবার না হয় সে বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার যে জায়গাগুলিতে বেশি করে পথ দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করা। মোট জেলায় মোট ১৮ টি দুর্ঘটনা গ্রস্থ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই দুর্ঘটনা গ্রস্থ এলাকাগুলি কমিয়ে এ বছর পাঁচটি নিয়ে এসেছি। এবছর যাতে আমরা আরো দশ শতাংশ কমাতে পারি সে বিষয় নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও কোচবিহার শহরে দীর্ঘদিন ধরে সিসিটিভি লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও আগে থেকে ২৬ টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। বাকি সিসিটিভি কোথায় কোথায় লাগানো হয়েছে সে বিষয় নিয়ে সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এছাড়া জেলায় ১৮৯টি সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। সেগুলো কিভাবে মনিটরিং করা হবে সে বিষয়ে নিয়েও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়।
এদিন ওই বৈঠক শেষে কোচবিহার জেলাশাসক পবন কাদিয়ান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, আমাদের এই মিটিং এর উদ্দেশ্য হলো জেলার বিভিন্ন রাস্তা গুলিতে কিভাবে দুর্ঘটনা কমানো যায় সে বিষয় নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলার অনেক সময় আমরা দেখে কোন কোন রাস্তা বাড়ানো হয়।আবার কোন ছোট রাস্তা গিয়ে বড় রাস্তায় লেগে যায়। সেই সব এলাকাগুলিতে আশপাশ না দেখে গাড়ি চালালে সেখানে পথ দুর্ঘটনা ঘটে যায়। মূলত এগুলো গ্রামের দিকেই বেশি হয়। কারণ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রাস্তা করা হচ্ছে। ভালো রাস্তা হওয়ায় গাড়ির গতিবেগ বেড়ে যাওয়ার ফলে বেশি দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সব জায়গায় চিহ্নিত করে ডিভাইডার লাগানো হবে। পথ দুর্ঘটনা কিছুটা হলেও কমে যাবে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। শহরের বাহিরে অন্যান্য মহকুমা গুলিতে রাস্তা বাড়ানোর সময় কিভাবে ক্রসিং গুলো করা হবে সেটা নিয়েও আলোচনা করা হয়। জেলার বিভিন্ন জিপিতে বড় বড় রাস্তা রয়েছে। কোথাও জাতীয় সড়ক কোথাও আবার রাজ্য সড়ক রয়েছে। সেই জিপিতে পক্ষে রাস্তার পাশে বড় লাইট লাগানো সম্ভব নয়। সেই সেই সমস্ত জায়গায় বড় রাস্তার পাশে লাইট লাগিয়ে আমরা নিজেরাই দেখভাল করব সে বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। জেলার বিভিন্ন রাস্তাগুলিতে যারা বাইক নিয়ে বা গাড়ি নিয়ে চলাচল করবে। সেই সব গাড়ির চালকদের ব্রেক এনালাইজার দিয়ে তাদের পরীক্ষা করা হবে। আসলে ওই গাড়ি চালাক গাড়ি চালানোর অবস্থায় রয়েছেন কিনা সে বিষয়ে পরীক্ষা করা হবে।
এ ছাড়াও তিনি আরো বলেন,গতবছর আমরা কোচবিহার জেলায় যে সমস্ত জায়গাগুলিতে বেশি দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ১৮টি জায়গাকে চিহ্নিত করেছি। গত বছরের থেকে এবার অনেকটা পথ দুর্ঘটনা থেকে কম হয়েছে। সেই সংখ্যাটা কমিয়ে এবার আমরা ৫টি নিয়ে এসেছি। এ বছর যাতে আমরা আগামী দিনে আরও দশ শতাংশ দুর্ঘটনা গ্রস্ত এলাকার কমাতে পারি সেটা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কোচবিহার শহরে ২৬ টি সিসিটিভি ফুটেজ আগে থেকে লাগানোর হয়েছিল। নতুন করে আরো ১৭৯ টি সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। তুলোর মনিটরিং কিভাবে করা হবে তা নিয়ে পুলিশের আলোচনা করা হয়। ট্রান্সফার এন্ড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কোচবিহার শহরে কেমন হবে সে বিষয়ে যাতে ট্রাফিক আধিকারিকরা নজর দেয় সেটিও ড্রাপ করে পুলিশকে জানানো হয়েছে। এবং জেলায় বিভিন্ন প্রাইভেট স্কুল গুলি রয়েছে। সেই স্কুল গুলি যেসব বাস ব্যবহার করেন। সেই বাসগুলির সেফটি অডিট আমরা করি। এবং নতুন করে বাসের অনুমোদন চাইলে সেটা বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয় বলে জানান তিনি।












Leave a Reply