নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচি চলাকালীন কুড়মিদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা’র গাড়িতে আক্রমণ। আক্রমণের অভিযোগ সরাসরি কুড়মিদের সম্প্রদায়ের দিকে আনা হচ্ছে তৃনমূলের পক্ষ থেকে। সেই অভিযোগ একেবারে মানতে নারাজ কুড়মি সমাজের নেতৃত্বরা। সেই ইস্যু তে খাতড়ার একটি বেসরকারী লজে শনিবার দুপুরের আগে প্রেস কনফারেন্স করলেন বাঁকুড়ার কুড়মি নেতৃত্বরা।
উল্লেখ্য গতকাল ঝাড়গ্রাম জেলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের নবজোয়ার কর্মসূচি চলছিল। জঙ্গলমহলের অন্যান্য জেলার মতো ঝাড়গ্রাম জেলার কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজন সহ নেতৃত্বরা অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে আটকে কুড়মিদের তপশিলী উপজাতি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য “CRI যাস্টিফিকেশন রিপোর্ট” রাজ্য সরকার কেন কেন্দ্রসরকার কে পাঠাচ্ছে না। এবং সেই দাবি নিয়ে রাজ্যসরকারের অবস্থান কি তা নিয়ে কথোপকথন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে কুড়মিদের দ্বারা। ঝাড়গ্রামেও নবজোয়ার কর্মসূচি চলাকালীন রাস্তার দুইধারে কুড়মি জাতির মানুষ অবস্থান করে। আর সেই সময় নবজোয়ার কর্মসূচির চলাকালীন রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার গাড়িতে আক্রমন চালানো হয় এবং মন্ত্রীর গাড়ির ভাংচুর করা হয়। ঘটনার আহত হয় মন্ত্রীর চালক। এরপরেই ঝাড়গ্রামের মাটিতে দাড়িয়ে মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা কুড়মিদের নেতৃত্বদের তীব্র আক্রমণ করে এবং কুড়মি সম্প্রদায়ের এই আন্দোলনকে জাতি স্বত্তার আন্দোলন নয় বলে দাবি করেন।
তৃণমূলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করছেন বর্তমানে কুড়মি নেতৃত্বরা। তাদের দাবি মাননীয় মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও নিন্দনীয়। এর তীব্র ধিক্কার জানাই। তবে এই ঘটনার সাথে কোনো কুড়মী নেতা বা কর্মীসমর্থক যুক্ত নয় বলে তারা সাংবাদিক সম্মেলন করে সরাসরি জানিয়ে দেয়। এবং কুড়মি নেতারা আরো জানান জঙ্গলমহলের সব জেলা গুলিতে কুড়মি জাতির মানুষের বসবাস প্রচুর সংখ্যক। কুড়মিদের বঞ্চনার কারনে কুড়মিরা সরে দাঁড়াতে এখানে তৃণমূলের পতাকা টাঙ্গানোর কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই পরিকল্পিত ভাবে মন্ত্রীর গাড়ি ভাংচুর করে কুড়মিদের উপর অভিযোগ এনে এখন জাতি দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরী করছে তৃণমূল।
পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনে কুড়মি নেতৃত্বরা আরো দাবি করেন। আজ অর্থাৎ ২৭শে মে ঝাড়গ্রামে নবজোয়ার যাত্রা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখবেন। ঘখন তারা দেখছে জঙ্গলমহলের সব জেলায় যখন কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষজন অভিষেকের যাত্রাপথ আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। সেই বিক্ষোভ প্রদর্শন যদি মুখ্যমন্ত্রীর পথ আটকে বা তাকে বিক্ষোভ দেখায় তারই জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ঝাড়গ্রামে আসার আগের দিনেই এভাবে পরিকল্পিত নাটক করে কুড়মিদের উপর অভিযোগ আনা হচ্ছে। এবং সেই অভিযোগে বা কারন দেখিয়ে ঝাড়গ্রামের কুড়মি নেতাদের আটক করা হচ্ছে।
খাতড়ায় এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে কুড়মি সম্প্রদায়ের নেতৃত্বরা সরাসরি তাদের উপরে আসা অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার তদন্তের দাবি জানায় এবং ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।












Leave a Reply