
পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহাদেব মন্ডল রাস্তার পাশেই পৌরসভার জায়গায় একটি অবৈধ নির্মাণ তৈরি করেছিল। সেই নির্মাণ বন্ধ করতে গিয়ে মার খেয়েছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তার পুত্র। এরপরেই তমলুক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ঐ কাউন্সিলর। পাশাপাশি পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় ওই অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার। সেই মতো বুধবার সকালে পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্র নারায়ণ রায় ও স্থানীয় কাউন্সিলর অলোক সাঁতরা উপস্থিতিতে জেসিবি দিয়ে ভাঙ্গা শুরু হয় ওই দোকান। মহাদেব মন্ডলের বড় বৌমা অনেক অনুরোধ করলেও বন্ধ হয়নি দোকান ভাঙার কাজ। দোকানের একাংশ ভাঙার পরেই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক ও বিজেপি তমলুক নগর মন্ডলের সভাপতি অনিন্দ্য সুন্দর দাস। অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে বাধা দেয় তারা। তাদের অভিযোগ এই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে গেলে শহরের রাস্তার দুদিকে থাকা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে হবে।
মহাদেব মন্ডলের বড় বৌমা দিপালী মন্ডল জানান, বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ির উপার্জনের একমাত্র ভরসা ছিল এই দোকান। আজকে দোকান ভাঙার আগে চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরের হাতে ধরে অনেক অনুরোধ করেছিলাম। বাড়িতে কেউ না থাকায় কয়েকদিন পরে ভাঙার। তবে কেউ সেই অনুরোধ শোনেননি।
তমলুক পৌরসভার বিরোধী দলনেত্রী তথা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়া দাস নায়েক বলেন, কাউন্সিলর মারধরের ঘটনা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়, এর প্রতিবাদ হওয়া দরকার। তবে খেটে খাওয়া মানুষের এইভাবে দোকান ভাঙাটা কখনোই উচিত নয়। ভাঙতে হলে এই দোকানের সাথে সাথে শহরে রাস্তার পাশে অনেক অবৈধ নির্মাণ রয়েছে সবগুলোই ভাঙ্গা দরকার।
এই বিষয়ে তাম্রলিপ্ত পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্র নারায়ণ রায় বলেন, পৌরসভার বোর্ড মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজকে ভাঙ্গা হয়েছে। উনি বোধহয় জানেন না এর আগেও একাধিকবার হলদিয়া মেচেদা সড়কের পাশে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করা হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে।












Leave a Reply