অসুস্থ রোগীকে খাটিয়ায় চাপিয়ে ফিরতে বাধ্য পরিবার, রঞ্জিতপুরে ভাইরাল ভিডিওয় উঠে এল রাস্তার দুরবস্থা।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ –হতশ্রী রাস্তার ভাইরাল ভিডিও-তে তুলে ধরা হয়েছিল বেহাল রাস্তার চরম দুর্ভোগের ছবি। বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামে ঢোকার মতো কোন যানবাহন না অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে খাটিয়ায় চাপিয়ে বাড়িতে আনতে বাধ্য হয়েছিলেন পরিবারবর্গ। শনিবার সন্ধ্যায় মালদার হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর অঞ্চলের রঞ্জিতপুর গ্রামের সেই ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো সোরগোল পড়েছিল নেট দুনিয়ায়। তাই সেই গ্রামের রাস্তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে রবিবার সাত সকালেই রঞ্জিতপুর গ্রামে। গ্রামে পৌঁছানো মাত্রই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা উঠে আসে। সত্যতার কথা জানান গ্রামবাসী সহ অসুস্থ রোগীর পরিবারবর্গ। এমনি চোখের সামনেও শনিবারের ভাইরাল ভিডিওর সত্যতার পুনরাবৃত্তির ঘটনা ঘটে। হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে আনা সেই রোগী রবিবার সকালে আবারও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই তাকে পরিবারবর্গ সহ গ্রামবাসীরা মিলে খাটিয়ায় চাপিয়ে বেহাল রাস্তা পার করে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।ঘটনায় গ্রামবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের গ্রামের রাস্তা স্বাধীনতার এত বছর পরেও পাকা হয়নি। জলকাদাময় বেহাল রাস্তা দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হয়। বেহাল রাস্তার কারণে গ্রামের ছেলেমেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারেন। গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্যকোন, যানবাহন আসতে চায়না। গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাতে একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে খাটিয়া। খাটিয়ায় চাপিয়েই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় কিংবা হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনতে হয়। শনিবার সন্ধ্যায় নেট দুর্নিয়ায় বেহাল রাস্তার যে চরম দুর্ভোগের ছবি নজরে আসে তা তৃণমূলের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী নিজে ভিডিও করে সেই ছবি ভাইরাল করেন। তার বক্তব্য, পীরতলা থেকে চাঁইপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। যা পঞ্চায়েতের সীমিত আর্থিক ক্ষমতায় পাকা করা সম্ভবপর নয়। তাই তিনি এই বিষয়ে স্থানীয় জেলাপরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে বিডিও সাহেব, এমনকি জেলাশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু এখনও কেউ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সকলেই দেখছি, দেখবো করছেন। তাই তিনি বাধ্য হয়ে বেহাল রাস্তার চরম দুর্ভোগের ছবি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *