
শিলিগুড়ি, উত্তরবঙ্গের দ্বার বলা হয় একে। দার্জিলিং, কালিম্পং, সিকিমের পথে যারা যান, তারা এই শহর দিয়েই যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু দুর্গাপুজোর সময় শিলিগুড়ি হয়ে ওঠে একদম অন্যরকম – প্রাণচঞ্চল, আলো ঝলমলে, আর উৎসবমুখর।
️ সেবক রোড – শহরের পুজোর হৃদস্পন্দন
শিলিগুড়ির দুর্গাপুজোর মূল আকর্ষণ সেবক রোড। এখানে প্যান্ডেল হপিংয়ের সময় রাস্তাগুলো রঙিন আলো আর মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকে। প্রতিটি প্যান্ডেল একেকটা শিল্পকর্ম – কখনও ঐতিহ্যবাহী, কখনও একদম আধুনিক থিম। সেবক রোডের পুজোগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমায়।
হিলকার্ট রোড – থিম পুজোর নতুন ঠিকানা
হিলকার্ট রোডে দুর্গাপুজো মানেই চোখধাঁধানো থিম আর আলো ঝলমলে পরিবেশ। কখনও পুরাণকাহিনির দৃশ্য, কখনও আবার সামাজিক বার্তা – এইসব থিম প্যান্ডেলে ধরা পড়ে সৃষ্টিশীলতা। এখানে ভ্রমণকারীদের ভিড় একটু বেশি হলেও সেই উচ্ছ্বাসই পুজোর আনন্দকে বাড়িয়ে তোলে।
উত্তরবঙ্গের বিশেষ আবহ
শিলিগুড়ির পুজোর আলাদা বৈশিষ্ট্য হল উত্তরবঙ্গের মিলনস্রোত। এখানে পাহাড়ি সংস্কৃতির প্রভাব মিশে থাকে সমতলের রঙে। ঢাকের বাদ্যি বাজে, লেপচা-নেপালি খাবারের স্টল বসে, আর শহর জুড়ে উৎসবের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
♀️ প্যান্ডেল হপিংয়ের অভিজ্ঞতা
শিলিগুড়িতে প্যান্ডেল হপিং একদম স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়। শহর ছোট হওয়ায় বেশিরভাগ বড় প্যান্ডেলই কাছাকাছি থাকে। বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে বেরিয়ে রাস্তায় রাস্তায় প্যান্ডেল দেখা, ফুচকা-চাট খাওয়া – এগুলো শিলিগুড়ির পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পুজোর খাওয়া-দাওয়া
শিলিগুড়ির পুজো মানেই বিশেষ খাবারের আয়োজন। সেবক রোডে সাজানো ফুড স্টল থেকে শুরু করে স্থানীয় রেস্টুরেন্টে বিশেষ মেনু – কাটলেট, মোমো, চাউমিন, কোল্ড ড্রিঙ্কস – সবই পুজোর স্বাদকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
❤️ উপসংহার
শিলিগুড়ির দুর্গাপুজো হল ছোট শহরের প্রাণখোলা আনন্দ আর উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতির মেলবন্ধন। সেবক রোডের রঙিন প্যান্ডেল, হিলকার্ট রোডের থিম, আর মানুষজনের উচ্ছ্বাস – সবকিছু মিলে এই শহরের পুজোকে করে তোলে বিশেষ। যারা শান্ত অথচ প্রাণবন্ত পুজো উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শিলিগুড়ি এক আদর্শ গন্তব্য।












Leave a Reply