শিল্পাঞ্চলের পুজো – দুর্গাপুর ও আসানসোলে থিম পুজোর উৎসব।

দুর্গাপুর ও আসানসোল – পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শিল্পাঞ্চল। কারখানা, ইস্পাত শিল্প আর ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও দুর্গাপুজোর সময় এই শহরগুলো একেবারে বদলে যায়। এখানে পুজো মানেই শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং শিল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলা।


দুর্গাপুরের পুজো – আধুনিকতার ছোঁয়া

দুর্গাপুর শহরে দুর্গাপুজো মানেই ঝলমলে থিম, আলো এবং জমজমাট ভিড়।

  • সিটি সেন্টার: দুর্গাপুরের হৃদয়। এখানে থিম প্যান্ডেল দেখা মানেই এক দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ক্লাব নতুন নতুন চিন্তা নিয়ে আসে – কখনও সামাজিক বার্তা, কখনও পুরাণের কাহিনি, আবার কখনও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রদর্শনী।
  • বিধাননগর ও বেনাচিতি: এই দুই এলাকায় বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী পুজো হয়। ঢাক, ধুনুচি নাচ আর প্রাচীন রীতি মানেই দুর্গাপুরের পুজোতে অন্য স্বাদ।

আসানসোল – শিল্পাঞ্চলের ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেল

আসানসোল, যা একসময় কয়লা খনির শহর হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন দুর্গাপুজোর জন্যও সমান বিখ্যাত।

  • হিরাপুর ও বারাবনি: এই এলাকাগুলোতে থিম পুজোর দারুণ আয়োজন হয়। কখনও রাজস্থানি হাভেলি, কখনও দক্ষিণ ভারতীয় মন্দির – প্যান্ডেলগুলো দর্শককে নিয়ে যায় এক ভিন্ন জগতে।
  • কুমারডুবি ও কুলটি: এখানে ঐতিহ্যবাহী পুজোর আবহ এখনও বজায় আছে। মন্ত্রোচ্চারণ, ঢাকের বাদ্যি আর সন্ধিপুজোর সময়ের দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়।

থিম পুজোর বিশেষত্ব

দুর্গাপুর ও আসানসোলের প্যান্ডেলগুলোতে থাকে অভিনবত্ব। এখানে অনেক সময় স্থানীয় শিল্পী ও কারখানার কর্মীরা মিলে প্যান্ডেল তৈরি করেন। শিল্পাঞ্চলের ধাতু, কয়লা, কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি প্যান্ডেলগুলোও এক অন্যরকম শিল্পের স্বাদ দেয়।


উৎসবের আবহ

দুর্গাপুর ও আসানসোলের পুজো মানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নাচ, নাটক, ধুনুচি প্রতিযোগিতা, সিঁদুর খেলা – সব মিলিয়ে শহরের মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। পুজোর সময়ে বন্ধুরা দল বেঁধে বের হয়, প্যান্ডেল হপিং করে, আর মিষ্টি-ফুচকার দোকানে ভিড় জমায়।


খাওয়া-দাওয়া ও কেনাকাটা

শিল্পাঞ্চলের পুজো মানেই বিশেষ খাবারের আয়োজন। কচুরি-তরকারি, মটন কষা, কাটলেট, কোল্ড ড্রিঙ্কস – সবকিছুই থাকে পুজোর মেনুতে। দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে এবং আসানসোলের হিরাপুরে পুজোর বাজার বসে – জামা-কাপড় থেকে হস্তশিল্প সবই পাওয়া যায়।


❤️ উপসংহার

দুর্গাপুর ও আসানসোলের দুর্গাপুজো এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়। এখানে শিল্পাঞ্চলের ব্যস্ততা ভুলে মানুষ পাঁচ দিন ধরে শুধুই আনন্দে মেতে ওঠেন। ঝলমলে প্যান্ডেল, অভিনব থিম, ঐতিহ্যের ছোঁয়া আর মানুষের প্রাণখোলা হাসি – সবকিছু মিলিয়ে এই শহরগুলোর পুজো একবার অন্তত উপভোগ করার মতো।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *