
জম্মু ও কাশ্মীরের হেমিস মঠ (Hemis Monastery) নিয়ে একটি সুন্দর ভ্রমণ —
লাদাখের পর্বতমালার মাঝে লুকিয়ে থাকা এক অনন্য রত্ন হলো হেমিস মঠ। এটি লাদাখের সবচেয়ে বড় এবং সমৃদ্ধ তিব্বতি বৌদ্ধ মঠ, যা দ্রুকপা সম্প্রদায়ের কেন্দ্র। লেহ শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই মঠ শুধু আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্র নয়, বরং ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত। এখানে এসে পর্যটকরা যেমন শান্তির ছোঁয়া পান, তেমনি মুগ্ধ হন চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে।
হেমিসে পৌঁছানোর পথ
হেমিসে পৌঁছাতে হলে আপনাকে লেহ শহর থেকে যাত্রা শুরু করতে হবে।
- দূরত্ব: প্রায় ৪৫ কিমি, গাড়িতে যেতে লাগে প্রায় ১-১.৫ ঘণ্টা।
- যাত্রাপথে আপনি দেখতে পাবেন সিন্ধু নদী, বালুময় পর্বত আর সবুজ উপত্যকার মনোরম দৃশ্য।
️ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
হেমিস মঠ চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা। মঠের উঠোন থেকে দূরের পর্বতশৃঙ্গ আর নদীর দৃশ্য এক অপূর্ব অনুভূতি দেয়। এই শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ ধ্যান, আধ্যাত্মিকতা এবং আত্মচিন্তনের জন্য একদম উপযুক্ত।
মঠের স্থাপত্য
হেমিস মঠের স্থাপত্য তিব্বতি শৈলীর এক নিদর্শন।
- মঠের ভেতরে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন থাঙ্কা পেইন্টিং, সোনালি মূর্তি, রূপার স্তূপা এবং ধর্মগ্রন্থ।
- মঠের প্রধান আকর্ষণ হলো মৈত্রেয় বুদ্ধের বিশাল মূর্তি, যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
- এখানে একটি ছোট্ট জাদুঘর রয়েছে যেখানে বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কিত পুরাকীর্তি, মুখোশ, অস্ত্রশস্ত্র এবং ধর্মীয় অলঙ্কার প্রদর্শিত হয়।
হেমিস উৎসব
হেমিস মঠ সবচেয়ে বেশি খ্যাত হেমিস উৎসবের জন্য, যা প্রতিবছর জুন বা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
- এই উৎসবে মঠের সন্ন্যাসীরা মুখোশ পরে চাম নৃত্য পরিবেশন করেন।
- ঢাক, ঢোল ও তিব্বতি বাঁশির শব্দে মঠের আঙিনা মুখরিত হয়ে ওঠে।
- দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক এই উৎসব দেখতে আসেন।
️ অভিজ্ঞতা ও কার্যকলাপ
- ধ্যান ও প্রার্থনা: মঠের প্রধান প্রার্থনাগৃহে বসে প্রার্থনার শব্দ শোনা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
- ফটোগ্রাফি: এখানে থাঙ্কা, মূর্তি, পাহাড়ের দৃশ্য ও উৎসবের ছবি তোলা ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
- ট্রেকিং: হেমিস ন্যাশনাল পার্কের কাছাকাছি ছোট ট্রেকিং রুট রয়েছে, যেখানে তুষার চিতাবাঘ সহ বিভিন্ন প্রাণী দেখা যায়।
️ স্থানীয় স্মারক
হেমিসের কাছাকাছি ছোট বাজার থেকে তিব্বতি প্রার্থনা চাকা, থাঙ্কা পেইন্টিং, রূপার অলংকার ও হস্তশিল্প কিনতে পারেন।
ভ্রমণের সেরা সময়
- মে থেকে সেপ্টেম্বর হেমিস ভ্রমণের জন্য আদর্শ সময়, কারণ আবহাওয়া তখন আরামদায়ক থাকে।
- যদি আপনি উৎসব দেখতে চান, তবে জুন-জুলাই মাসে যাওয়াই সেরা।
উপসংহার
হেমিস মঠ কেবল একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি লাদাখের আধ্যাত্মিক হৃদয়। এখানে এসে আপনি যেমন ইতিহাস ও স্থাপত্য উপভোগ করবেন, তেমনি মনকে পাবেন শান্তির স্পর্শ। লাদাখ ভ্রমণে হেমিস মঠকে অন্তর্ভুক্ত করা মানেই আপনার যাত্রা হবে আরও সমৃদ্ধ ও স্মরণীয়।












Leave a Reply