
উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৩২৯ মিটার (১৪,২০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত হেমকুন্ড সাহিব শিখ ধর্মাবলম্বীদের জন্য অন্যতম পবিত্র স্থান। বরফে মোড়া সাতটি পাহাড়ের মাঝে ঘেরা এই গুরদোয়ারা ও শান্ত হ্রদ প্রকৃতিপ্রেমী ও তীর্থযাত্রী উভয়ের কাছেই স্বর্গীয় অনুভূতি দেয়। হেমকুন্ড শব্দের অর্থ – “হিমের পাত্র” বা “Snow Bowl”, যা একেবারে নামের সাথে মানানসই।
ইতিহাস ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য
হেমকুন্ড সাহিব গুরদোয়ারা দশম শিখ গুরু গুরু গোবিন্দ সিংজির স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত। শিখ ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ আছে, গুরু গোবিন্দ সিংজি তাঁর পূর্বজন্মে এখানে ধ্যান করেছিলেন। তাই এটি শিখদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র। প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে এখানে আসেন।
কীভাবে পৌঁছাবেন
হেমকুন্ড সাহিবের যাত্রা শুরু হয় গোবিন্দঘাট থেকে।
- প্রথম ধাপ: গোবিন্দঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিমি দূরে ঘাংঘরিয়া পর্যন্ত খচ্চর বা ট্রেক করে পৌঁছাতে হয়।
- দ্বিতীয় ধাপ: সেখান থেকে প্রায় ৬ কিমি উঁচু ট্রেক করে হেমকুন্ড সাহিবে পৌঁছানো যায়।
পুরো যাত্রা এক অনন্য অভিজ্ঞতা—বরফঢাকা পাহাড়, জলপ্রপাত এবং বন্যফুলে ঘেরা পথ মনকে মোহিত করে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
হেমকুন্ড সাহিবের প্রধান আকর্ষণ হল হেমকুন্ড হ্রদ। স্বচ্ছ জলে চারপাশের তুষারশৃঙ্গের প্রতিবিম্ব এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। গ্রীষ্মকালে হ্রদের চারপাশে বিভিন্ন রঙের ফুল যেমন ব্রহ্মকমল ফুটে ওঠে, যা কেবল হিমালয়ের উচ্চভূমিতেই জন্মায়।
️ আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
- ঘাংঘরিয়া: ছোট্ট গ্রাম, যেখানে রাতে থাকার জন্য গেস্টহাউস ও লঙ্গর সুবিধা রয়েছে।
- ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ন্যাশনাল পার্ক: ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান, যেখানে গ্রীষ্মে হাজারো প্রজাতির ফুলে পাহাড় ঢেকে যায়।
- লক্ষ্মণ মন্দির: হেমকুন্ড হ্রদের কাছেই অবস্থিত একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির, যা ভক্তদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
করণীয় কাজ
- হেমকুন্ড হ্রদের পবিত্র জলে স্নান (যারা সাহস করেন, কারণ জল খুব ঠান্ডা)।
- গুরদোয়ারায় আরদাস ও কীর্তন শোনা।
- আশেপাশের পাহাড়ে ট্রেকিং ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ।
- ব্রহ্মকমল এবং অন্যান্য অ্যালপাইন ফুলের ছবি তোলা।
থাকা ও খাবার
ঘাংঘরিয়ায় একাধিক লজ ও হোটেল রয়েছে। গুরদোয়ারার লঙ্গর (কমিউনিটি কিচেন)-এ বিনামূল্যে গরম খাবার ও চা দেওয়া হয়।
ভ্রমণের সেরা সময়
- জুন – অক্টোবর: এই সময় তুষার গলে যায়, পথ খোলা থাকে এবং আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক থাকে।
- শীতকালে (নভেম্বর – মে) ভারী তুষারপাতের কারণে হেমকুন্ড সাহিব বন্ধ থাকে।
উপসংহার
হেমকুন্ড সাহিব কেবল একটি ধর্মীয় তীর্থ নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক সাধনার স্থান। দীর্ঘ ট্রেক শেষে বরফে মোড়া হ্রদের ধারে দাঁড়িয়ে গুরদোয়ারার শান্ত পরিবেশে বসলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভূত হয়। প্রকৃতিপ্রেমী, ট্রেকার বা তীর্থযাত্রী—যে কেউ এখানে এলে হৃদয়ে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি নিয়ে ফিরবে।












Leave a Reply