একই পরিবারের দুই সদস্য পঙ্গু—দক্ষিণ দিনাজপুরে মৃত্যু-সঙ্কটে টিজ্ঞা পরিবার।

বালুরঘাট, নিজস্বসংবাদদাতাঃ- বাবা- মা দুজনেই আচমকা পংগু হয়ে যাওয়ায় এক স্কুল ছাত্রীর ভবিষৎ যেমন অন্ধকার নেমে আসার এক দুখজনক কাহিনী। তেমনি কোন আর্থিক উপার্জন না থাকায় বাবা – মাকে নিয়ে ধীরে ধীরে অর্দ্ধাহারে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার ও করুন কাহিনী।যা এই সমাজ ব্যবস্থাকে নাড়া দেয়। এদের সুস্থ ভাবে বেচে থাকার একমাত্র উপায় কোন মানবিক সংস্থ্যা বা সরকারের মানবিক সহয়তা।
সংসার চালানোর জন্য স্ত্রী পুর্নিমা টিজ্ঞা দুবছর আগেই পরের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতে যাওয়ার সময় মারাত্মক এক পথ দুর্ঘটনায় পংগু হয়ে বাড়িতে। আর এবার সেই সংংসারের হাল ফেরানোর পাশাপাশি পংগু স্ত্রীর চিকিৎসা চালানোর খরচ সামাল দিতে গতমাসে পুজোর পর হায়দ্রাবাদে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শারিরিক ভাবে পংগু হয়ে বর্তমানে স্বামী হরেন টিজ্ঞা ও বাড়িতে।এদিকে চলাফেরায় অক্ষম বাবা মাকে নিয়ে পড়েছে অথৈ জলে তাদের একমাত্র এগারো বছরের মেয়ে জয়ন্তী টিজ্ঞা।মাকে দেখ ভালের জন্য দুবছর আগেই ক্লাস নাইনে পড়ার সময় সেইযে স্কুল ছেড়েছে। আর স্কুলমুখি হতে পারে নি সে। হবেই বা কি করে দুর্ঘটনায় পংগু মাকে বাড়িতে কে দেখবে? বাবা তো সংসার চালাতে সকালে উঠেই দিনমজুরের কাজে চলে যেতে বাধ্য হয়। তাই অক্ষম মাকে দেখভালের পাশাপাশি বাবা পরের জমিতে দিনমজুরির কাজ করে চাল ডাল যা নিয়ে আসত তা দিয়ে বাবা মার মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার পাশাপাশি যা বাচত তা দিয়ে নিজের পেটে দিত। তাই যে সময়ে ওর মত অনান্য মেয়েদের হাতে পেন বই থাকার কথা ছিল। সেই সময় ওইটুকু মেয়ে হাত পুড়িয়ে দুবেলা বাবা মায়ের জন্য দুমুঠো যতটুকু পারছিল তাও রাধছিল। কিন্তু এই মাস থেকে এবার তো সেই রান্নার পাঠও বন্ধ। বাড়িতে দুই উপার্জনকারি ই তো পংগু হয়ে বারান্দায় গড়াগড়ি খাচ্ছে।তাদের দুজনকে দেখভাল করতেই সে হীমসিম খাচ্ছে রান্নার চুলো জ্বালানোর সময় কই। আর চুলো জ্বালালেই তো হলো না, চাল ডাল কিনবে কার পয়সায়। ঘরে নেই কিচ্ছু। তাদের এই দুর্দশা দেখে পাড়া প্রতিবেশি দয়াপরবশ যে দিন যতটুকু দিচ্ছে সেটুকু দিয়েই বাবা মাকে বেশির ভাগটা দিয়ে সামান্য কিছু নিজের পেটে দিয়ে বাকিটা জল খেয়ে কোনমতে দিন গুজরান চালাচ্ছে দক্ষিন দিনাজপুর জেলার গংগারামপুর ব্লকের দমদমা পঞ্চায়েতের রতনমালা এলাকার মালোপাড়ার বাসিন্দা টিজ্ঞা পরিবার।সেদিন আর বোধহয় আর বেশি দেরী নেই যেদিন এই প্রতিবেশিদদের দান বন্ধ করে দিলে আধাপেট ও অভুক্ত থাকতে থাকতে এই পরিবার মৃত্যুর মুখে না ঢলে পড়ে।এই অবস্থায় ওই চলাফেরায় পকংগু স্বামী স্ত্রী মানবিক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাদের বাচানোর জন্য করুন আবেদন জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বা কোন সুহৃদয় ব্যাক্তি তাদের সাহায্যের ব্যাপারে এগিয়ে এলে তাদের মৃত্যু ছাড়া আর কো৷ন পথ খোলা নেই বলে আবেদন জানিয়েছেন।

যদিও দেরীতে হলেও গতকাল খবর পেয়ে নাকি দমদমা পঞ্চায়েতের প্রধান তার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ওই পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের আর্থিক ও দুবস্তা চাল সাহায্য হিসেবে দিয়ে আসেন। পাশাপাশি স্বামীর চিকিস্যা স্থানিও হাসপাতালে ভর্তি করে দিতে চেয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হলো হাসপাতালে তাকে কে দেখাশোনা করবে, সে জন্য তাদের যদি কোন আত্মীয় এগিয়ে আসে সে ব্যাপারে তাদের সে কথা বলে আসেন। তিনি জানান যে হেতু তার বাবা দেখভাল তার ওই ছোট্ট মেয়ে করতে পারবে না হাসপাতালে সে জন্য তাদের কোন পুরুষ আত্মীয় এগিয়ে এলেই এই সমস্যা মিটবে। তবুও তাদের পঞ্চায়েতের তরফে ওই পরিবারের পাশে থাকার ব্যাপারে সাহায্য ও সহায়তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। পঞ্চায়েত প্রধান লিপিকা সরকার জানান,আমরা ওই পরিবারের পাশে থাকব বলে প্রধান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *