
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দীর্ঘদিনের অবহেলা, অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি আর একের পর এক প্রাণহানির অভিযোগ জমে ক্ষোভ এখন জাখিরপুর পঞ্চায়েতের তিন গ্রামে—মুন্সীপুর, দেবীপুর ও ডাঙ্গাপাড়ায়। ইছামতী নদীর উপর স্থায়ী সেতুর দাবিতে এবার সরাসরি ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই তিন গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগ, কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডলের বাড়ি থেকে সেতুর দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার হলেও বছরের পর বছর সমস্যার সমাধান হয়নি।
ইছামতী নদী পারাপারের জন্য এখন ভরসা শুধু বাঁশের অস্থায়ী সাঁকো কিংবা বড় অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি ভাসিয়ে পার হওয়া—যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষায় নদী ফুলে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এই পথ হয়ে ওঠে আরও মারাত্মক। গত কয়েক বছরে নদী পার হতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে চারজনের—সরকার মুর্মু, পঞ্চম মুর্মু, নাগরা মুর্মু এবং সুন্দরী মুর্মুর। ফলে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
বর্ষার কয়েক মাস পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে ছাত্রছাত্রীরা স্কুল–কলেজে যেতে পারে না, সামাজিক অনুষ্ঠানও বন্ধ থাকে। কেউ অসুস্থ হলে গ্রামের মানুষকে ছয় কিলোমিটার ঘুরে বর্ডারের রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। সেখানে আবার বিএসএফের আপত্তির কারণে বহুবার বিপত্তি তৈরি হয়। জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার আগেই রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার নজিরও আছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রায় আট বছর আগে কয়েকশো মানুষের সই-সহ একটি মাস পিটিশন বিডিও অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল। এরপর বেশ কয়েকবার সরকারি কর্তারা এসে মাপজোক করলেও কাজের হাল ফেরেনি। নার্গিস বিবি, রাজকুমার সরেন, গৌতম টুডুরা বলেন, ‘বিধায়ককে কতবার বলেছি। কিন্তু কোনও ফল নেই। এবারের বিধানসভা ভোটে আমরা ভোট দেব না।’
চাষাবাদে বড় বিপদে পড়েছেন মেনাপুর বাজারমুখী কৃষকেরা। রুহুল আমিন শাহ ফকিরের কথায়, ‘নদীর ঐপারে আমাদের জমি। রোজ যেতে খুব কষ্ট হয়। ফসল কাটার পর পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বাড়ি আনতে হয়। এভাবে আর কতদিন?’
কলেজ ছাত্রী স্বপ্না মুর্মুর অভিযোগ, ‘জ্যেষ্ঠ থেকে ভাদ্র—কয়েক মাস স্কুল কলেজে যাওয়া অসম্ভব। বড় ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেলে থাকতে হয়। অসুস্থ হলে বাড়িতেই আটকে থাকি। বর্ডার রাস্তায় বিএসএফও সমস্যায় ফেলে।’
নদী পার হতে গিয়ে স্বামী ও দেওর হারানো মেরিনা মুর্মুর বুকভাঙা প্রশ্ন—’আর কতজন মরলে ব্রিজ হবে?’
অভিযোগের জবাবে কুমারগঞ্জের পঞ্চায়েত পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ জানান, যে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর ও পিডব্লিউডিকে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সমাধান খুব শিগগিরই হবে।
তবে সেই ‘খুব শিগগির’ কবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই বড়। বহু বছরের যন্ত্রণা, যাতায়াতের দুর্ভোগ ও প্রাণহানির পর গ্রামবাসীদের অবস্থান স্পষ্ট—আগে সেতু, তারপর ভোট।












Leave a Reply