
দক্ষিণদিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :-বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠছিল স্বামী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয় স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ। এই সব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত বলে অভিযোগ। গৃহবধূর অভিযোগ, তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করার পাশাপাশি স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা চাপ দিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করে নেয়। এমনকি মারধর করে তার সোনার অলংকারও কেড়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগকারিনী গৃহবধূ (32)জানান সারে তেরো বছর পূর্বে তার বিয়ে হয়েছিল কুমারগঞ্জ থানার দিওর পঞ্চায়েতের জোড়লই গ্রামের আফজাল হোসেন মন্ডলের সাথে l তাদের 12 বছর ও 5 বছরের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে l স্বামীর বিবাহবহির্ভুত সম্পর্কের জেরে তাদের দাম্পত্যজীবনে মূলত অশান্তির সূত্রপাত l মাঝে মধ্যেই এনিয়ে তাদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকতো l
এই সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য রবিবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের দিওর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোড়লইতে স্বামীর বাড়িতে একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় গৃহবধূর বাবা-মাকেও ডেকে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগ, দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনও মীমাংসা হয়নি। রাত হয়ে যাওয়ায় গৃহবধূর মা তসলিমা বিবি(55) সেদিন জামাইয়ের বাড়িতেই থেকে যান।
অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। জামাই আফজাল হোসেন মণ্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে গৃহবধূর মাকে মারধর করে এবং পরে গলায় ও বুকে ছুরি চালিয়ে খুনের চেষ্টা করে। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তসলিমা বিবি। এরপর চিৎকার চেঁচামেচি ও আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশী রিয়াজুল মন্ডল ও পিয়ার আলী আহমেদ ছুটে এসে গুরুতর আহত তসলিমা বিবিকে
প্রথমে গঙ্গারামপুর মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর সোমবার রাতে অভিযুক্ত জামাই আফজাল হোসেন মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত গৃহবধূর মা তসলিমা বিবির স্বামী সোহরাব মন্ডল । পাশাপাশি, গৃহবধূ নিজেও কুমারগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ।
অভিযুক্তদের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায় নি।












Leave a Reply