
নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নদীয়ার হাঁসখালিতে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের বহুল চর্চিত ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করল আদালত। মঙ্গলবার রানাঘাট মহকুমা আদালতে এই সাজা ঘোষণা করা হয়।
২০২২ সালের ৪ এপ্রিল হাঁসখালি থানার অন্তর্গত একটি গ্রামে জন্মদিনের পার্টির নামে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে বাড়িতে ডেকে এনে মদ্যপান করিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, ঘটনার জেরে প্রবল রক্তক্ষরণ শুরু হলে কিশোরীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর কোনও চিকিৎসকের শংসাপত্র ছাড়াই তড়িঘড়ি গ্রামের একটি শ্মশানে দেহ দাহ করা হয়।
ঘটনার চার দিন পর নাবালিকার মা হাঁসখালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রথমে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ১৪ এপ্রিল মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই ৮৫ দিনের মধ্যে ২০৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে প্রায় তিন বছর আট মাস নয় দিন পর, গত ২২ ডিসেম্বর মামলায় মোট ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্রজ গয়ালী, রঞ্জিত মল্লিক ও প্রভাকর পোদ্দার—এই তিন অভিযুক্তকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও অন্যান্য ধারায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পক্সো আইনের অধীনে কয়েকজনকে ২০ বছরের কারাদণ্ড, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় ৭ বছর এবং ২০০১ ধারায় ৩ বছরের সাজা ঘোষণা করা হয়। একজন অভিযুক্ত নাবালক হওয়ায় তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে এক বছরের জন্য খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই মামলায় সিবিআই সঠিক তদন্ত করেনি। তাঁর বক্তব্য, “রাজ্য পুলিশ ২৮ জন সাক্ষীর ভিত্তিতে তদন্ত শেষ করেছিল। আজকের রায়ে আসামিপক্ষ সঠিক বিচার পায়নি।” তিনি উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে, নিহত নাবালিকার পরিবারের দাবি, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ ছিলেন। আদালতের এই রায়ে তাঁরা কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে জানান পরিবার-পরিজনরা।












Leave a Reply