
বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দলেরই ১৫ জন কাউন্সিলরের আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শুক্রবার নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিনভর এই ঘটনাকে ঘিরে পুরসভা চত্বর ও শহরজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।
অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহী কাউন্সিলররা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃণমূলের জেলা কমিটির দুই প্রতিনিধির নেতৃত্বে একটি মিছিল শহর পরিক্রমা করে পুরসভায় প্রবেশ করে এবং কাউন্সিলর রুম দখল করে নেয়। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নীতা নন্দী। বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের মারমুখী মনোভাব লক্ষ্য করে চেয়ারম্যান অনুগামী কয়েকজন কাউন্সিলর পরিস্থিতি এড়াতে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
এরপর ১৫ জন বিদ্রোহী কাউন্সিলর কাউন্সিলর রুম বন্ধ করে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের মধ্যে বৈঠক চালান। যদিও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের কেউই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি।
অন্যদিকে, সন্ধ্যায় বালুরঘাটে একটি পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে জেলার একমাত্র মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র জানান, বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যানকে সরানোর লক্ষ্যে আনা অনাস্থা প্রস্তাব সম্পর্কে তাঁর বিশেষ কিছু জানা নেই। তবে তিনি মন্তব্য করেন, “আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কিছু মানুষের এমন কর্মকাণ্ড দলের জন্য ক্ষতিকর। এই সময়ে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়।”
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব দ্বারা গঠিত জেলা কমিটির প্রতিনিধি হিসেবে শহর তৃণমূল সভাপতি সুভাষ চাকি এবং প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার পুরসভায় উপস্থিত ছিলেন। পরে সুভাষ চাকি জানান, “দলের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। বিষয়টি নিয়ে যা বলার, রাজ্য নেতৃত্বই বলবে।”
উল্লেখ্য, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৪ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষরিত অনাস্থা পত্র শুক্রবার মহকুমা শাসকের কাছে জমা পড়ার খবর পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বালুরঘাট ছেড়ে কলকাতায় রওনা হন। ফলে মহকুমা শাসকের পাঠানো অনাস্থা সংক্রান্ত নথি নিয়ে পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে আলোচনা এখনও সম্ভব হয়নি।
চেয়ারম্যান শহরে না থাকায় তলবি সভা ডাকার প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি। তবে পুরসভার প্রশাসনিক কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে চেয়ারম্যানের অনুগামী এবং জেলার মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাউন্সিলর নীতা নন্দীকে মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বালুরঘাট পুরসভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে এবং গোটা শহর জুড়ে চাপা উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে।












Leave a Reply