
দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের ক্ষমতা দখলের নির্বাচনকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বালুরঘাটে। শাসক দলের অধীনস্থ সরকারি কর্মচারী সংগঠন রাজ্য ফেডারেশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে বুথ দখল করে অবাধে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
যদিও শাসক দলের সরকারি কর্মচারী সংগঠন রাজ্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার বালুরঘাট শহরের অভিযাত্রী স্কুলে ২০১৫ সালের পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি লিমিটেডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে জেলার সরকারি কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের বামপন্থী সংগঠন রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে ৯ জন প্রার্থী দাঁড় করানো হয়। বিপরীতে শাসক দলের অধীন রাজ্য ফেডারেশন কমিটির তরফ থেকেও ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এই নির্বাচনে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে এজেন্ট হিসেবে উপস্থিত থাকা প্রদীপ সাহা অভিযোগ করে বলেন,
“মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ১৫০ জন। বেলা সাড়ে বারোটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছিল। এরপর হঠাৎই কিছু বহিরাগত যুবক ভোটকেন্দ্রের ঘরে ঢুকে পড়ে। তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে এক পাশে দাঁড় করিয়ে রাখে এবং আমার চোখের সামনেই ব্যালট বাক্সে অবাধে ছাপ্পা ভোট দিতে শুরু করে। বাকি ব্যালটগুলি ছিঁড়ে ফেলে বিনা বাধায় বেরিয়ে যায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পুলিশ কোনো রকম হস্তক্ষেপ করেনি এবং সম্পূর্ণ দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
অন্যদিকে, রাজ্য ফেডারেশনের পক্ষে জেলা সভাপতি সঞ্জীব দত্ত এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন,
“নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা নেই।”
তিনি আরও জানান,
“২০১৫ সালের পর এই সংস্থায় আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ২০১৭ সাল থেকে কোনো অডিটও হয়নি। ফলে সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আমাদের সংগঠনের তরফ থেকেই উপর মহলে নির্বাচন করার বিষয়টি জানানো হয়। সেই কারণেই কর্মীদের মধ্যে ভোট নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।”
বছরের শেষ লগ্নে এই নির্বাচনকে ঘিরে ওঠা পাল্টা অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।












Leave a Reply