প্রাচীন বটগাছে হাজারো বাদুর, নিপা আতঙ্কে বালুরঘাটের হোসেনপুর।

দক্ষিন দিনাজপুর-বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বিশালাকৃতি প্রাচীন বট গাছে হাজারো বাদুরের আস্তানা। নিপা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক বালুরঘাটে। মারণ ভাইরাস বহনকারী ওই প্রানী নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য ও প্রানী দপ্তরের অগ্রনী ভূমিকার দাবী স্থানীয় ও পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষের।
বালুরঘাট শহর লাগোয়া হোসেনপুর এলাকাটি রয়েছে ডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। সেখানে থাকা প্রাচীন ডাকরা চন্ডির মন্দিরের সঙ্গে রয়েছে বিশালাকৃতি প্রাচীন বট গাছ। ওই গাছেই ডেরা বেঁধে থাকে হাজার হাজার বাদুর। দিনের বেলা গাছে বাদুর ঝোলা ও তাদের কোলাহল এতদিন বড় আকর্ষণের বিষয় ছিল সকলের কাছে। জাগ্রত কালি মন্দিরের সঙ্গে ওই বট গাছ এবং সেখানে বাদুরের আস্থানা প্রাচীন ঐতিহ্য বটে। সেকারণে সেখানকার বাদুর মারতে বা ধরতে দেননা স্থানীয়রা। কিন্ত রাজ্যে দুজন নিপা ভাইরাস আক্রান্তের খবরে বালুরঘাটের বাদুরের সেই আস্তানাটিই এখন আতঙ্কের। তবে প্রানীগুলিকে রক্ষা করে বিকল্প পরিকল্পনার দাবী এলাকার মানুষের। এই ব্যাপারে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর কিংবা প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে আবেদন সকলের।
স্থানীয় বাসিন্দা, জয়ন্ত চৌধুরী (মিন্টু) জানান, দীর্ঘ বছর ধরে ওই বট গাছে বাদুরের আস্তানা রয়েছে। হোসেনপুরের ওই এলাকাটি বিখ্যাত হওয়ার এটি আরেকটি কারণ। পুরানো অনেক গল্প জড়িয়ে আছে এই বটগাছ ও বাদুর নিয়ে। কিন্ত নিপা ভাইরাস বহনকারী প্রধান জীব হিসেবে বাদুর নিয়ে যেভাবে প্রচার চলছে তাতে যথেষ্ট আতঙ্কিত তারা। পরিবার পরিজন ও এলাকার মানুষের জীবন রক্ষায় প্রশাসন এগিয়ে আসুক বলেই দাবী তাদের। তবে আস্তানা বেধে থাকা হাজার হাজার এই প্রানী হত্যা বা ঐতিহ্যবাহী বট গাছটি নিধনের পক্ষে নয় তারা। তাদের দাবী, প্রানীগুলিকে লোকালয় থেকে দূরে সরিয়ে বা বিকল্প পরিকল্পনা করে আতঙ্ক ঘোচানোর ব্যবস্থা করা হোক।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ দাস বলেন, এই ভাইরাস নিয়ে এখনও কোনো নির্দেশ আসেনি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে। তবে সতর্করা অবলম্বর জরুরি। কারও শ্বাসকষ্ট, জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, বমি, গলা ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে দিতে বলা হচ্ছে। এছাড়া গাছে বা উন্মুক্ত জায়গায় থাকা কোনো ফল বা খাবার দেখে খাওয়ার জরুরি। পাখি বা কোনো প্রানীর খাওয়া অর্ধেক ফল না খেতে বলা হচ্ছে সকলকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *