
নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :- নদীয়া জেলার শ্রী শ্রী গৌর নিতাই মন্দির, শ্রীধাম মায়াপুর-এ শ্রী চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে রচিত ‘জননায়ক শ্রী চৈতন্য’ বইটির শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হলো। অনুষ্ঠানে ভক্ত ও অনুরাগীদের উপস্থিতিতে এক আধ্যাত্মিক ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
লেখকের বক্তব্যে উঠে আসে, শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু কেবলমাত্র একজন সন্ন্যাসী বা ধর্মপ্রচারক ছিলেন না; তিনি ছিলেন মধ্যযুগের বাংলার সমাজ-বিক্ষুব্ধ ও পরাধীন সময়ের এক অনন্য জননায়ক। প্রেম ও বিপ্লব—এই দুইয়ের মহামিলন ঘটেছিল তাঁর জীবন ও আদর্শে।
যে সময় বাংলার সমাজ জাতপাত ও কুসংস্কারের অন্ধকারে আচ্ছন্ন ছিল, সেই সময় নবদ্বীপের বুকে তাঁর আবির্ভাব নতুন আলোর দিশা দেখায়। লেখকের মতে, আজ আমরা তাঁকে ‘গৌরাঙ্গ’ বা প্রেমের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করি বটে, কিন্তু তাঁর প্রতিবাদী ও ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার সত্তাটিও সমানভাবে স্মরণীয়।
চৈতন্যদেব প্রেমকে পরম ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেও সেই প্রেমকে দুর্বলতার প্রতীক করেননি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সামাজিক ঐক্যের আহ্বান ছিল তাঁর বাণীর অন্যতম ভিত্তি। কাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া, জাতপাতের বিভাজন ভেঙে ভক্তিকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠা করা—এসবই তাঁর জননায়ক রূপকে উজ্জ্বল করে তোলে।
তিনি ঘোষণা করেছিলেন—“চণ্ডালোঽপি দ্বিজশ্রেষ্ঠঃ হরিভক্তিপরায়ণঃ”, অর্থাৎ ভক্তি থাকলে জন্মগত পরিচয় অর্থহীন। যবন হরিদাসকে ‘নামাচার্য’ পদে আসীন করা কিংবা সনাতন ও রূপ গোস্বামীকে রাজকীয় জীবন ত্যাগে উদ্বুদ্ধ করা তাঁর সাম্যের বাণীরই বহিঃপ্রকাশ।
বইটির মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন, বর্তমান বিভক্ত সমাজে চৈতন্যদেবের আদর্শ—প্রেম, সাম্য ও ন্যায়ের বার্তা—অতীব প্রাসঙ্গিক। অনুষ্ঠানটি ভক্তিমূলক আবহে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।












Leave a Reply