
পরিচিতি— কুমড়ো ফুলের বড়া বাঙালির গ্রাম্য ও ঘরোয়া রান্নার এক অপূর্ব ঐতিহ্য। বর্ষা বা গ্রীষ্মকালে টাটকা কুমড়ো ফুল পাওয়া গেলে অনেক বাড়িতেই এই সহজ অথচ অসাধারণ স্বাদের পদটি তৈরি হয়। বাইরে মচমচে আর ভেতরে নরম কুমড়ো ফুল—এক কাপ গরম চা বা গরম ভাত-ডালের সঙ্গে এই বড়া অনবদ্য লাগে। অল্প উপকরণে, খুব কম সময়ে তৈরি হওয়ায় এটি জলখাবার হিসেবেও সমান জনপ্রিয়।
উপকরণ (৪ জনের জন্য)—–
কুমড়ো ফুল – ১০–১২টি
বেসন – ১ কাপ
চালের গুঁড়ো – ২ টেবিল চামচ
পোস্তদানা – ১ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
কাঁচা লঙ্কা কুচি – ২–৩টি
হলুদ গুঁড়ো – ¼ চা চামচ
লাল লঙ্কা গুঁড়ো – ¼ চা চামচ
কালোজিরে – ¼ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
চিনি – এক চিমটি
জল – প্রয়োজনমতো
সরিষার তেল বা সাদা তেল – ভাজার জন্য
প্রণালী—–
১. কুমড়ো ফুলগুলো খুব আলতো করে ধুয়ে নিন। ভেতরের শক্ত পরাগদণ্ড থাকলে সরিয়ে দিন। এরপর জল ঝরিয়ে শুকনো কাপড়ে মুছে নিন।
২. একটি বড় বাটিতে বেসন, চালের গুঁড়ো, পোস্তদানা, কাঁচা লঙ্কা কুচি, হলুদ, লঙ্কা গুঁড়ো, কালোজিরে, লবণ ও এক চিমটি চিনি মিশিয়ে নিন।
৩. অল্প অল্প জল দিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ব্যাটার এমন হবে যাতে ফুলের গায়ে ভালোভাবে লেগে থাকে।
৪. কড়াইয়ে তেল গরম করুন। আঁচ মাঝারি রাখুন।
৫. প্রতিটি কুমড়ো ফুল ব্যাটারে ডুবিয়ে সাবধানে গরম তেলে ছেড়ে দিন।
৬. একসঙ্গে খুব বেশি বড়া দেবেন না। এতে উল্টেপাল্টে ভাজতে সুবিধা হবে।
৭. দু’পিঠ সোনালি ও মচমচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
৮. ভাজা বড়াগুলো টিস্যু পেপারের ওপর তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন।
পরিবেশন—–
গরম গরম কুমড়ো ফুলের বড়া ভাত-ডাল, খিচুড়ি বা বিকেলের চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন। চাইলে সামান্য চাটমশলা ছড়িয়েও খেতে পারেন।
কিছু টিপস—-
চালের গুঁড়ো দিলে বড়া আরও মচমচে হয়।
ফুল ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিলে ব্যাটার ভালো ধরে।
খুব পাতলা ব্যাটার করবেন না, তাহলে বড়া কড়কড়ে হবে না।
পুষ্টিগুণ—–
কুমড়ো ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বেসন প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। ফলে এই বড়া শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও।
রন্ধন-ঐতিহ্য—-
কুমড়ো ফুলের বড়া গ্রামবাংলার রান্নাঘরের এক আবেগময় স্মৃতি। একসময় বাড়ির উঠোনে কুমড়ো গাছের ফুল তুলেই এই বড়া তৈরি হতো। আজও যারা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি রান্না ভালোবাসেন, তাদের কাছে কুমড়ো ফুলের বড়া এক বিশেষ প্রিয় পদ।












Leave a Reply