
পরিচিতি:- পনির বাটার মসালা উত্তর ভারতীয় রান্নার এক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও রাজকীয় নিরামিষ পদ, যা এখন প্রায় সব বাঙালি বাড়িতেও সমান প্রিয়। মাখন, টমেটো, কাজু ও মশলার মসৃণ গ্রেভিতে নরম পনিরের টুকরো—এই রেসিপির স্বাদ সত্যিই অসাধারণ। নান, বাটার রুটি, পরোটা বা পোলাও—সব কিছুর সঙ্গেই এটি দারুণ মানিয়ে যায়। বিশেষ অতিথি আপ্যায়ন, পারিবারিক ডিনার বা উৎসবের মেনুতে পনির বাটার মসালা একেবারেই মানানসই।
উপকরণ (৪ জনের জন্য)—-
পনির – ৩০০ গ্রাম (চৌকো টুকরো)
টমেটো – ৪টি বড় (কুচি)
পেঁয়াজ – ১টি (কুচি, ঐচ্ছিক)
কাজুবাদাম – ১২–১৫টি
আদা – ১ ইঞ্চি
রসুন – ৫–৬ কোয়া
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ¼ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
কাসুরি মেথি – ১ চা চামচ
মাখন – ২ টেবিল চামচ
তেল – ১ টেবিল চামচ
ফ্রেশ ক্রিম – ৩ টেবিল চামচ
চিনি – ১ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
জল – প্রয়োজনমতো
প্রণালী—-
১. কাজুবাদাম ১৫ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে রাখুন।
২. একটি প্যানে সামান্য তেল দিয়ে টমেটো, পেঁয়াজ, আদা ও রসুন নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ঠান্ডা হলে ভেজানো কাজু দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।
৩. কড়াইয়ে মাখন ও সামান্য তেল গরম করুন। এতে তৈরি করা পেস্ট ঢেলে দিন।
৪. কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, হলুদ, ধনে গুঁড়ো, লবণ ও চিনি দিয়ে মাঝারি আঁচে ৬–৮ মিনিট কষান।
৫. মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে সামান্য জল দিন।
৬. এবার পনিরের টুকরোগুলো দিন। খুব আলতো করে নেড়ে মশলার সঙ্গে মিশিয়ে নিন।
৭. ঢেকে ৩–৪ মিনিট রান্না করুন যাতে পনিরে গ্রেভির স্বাদ ঢুকে যায়।
৮. শেষে ফ্রেশ ক্রিম, কাসুরি মেথি ও গরম মশলা গুঁড়ো মিশিয়ে দিন।
৯. আরও ১–২ মিনিট রান্না করে চুলা বন্ধ করুন।
পরিবেশন—-
গরম নান, বাটার রুটি, তন্দুরি রুটি, পরোটা বা জিরা রাইসের সঙ্গে পনির বাটার মসালা পরিবেশন করুন। উপর থেকে সামান্য ক্রিম ও মাখন দিলে দেখতে ও খেতে আরও আকর্ষণীয় লাগে।
কিছু টিপস—
পনির যদি শক্ত হয়, তাহলে ১০ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে রেখে ব্যবহার করুন।
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো ব্যবহার করলে রং সুন্দর হয় কিন্তু ঝাল কম থাকে।
কাসুরি মেথি হাতে চটকে দিলে সুগন্ধ অনেক বেড়ে যায়।
পুষ্টিগুণ—-
পনিরে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। কাজু ও ক্রিম এই পদে শক্তি ও মসৃণতা যোগ করে, তাই এটি তৃপ্তিদায়ক ও পুষ্টিকর।
রন্ধন-ঐতিহ্য—-
পনির বাটার মসালা রেস্তোরাঁ-স্টাইল উত্তর ভারতীয় রান্নার এক ক্লাসিক উদাহরণ। তবে এর মোলায়েম, মাখন-ঘ্রাণযুক্ত স্বাদ এতটাই জনপ্রিয় যে এটি এখন ভারতজুড়েই প্রায় প্রতিটি ঘরোয়া ও উৎসবের মেনুর অংশ হয়ে উঠেছে।












Leave a Reply