সূর্যপুরে ইন্দ্রজিৎ হত্যা ‘গণপিটুনি নয়, পরিকল্পিত খুন’: পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু।

দক্ষিণ 24 পরগণা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সূর্যপুরে উত্তেজিত জনতার মারে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু নিছক ‘গণপিটুনি’ নয়, বরং তা একটি সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যাকাণ্ড। শনিবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত শক্তির উস্কানির পাশাপাশি এই নৃশংস ঘটনার নেপথ্যে অতিবাম ও উগ্র মৌলবাদী

শনিবার বারুইপুরে ইন্দ্রজিতের জীর্ণ বাসভবনে পৌঁছে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘নাম আর পরিচয় দেখে একটা ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবকের হাত-পা বেঁধে যেভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, তা কোনও সাধারণ গণপিটুনি নয়, ঠান্ডা মাথার খুন। নির্বাচনে যারা হেরেছে, তাদের উস্কানিতেই এই ঘটনা। এর পিছনে উগ্রপন্থী, মৌলবাদী বা অতিবামপন্থীদের বড়সড় ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।’

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার ভিডিও ও ছবি দেখে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করে অপরাধীদের দিঘা ও বকখালি থেকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে মারার এই জঘন্য অপরাধে যুক্ত থাকা খুনিদের সঙ্গে কোনও আপস বা ‘পেয়ার-মহব্বত’ করা হবে না।’ইন্দ্রজিৎকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় স্বীকার করেও তাঁর পরিবারকে সর্বতোভাবে সুরক্ষিত করতে একগুচ্ছ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের তরফে এদিন নিহতের বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি নিহতের দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পোস্টিং হবে স্থানীয় সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়িতেই। দাঙ্গাকারীদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইন্দ্রজিৎদের বাড়িটি ইতিমধ্যেই সরকারি খরচে সম্পূর্ণ মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। নিহতের বৃদ্ধ বাবার জন্য অবিলম্বে বার্ধক্যভাতা এবং মায়ের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের এক নাবালিকা আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরদিন, ৫ জুলাই রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে এবং মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল বুধবার সকালে পুলিশি এনকাউন্টারে খতম হয়েছে। তবে গত রবিবার নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর সূর্যপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং রাস্তা অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। সেই সময় চরম উত্তেজনার আবহে সম্পূর্ণ সন্দেহের বশে এবং ভুল বোঝাবুঝির জেরে অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে নৃশংসভাবে মারধর করে একদল উগ্র মানুষ, যার জেরে তাঁর মৃত্যু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *