ব্যান্ড বাজিয়ে মায়ের শেষযাত্রা, ভালোবাসার অনন্য নজির গড়লেন পাঁচ ছেলে,আবেগে ভাসল পিপলা গ্রাম।

হরিশ্চন্দ্রপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা : – জীবদ্দশায় সন্তানেরা যেমন মাকে আগলে রেখেছিলেন, তেমনই জীবনের শেষ বিদায়টুকুও স্মরণীয় করে তুললেন তাঁরা। চোখের জলে ভিজে থাকা এক আবেগঘন পরিবেশে ব্যান্ড বাজিয়ে ৯৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের শ্মশানযাত্রার আয়োজন করলেন তাঁর পাঁচ ছেলে। শুধু তাই নয়, শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শ্মশানযাত্রীদের জন্যও ছিল খাবারের ব্যবস্থা। এই ব্যতিক্রমী ঘটনা হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পিপলা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পিপলা গ্রামের বাসিন্দা দৈবকি দাস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হন। শুক্রবার সকালে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়। সাধারণ শোকযাত্রার পরিবর্তে ব্যান্ড পার্টির সুরে মায়ের শেষযাত্রা শুরু হয়। গ্রামের রাস্তায় সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকের চোখে জল, আবার অনেকেই বলছিলেন— “এভাবেও যে একজন মাকে শেষ বিদায় জানানো যায়, তা আজ দেখলাম।” পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে দৈবকি দেবীর স্বামীর মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে মাকে নিজের সাধ্যমতো আগলে রেখেছেন। সংসারের নানা দায়িত্বের মাঝেও কেউ তাঁকে অবহেলা করেননি। বৃদ্ধ বয়সেও মায়ের যত্ন, চিকিৎসা ও দেখভালে পরিবারের সকলেই ছিলেন একজোট। ছেলেদের কথায়, “মা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ ছিলেন। ছোটবেলা থেকে অসীম কষ্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। তাঁর ঋণ কোনওদিন শোধ করা সম্ভব নয়। তাই শেষ বিদায়টুকু যেন তাঁর মর্যাদার সঙ্গে হয়, সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন। আমরা চাই সমাজে সবাই বুঝুক— মা-বাবা বেঁচে থাকতে তাঁদের ভালোবাসুন, সম্মান করুন।” শেষযাত্রায় গ্রামের বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। শ্মশানযাত্রীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে যখন অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অবহেলার শিকার হন, তখন দৈবকি দাসের সন্তানদের এই উদ্যোগ সমাজের কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পিপলা গ্রামের এই ঘটনা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল— মায়ের ভালোবাসার ঋণ কখনও শোধ হয় না। তবে শ্রদ্ধা, যত্ন ও ভালোবাসা দিয়েই সেই ঋণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়। আর সেই ভালোবাসারই এক অনন্য নিদর্শন হয়ে রইল দৈবকি দাসের শেষযাত্রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *