তৃণমূলের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই অনাস্থা! খড়গপুর পুরসভায় প্রকাশ্যে গোষ্ঠীকোন্দল,১৫ কাউন্সিলরের বিদ্রোহ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর পুরসভায় ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল। এবার তৃণমূলেরই চেয়ারম্যান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন দলের ১৫ জন কাউন্সিলর। ফলে ৩৫ আসনের খড়গপুর পুরসভায় তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর। খড়গপুর পুরসভায় মোট ৩৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর রয়েছেন ২৪ জন। বিজেপির ৬, কংগ্রেসের ৪ এবং সিপিএমের ১ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বোর্ডের চেয়ারম্যান বর্তমানে কল্যাণী ঘোষ। কিন্তু সেই দলেরই ১৫ জন কাউন্সিলর এবার তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন। এই দিন তৃণমূলের ১৫ জন কাউন্সিলর উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন খড়গপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকারও। একসময় প্রদীপ সরকারকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় কল্যাণী ঘোষকে চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এবার সেই কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধেই অনাস্থার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রদীপ সরকার।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনা খড়গপুরে তৃণমূলের অন্দরের ক্ষমতার সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রদীপ সরকারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রদীপ সরকার। নির্বাচনে তিনি বিজেপির দিলীপ ঘোষের কাছে পরাজিত হন। আর এবার সেই দিলীপ ঘোষকেই সামনে রেখে খড়গপুরের উন্নয়নের কথা বলতে দেখা যাচ্ছে প্রদীপ সরকারকে—যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে গোটা ঘটনায় নিজের অবস্থান নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি খড়গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান কল্যাণী ঘোষ।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দলেরই ১৫ কাউন্সিলরের অনাস্থা ঘিরে এখন প্রশ্ন একটাই—খড়গপুর পুরসভায় কি এবার তৃণমূলের পুরনো সমীকরণ বদলাতে চলেছে? নাকি অনাস্থার পর্ব শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়াবে দলের অন্দরেই নতুন ক্ষমতার বিন্যাসে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *