কীর্তি জৈন: মঞ্চের আলো থেকে নাট্যশিক্ষার নতুন পথ তৈরি করা এক মহীয়সী নারী।

মঞ্চে অভিনেতা যখন সংলাপ বলেন, দর্শকের চোখে তখন সেই অভিনেতাই সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েন। কিন্তু একটি নাটককে সম্পূর্ণ করে তোলার পেছনে থাকে আরও অনেক মানুষের শ্রম—পরিচালক, আলো, সংগীত, পোশাক, মঞ্চসজ্জা, গবেষণা এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলন।

ভারতীয় নাট্যজগতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা শুধু নাটক পরিচালনা করেননি; নাটক কীভাবে শেখানো হবে, কীভাবে নতুন প্রজন্মকে মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং কীভাবে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নাটকের মাধ্যমে দর্শকের সামনে আনা যায়—সেই ভাবনাকেও এগিয়ে নিয়েছেন।

কীর্তি জৈন তাঁদেরই একজন।

নাট্যপরিচালক, শিক্ষক, গবেষক এবং নাট্যচিন্তক হিসেবে তিনি ভারতীয় থিয়েটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। National School of Drama বা NSD-এর পরিচালক হিসেবে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁর কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেই সময় তিনি Theatre in Education বা TIE কর্মসূচি চালু করেন, যার লক্ষ্য ছিল শিশুদের সঙ্গে নাট্যচর্চাকে আরও সুসংগঠিতভাবে যুক্ত করা।

নাট্যপরিবারে শৈশব

কীর্তি জৈনের জন্ম ১৯৪৯ সালে এলাহাবাদে।

তাঁর পরিবারেই ছিল সাহিত্য ও নাট্যচর্চার পরিবেশ। তাঁর বাবা ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যসমালোচক ও লেখক নেমিচন্দ্র জৈন এবং মা রেখা জৈন ছিলেন শিশুদের জন্য নাটক লেখা ও মঞ্চায়নের সঙ্গে যুক্ত।

ফলে নাটক তাঁর কাছে বাইরের কোনও জগৎ ছিল না।

শৈশব থেকেই সাহিত্য, অভিনয় এবং মঞ্চের পরিবেশ তাঁর পরিচিত ছিল।

তবে পারিবারিক পরিবেশ তাঁকে প্রভাবিত করলেও নিজের পথ তিনি নিজেই তৈরি করেন।

ইংরেজি সাহিত্য থেকে নাট্যশিক্ষা

কীর্তি জৈন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শিক্ষা গ্রহণ করেন।

কিন্তু সাহিত্য পড়ার পর তিনি থেমে থাকেননি।

তিনি National School of Drama-তে ভর্তি হন এবং নাট্যপরিচালনায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন।

মঞ্চ পরিচালনার পাশাপাশি তিনি কথক নৃত্যেরও প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

এই বহুমুখী শিক্ষা তাঁর নাট্যচিন্তাকে সমৃদ্ধ করে।

সাহিত্য তাঁকে দিয়েছিল গল্প ও ভাষার গভীরতা।

নাট্যশিক্ষা দিয়েছিল মঞ্চের ব্যবহারিক জ্ঞান।

আর নৃত্যের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল শরীর, ছন্দ ও গতির ভাষা বোঝার সুযোগ।

দূরদর্শনে কর্মজীবনের শুরু

১৯৭২ সালে কীর্তি জৈন দূরদর্শনে প্রযোজক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

টেলিভিশনের কাজ তাঁকে ক্যামেরা, দৃশ্য নির্মাণ এবং বৃহত্তর দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগের একটি আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।

কিন্তু তাঁর মূল আকর্ষণ ছিল থিয়েটার।

১৯৭৭ সালে তিনি National School of Drama-র সঙ্গে যুক্ত হন।

প্রথমে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তী সময়ে ভারতীয় নাট্য ও আধুনিক নাট্যচর্চা নিয়ে পড়াশোনা ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।

একজন শিক্ষিকা হিসেবে তাঁর কাজ ছিল শুধু অভিনয় শেখানো নয়।

নাটকের ইতিহাস, নাট্যসাহিত্য, পরিচালনা এবং মঞ্চচিন্তার বৃহত্তর পরিসর শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা।

National School of Drama-র পরিচালক

১৯৮৮ সালে কীর্তি জৈন National School of Drama-র পরিচালক হন।

তিনি ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্বে ছিলেন। NSD-এর সরকারি তথ্যেও ১৯৮৮–৯৫ সময়কাল তাঁর পরিচালক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

এই সময়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেন।

তাঁর কাছে নাট্যশিক্ষা মানে শুধু পেশাদার অভিনেতা তৈরি করা ছিল না।

নাটক মানুষের শিক্ষা, সামাজিক উপলব্ধি এবং সৃজনশীল বিকাশেরও একটি মাধ্যম হতে পারে—এই ধারণাকে তিনি গুরুত্ব দেন।

শিশুদের জন্য নাট্যশিক্ষা

কীর্তি জৈনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল Theatre in Education বা TIE কর্মসূচি।

এই ভাবনার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশুদের নাটকের সঙ্গে যুক্ত করা।

শিশুদের জন্য নাটক মানেই শুধু মঞ্চে একটি গল্প অভিনয় করা নয়।

নাটকের মাধ্যমে শিশু নিজের শরীরকে ব্যবহার করতে শেখে।

কথা বলতে শেখে।

অন্যের কথা শুনতে শেখে।

দলগতভাবে কাজ করতে শেখে।

নিজের কল্পনাকে প্রকাশ করতে শেখে।

এই কারণে নাট্যশিক্ষাকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিপূরক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

কীর্তি জৈনের উদ্যোগে NSD-তে Theatre in Education-এর একটি সুসংগঠিত পরিসর তৈরি হয়।

আজ স্কুলে থিয়েটার ও পারফর্মিং আর্টসকে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করার যে প্রবণতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।

শুধু মঞ্চ নয়, নাটকের নথিও গুরুত্বপূর্ণ

কীর্তি জৈনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল নাট্য-নথি সংরক্ষণ এবং প্রকাশনা।

মঞ্চনাটক এমন একটি শিল্প, যার একটি বড় অংশ সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে।

একটি নাটক মঞ্চস্থ হলো, দর্শক দেখলেন, অভিনেতারা চলে গেলেন—কিন্তু সেই নাটকের মঞ্চভাবনা, অভিনয়পদ্ধতি, নির্দেশনা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট যদি নথিভুক্ত না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তার অনেকটাই অজানা থেকে যায়।

এই কারণে নাট্য-ডকুমেন্টেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

NSD-তে তাঁর সময়ে Documentation and Publication Programme-এর মতো উদ্যোগ চালু হয়েছিল।

এটি নাট্যচর্চাকে শুধু ‘মঞ্চের ঘটনা’ না রেখে গবেষণার বিষয় হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে।

ভারতীয় নাটকের নিজস্ব ভাষা

কীর্তি জৈনের নাট্যচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভারতীয় বাস্তবতার প্রতি তাঁর আগ্রহ।

ভারতীয় থিয়েটারকে শুধু পশ্চিমা নাট্যরীতির অনুকরণে তৈরি করা যায় না।

ভারতের নিজস্ব লোকনাট্য, আঞ্চলিক ভাষা, পুরাণ, ইতিহাস, সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং লোকসংস্কৃতির বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।

এই উপাদানগুলিকে আধুনিক নাট্যরীতির সঙ্গে যুক্ত করা দরকার।

কীর্তি জৈনের কাজের মধ্যে এই অনুসন্ধান বারবার দেখা যায়।

তিনি ভারতীয় নাটকের বিভিন্ন রূপ ও সামাজিক বাস্তবতাকে আধুনিক মঞ্চভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

‘সুবর্ণলতা’: নারীর নিজের জায়গার সন্ধান

কীর্তি জৈনের উল্লেখযোগ্য নাট্যপরিচালনাগুলির একটি হলো ‘সুবর্ণলতা’।

আশাপূর্ণা দেবীর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই নাটকে একজন নারীর জীবন, পরিবার, সামাজিক নিয়ম এবং নিজের পরিচয় খোঁজার সংগ্রাম উঠে আসে।

নাটকটির কেন্দ্রে রয়েছে এমন একটি নারী, যিনি নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজের মতো করে নিতে চান।

কীর্তি জৈনের পরিচালনায় এই গল্প মঞ্চে নতুন মাত্রা পায়।

পরবর্তীকালে তিনি এই নাটক পুনরায় মঞ্চস্থও করেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বহু বছর পরেও নারীর ওপর বিভিন্ন ধরনের সামাজিক চাপের প্রশ্নগুলি তাঁর কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে।

‘Aur Kitne Tukde’: ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

কীর্তি জৈনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ ‘Aur Kitne Tukde’।

উর্বশী বুটালিয়ার Partition-সংক্রান্ত গবেষণা ও বই The Other Side of Silence-এর ভিত্তিতে নির্মিত এই নাটক দেশভাগের সময় নারীদের অভিজ্ঞতা ও সহিংসতার বিষয় সামনে আনে।

দেশভাগকে সাধারণত রাজনৈতিক ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়।

কিন্তু কীর্তি জৈনের নাট্যভাষা সেই ইতিহাসের ব্যক্তিগত ও নারীকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতার দিকে দর্শকের দৃষ্টি নিয়ে যায়।

এই ধরনের নাটক ইতিহাসকে শুধু তারিখ ও রাজনৈতিক ঘটনার তালিকা না রেখে মানুষের জীবন ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করে।

সামাজিক প্রশ্নের প্রতি আগ্রহ

কীর্তি জৈনের পরিচালিত নাটকের একটি বড় বৈশিষ্ট্য সামাজিক বিষয়ের প্রতি আগ্রহ।

তিনি এমন গল্প বেছে নিয়েছেন যেখানে ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।

কখনও নারীর অবস্থান, কখনও সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব, কখনও অর্থনৈতিক পরিবর্তন, কখনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়—বিভিন্ন বিষয় তাঁর নাটকে এসেছে।

উদাহরণ হিসেবে ‘Tinka Tinka’ নাটকটি গুজরাটের ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপট নিয়ে তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে ‘Kaun Thagwa Nagariya Lootal Ho’-তে অর্থনীতি, বাজার ও পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার প্রশ্ন উঠে আসে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ

কীর্তি জৈনের নাট্যপরিচালনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করা।

তাঁর কাছে নাট্যশিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠ ছিল না।

একটি নাটক তৈরি করার পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল শিক্ষা।

পাঠ নির্বাচন।

গবেষণা।

চরিত্র বিশ্লেষণ।

রিহার্সাল।

মঞ্চসজ্জা।

অভিনয়।

দর্শকের প্রতিক্রিয়া।

সবকিছুর মধ্য দিয়ে একজন ছাত্র নাটককে বুঝতে শেখে।

এই পদ্ধতি একজন শিল্পীকে শুধু অভিনয়ের জন্য নয়, নিজের চারপাশের সমাজকে বোঝার জন্যও প্রস্তুত করতে পারে।

নাট্যগবেষক হিসেবেও পরিচিতি

কীর্তি জৈনের কাজ শুধু মঞ্চ পরিচালনায় সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি ভারতীয় থিয়েটার নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

ভারতীয় নাট্যচর্চা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও একাডেমিক প্রকাশনায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি Indian Theatre এবং Theatre and Performance Studies-এর মতো ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফলে তাঁর পরিচয় শুধু ‘থিয়েটার ডিরেক্টর’ হিসেবে নয়; নাট্যশিক্ষক ও গবেষক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়।

পুরস্কার ও সম্মান

ভারতীয় নাট্যচর্চায় দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কীর্তি জৈন Sangeet Natak Akademi Award লাভ করেন।

২০১১ সালে তিনি Direction-এর জন্য এই পুরস্কার পান।

এর আগে তাঁর সামগ্রিক নাট্যকর্মের জন্য B. V. Karanth Smriti Puraskar-ও প্রদান করা হয়েছিল।

তবে তাঁর কাজের মূল্য শুধু পুরস্কারের তালিকায় নয়।

যে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে শিখেছেন এবং পরবর্তী সময়ে নাটকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন, তাঁদের কাজের মধ্যেও তাঁর প্রভাব ছড়িয়ে রয়েছে।

নাটক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কীর্তি জৈনের কর্মজীবন থেকে নাটকের একটি বড় সামাজিক ভূমিকা বোঝা যায়।

নাটক শুধু বিনোদন নয়।

এটি প্রশ্ন করার জায়গা।

একটি নাটক দর্শককে এমন একটি অভিজ্ঞতার সামনে দাঁড় করাতে পারে, যা হয়তো দৈনন্দিন জীবনে সে দেখতে চায় না।

কোনও নারীর জীবনের অদৃশ্য চাপ, দেশভাগের স্মৃতি, সামাজিক বিভাজন, অর্থনৈতিক পরিবর্তন কিংবা একটি বিপর্যয়ের মানুষের ওপর প্রভাব—এসব বিষয় নাটকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত অনুভূতিতে পরিণত হতে পারে।

এই কারণেই কীর্তি জৈনের নাট্যচর্চায় সামাজিক বাস্তবতা বারবার ফিরে আসে।

তাঁর কাজের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব

আজ ভারতীয় থিয়েটারে শিশুদের জন্য নাট্যশিক্ষা, নাট্য-নথি সংরক্ষণ এবং সামাজিক বিষয় নিয়ে মঞ্চায়ন—সবই পরিচিত ধারণা।

কিন্তু এই ক্ষেত্রগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের অবদান আলাদা করে স্মরণ করা দরকার।

কীর্তি জৈন সেই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

তিনি মঞ্চকে শ্রেণিকক্ষের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

নাট্যচর্চাকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

এবং নাটককে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নিয়ে ভাবার একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

উপসংহার

কীর্তি জৈনের জীবনকে শুধু একজন নাট্যপরিচালকের জীবন বলে দেখলে তাঁর কাজের পরিসরকে ছোট করে দেখা হবে।

তিনি একই সঙ্গে পরিচালক, শিক্ষক, গবেষক এবং প্রতিষ্ঠান-নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত একজন নাট্যচিন্তক।

National School of Drama-র পরিচালক হিসেবে তাঁর ১৯৮৮–১৯৯৫ সালের সময়কাল নাট্যশিক্ষার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে Theatre in Education-এর উদ্যোগ শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে নাটকের সম্ভাবনাকে সামনে নিয়ে আসে।

তাঁর পরিচালিত নাটকগুলিও দেখিয়েছে, মঞ্চ শুধু গল্প বলার জায়গা নয়—এটি সমাজকে প্রশ্ন করার জায়গা।

একজন নাট্যশিল্পীর সবচেয়ে বড় সাফল্য হয়তো তখনই, যখন তাঁর কাজ শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে প্রশ্ন থেকে যায়।

কীর্তি জৈনের নাট্যজীবনের দিকে তাকালে সেই প্রশ্ন করার শক্তিটিই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মঞ্চের আলো নিভে যায়, অভিনেতারা মঞ্চ ছেড়ে চলে যান—কিন্তু একটি সত্যিকারের নাটকের প্রশ্ন দর্শকের মনে থেকে যায়। কীর্তি জৈনের কাজ সেই প্রশ্নকে আরও গভীর করার এক দীর্ঘ প্রচেষ্টা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *