নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- জয়ন্তী আজ গৃহবধূ থেকে সফল পশুপালক : পাশে আছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন
” রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর প্রাণী পালনের প্রশিক্ষণ থেকে লব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আজ আমি বাণিজ্যিকভাবে গাভী পালন শুরু করেছি ” – জানালেন নদীয়া জেলার হরিণঘাটা ব্লকের ফতেপুর গ্রামের মধ্য ত্রিশের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা জয়ন্তী মল্লিক। কলা বিভাগে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর উপযুক্ত চাকরির সন্ধান না পেয়ে ২৫ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কৃষিজীবী পরিবারে। সেখানেই পশুপালনের প্রাথমিক বিষয়গুলি রপ্ত করলেও পশু খামার ব্যবস্থাপনার আধুনিক বিষয়গুলি অজানাই ছিল মল্লিকার। ছাত্রাবস্থা থেকেই মল্লিকার স্বপ্ন ছিল স্বনির্ভর হওয়ার, আর এই তাগিদেই ২০০৯ সালে এলাকার আর দশ জন মহিলার সাথে গঠন করেন “লক্ষ্মী স্বনির্ভর গোষ্ঠী”। লক্ষ্য ছিল গোষ্ঠীর সহায়তায় উদ্যোগী হওয়ার। ইতিমধ্যে সন্তানের জন্ম হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পারিবারিক খরচ। বিকল্প আয়ের সন্ধান খুঁজে পান প্রাইভেট টিউশন -এর মধ্যে।
২০১৯ সালে জয়ন্তী একটি গ্রামীণ সচেতনতা শিবির থেকে জানতে পারেন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর বিভিন্ন তথ্য পরিষেবা ও প্রশিক্ষণের বিষয় সম্পর্কে এবং মূলতঃ ফাউন্ডেশনের কর্মী সুজয় ব্যানার্জীর উদ্যোগে একটি পশু চিকিৎসা ও টিকাকরণ শিবিরে অংশ নেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে হেল্পলাইন নম্বর এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ থেকে ফাউন্ডেশনের রিসোর্স পার্সন রাজকুমার লস্কর-এর কাছ থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ব্যাঙ্ক ঋণ সংক্রান্ত বিষয়, জীবিকা পরিকল্পনা তৈরির খুঁটিনাটি বিষয়গুলি রপ্ত করে ফেলেন জয়ন্তী। ফলস্বরূপ ২০২০ সালের শেষ দিকে ১.৫০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ পায় জয়ন্তীর গোষ্ঠী এবং পাশাপাশি সংঘ সমবায় থেকে ৩০০০০/- টাকা সি এই এফ লোন পায়। এখন থেকে নিজের জন্য ৩০০০০/- টাকা নিয়ে এবং কিছুটা পারিবারিক অংশ দিয়ে দুটো গরু ক্রয় করে পারিবারিক পশুপালনের ব্যবসাটির আয়তন বাড়ান। পাশাপাশি চলতে থাকে ফাউন্ডেশন থেকে একদিকে পশুপালন এবং অন্যদিকে গোষ্ঠীর বিষয়গুলি নিয়ে কথোপকথন। আজ দৈনিক ২০ লিটার দুধ গড়ে উৎপাদন হচ্ছে জয়ন্তীর ফার্ম থেকে এবং মাসিক রোজগার প্রায় ৮০০০/- টাকা। চার সদস্যের পরিবারটি আজ অনেকটাই স্বাচ্ছন্দ্য।
জয়ন্তীর কথায় ” … আমার মতো অনেক গ্রামীণ বধূ স্বপ্ন দেখে স্বনির্ভর হওয়ার। কিন্তু সঠিক যোগাযোগের অভাবে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তীকালে সরকারি দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে দেওয়ার প্রচেষ্টা – প্রকৃত অর্থেই জীবন জীবিকার মানোন্নয়নের একটি প্লাটফর্ম। আমি এই ফাউন্ডেশনের পরিবারের সদস্যা হতে পেরে কৃতজ্ঞ ” ।
জয়ন্তী আজ গৃহবধূ থেকে সফল পশুপালক।












Leave a Reply