মনিরুল হক, কোচবিহারঃ বারাণসীতে রাজ আমলে নির্মিত কালীমন্দিরের জমিতে প্রস্তাবিত ভবনের নাম কোচবিহার ভবন রাখার দাবি জানিয়ে কোচবিহার জেলা শাসক পবন কাদিয়ানকে স্মারকলিপি দিল ‘দ্যা কুচবিহার ক্ষত্রিয় সোসাইটি। আজ কোচবিহার জেলা শাসকের দফতরে মিছিল করে গিয়ে ওই স্মারকলিপি জমা দেন ওই সংগঠনের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, ওই প্রস্তাবিত ভবনের নাম কোচবিহারের নামে রাখা সহ সেখানে থাকা রাজ আমলের বিভিন্ন নিদর্শন গুলো সংরক্ষিত করা, কোচবিহারের মানুষ যাতে সেখানে গেলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং দীর্ঘদিন থেকে ওই কালি মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা দেবত্বর ট্রাস্ট বোর্ডকেই যাতে আগামী দিনেও দায়িত্বে দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা।
কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্র নারায়ণ বেনারসে কালি মন্দিরের স্থাপনার কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেই কাজ শেষ করেছিলেন পুত্র মহারাজা শিবেন্দ্র নারায়ণ। পরবর্তীতে কোচবিহার ভারতের সাথে যুক্ত হলে ওই মন্দিরের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দেবত্বর ট্রাস্ট বোর্ডকে। কিন্তু বেনারসের ওই কালি মন্দিরের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছিল বলে দীর্ঘ সময় অভিযোগ উঠছিল। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বেনারসের ওই কালি মন্দিরের জমি উদ্ধার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সেখানকার জমি উদ্ধার করে সেখানে বঙ্গভবন নির্মাণ করার কথা ঘোষণা করেন। এরপরেই কোচবিহারে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে যেমন আন্দোলন করে কোচবিহারের রাজ আমলের স্মৃতি বেনারসের ওই কালি মন্দিরের জমিতে প্রস্তাবিত ভবনের নাম কোচবিহারের সাথে মিলিয়ে রাখার দাবি সহ একাধিক দাবি জানায়, তেমনি রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোও রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজ আমলের সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করতে শুরু করে। সব মিলিয়ে বেনারসে ওই কালি মন্দিরের জমিতে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব কোচবিহারে রীতিমত শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
এদিন ‘দ্যা কুচবিহার ক্ষত্রিয় সোসাইটির পক্ষে এক কর্মকর্তা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বেনারসে কালি মন্দিরে বেদখল হয়ে জমি উদ্ধার করে সেখানে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন। এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। কিন্তু ওই প্রস্তাবিত ভবনের নাম কোচবিহারের নামে রাখা হোক। এছাড়াও সেখানে থাকা রাজ আমলের বিভিন্ন নিদর্শন সংরক্ষণ, কোচবিহারের মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া এবং ভবন ও মন্দির পরিচালনার দায়িত্ব দেবত্বর ট্রাস্ট বোর্ডের হাতেই যাতে থাকে,তার জন্য এদিন জেলা শাসককে স্মারকলিপি দিয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।”
বেনারস কালি মন্দিরের জমিত প্রস্তাবিত ভবনের নাম কোচবিহারের নামে রাখার দাবি ক্ষত্রিয় সোসাইটির।












Leave a Reply