ঝিঙে পটল (ধারাবাহিক, প্রথম পর্ব) : দিলীপ রায় (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

0
460

শালিকডাঙার বাঁক থেকে বিলাসপুর গ্রাম হাঁটা পথে প্রায় দেড় কিলোমিটার । বড় রাস্তা বলে কিছু নেই । মাঠের ভিতর দিয়ে চাষের জমি লাগোয়া মেঠো পথ । সেই পথ দিয়ে বিলাসপুর গাঁয়ের মানুষের যাতায়াত । শালিকডাঙার বাঁকে এলে অটো, টোটো, রিক্সা মেলে । তারপর সেখান থেকে স্টেশন বা বাস স্ট্যান্ড যাওয়ার রাস্তা । স্টেশনের লাগোয়া সব্জির বাজার । এমনকি জামা-কাপড়, চাল-আটা, মুদিখানা, ইত্যাদির বড় বাজার । ইদানীং শালিকডাঙার বাঁকে বিলাসপুর গাঁয়ের সনাতন কাকা চায়ের দোকান খুলেছে । খুব ভাল চলে । সনাতন কাকার দেখাদেখি সিরাজডাঙ্গা গাঁয়ের মাসুদুল মিঞা মুদিখানার দোকান খুলল । তার দোকানে মুদিখানার জিনিসপত্র ছাড়া আলু, পিয়াঁজ, আদা, রসুন ইত্যাদি কাঁচা সব্জি পাওয়া যাচ্ছে । ফলে বিকেল বেলায় শালিকডাঙার বাঁকে আশে পাশের গ্রামের মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো ।
বিলাসপুর গাঁয়ের শেষ মাথায় টিনের ছাউনির একটি ঘর । সেই ছোট্ট ঘরে ময়মীদের বসবাস । ময়মীর এক ছেলে ও এক মেয়ে । বড়টা ছেলে, পটল । ছোটটা মেয়ে, ঝিঙে । পটল ও ঝিঙে সারাদিন গাঁয়ের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় । ছেলে মেয়ে দুটি রোগাপটকা চেহারার । ছিন্ন বসনে তাদের ঘোরাঘুরি । উশকোখুশকো মাথার চুল । মেয়ে জন্মানোর এক বছরের মাথায় যখন ময়মীর ভীষণ অসুখ, যমে মানুষে টানাটানি সেই সময় তার মরদ তাকে ফেলে সিরাজডাঙ্গার রেবেকা খাতুনের সঙ্গে নিরুদ্দেশ । আজ পর্যন্ত ময়মী তার স্বামীর হদিস পায়নি । সম্বল বলতে এক চিলতে মাথা গোঁজার ঠাঁই । সেটাও আবার ভগ্নদশা । টিনে অনতিবিলম্বে রঙ না করলে পরের বর্ষায় ঘরের ভিতর বৃষ্টির জল পড়তে বাধ্য ।
গাঁয়ে তার স্বামী পরের জমিতে লাঙ্গল দিয়ে যা উপার্জন করত তাতেই তাদের সংসার চলে যাচ্ছিল । রেবেকা খাতুনের জন্য তার কপাল পুড়বে ঘুণাক্ষরেও ময়মী টের পায়নি । অন্যদিকে নিজের অসুখের খরচার জন্য ময়মী একেবারে নিঃস্ব । দুদিন হাসপাতালে ছিল । কঠিন ব্যামো । শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট । মাঝে মাঝে বুকে কফ জমে । এখন শারীরিকভাবে সুস্থ, কিন্তু ভীষণ দুর্বল । শরীরে বল কম । ভারী কাজ করতে গেলে হাঁপিয়ে ওঠে । তার উপর খাওয়া-দাওয়ার তেমনি ছিরি ! খাবারই জোটে না, তার আবার ছিরি ! ময়মী আয়নার দিকে তাকিয়ে অবাক ! একি তার চেহারা ! নিজেকে দেখে সকলের অজান্তে ডুকরে ডুকরে কাঁদে । তার কত সুন্দর চেহারার আজ কী হাল ! শরীরের হাড় গোনার মতো চেহারা । হাত পায়ে নিয়মিত তেল-জল না পড়ার জন্য ত্বক শুকিয়ে একশা । ত্বকে একটু নখের আঁচড় লাগলেই দাগ্‌ ফুটে ওঠে । শরীরের হাল অবলোকন করে ময়মীর কপালে চিন্তার ভাঁজ !
মরদ চলে যাওয়ার পর থেকেই তাদের জীবনে কষ্টের ঘনঘটা । ঠিকমতো খাবার জোটে না । পয়সার অভাব প্রকট । ছেলে মেয়ের মুখে ভাত তুলে দিতে ময়মীর নাভিশ্বাস ! গাঁয়ের মাঝি বাড়িতে চাকরানীর কাজ নিয়েছিল ময়মী । সেটাও টিকলো না । কারণ এবছর ব্যাপক প্লাবন । বন্যার ফলে চাষের জমি জলের তলায় । বন্যার জন্য বর্ষার চাষে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি । কোনো ফসল ফলেনি । ফলে গাঁয়ের বাসিন্দাদের ভীষণ অভাব । তাই মাঝি-গিন্নি ময়মীকে ডেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের সংসারের কাজকর্মো তাঁরা নিজেরাই সামলাতে পারবেন, সুতরাং ময়মীকে এখন আর দরকার নেই ।
“মা বড্ড খিদে পেয়েছে ।“ ঝিঙে এসে ময়মীর কাছে আবদার ধরল । বেলা গড়িয়ে আড়াইটে । গালে হাত দিয়ে ময়মী বাড়ির উঠোনে বসে চোখ বুঁজে ঝিমোচ্ছিল । ঝিঙে ঘরে ঢুকে ভাতের হাঁড়ি, কড়াই উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখল কোথাও খাবার নেই । মায়ের ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে বলল, ”প্রচণ্ড খিদে মা । খেতে দাও ।“
আচমকা মেয়ের ঝাঁকুনিতে সজাগ হয়ে চিল্লিয়ে ময়মী বলল, “গতর খাটিয়ে খাবার জোটাতে পারিস না । আমাকে জ্বালাস ।”
ঠান্ডা মাথায় আস্তে আস্তে পটল মাকে বলল, “মা, বোন ছোটো । সে কীভাবে খাবার জোটাবে ?”
“বোন না পারুক, তুই তো মানুষের বাড়ি কাজ করে খাবার জোটাতে পারিস । স্টেশনে কত খাবারের দোকান, সেখানে থালা বাসন মেজে আয় করতে পারিস । তা না ক’রে দুই ভাই-বোনে তিড়িং-বিড়িং করে লাফিয়ে পাড়া বেড়ানো ।“ ময়মী রাগের মাথায় কথাগুলো বলে রীতিমতো হাঁপাচ্ছে ।
মায়ের কথা শুনে পটল বাড়ি থেকে ছুটে বেরিয়ে গেল । গ্রাম পার হয়ে খানিকটা দূরে গাঁয়ের দীনবন্ধু মোড়লের নারিকেল বাগানের পাশে বেল গাছ তলায় বসল । অতঃপর কী করণীয়, সেটাই ভাবছে ! মায়ের রক্ত চক্ষুর বকুনি তাকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে । বাবাকে পটলা নিজের চোখে দেখেছে । মাঠ থেকে বাবা ফিরলে তার মা গামছা ও এক বালতি জল এগিয়ে দিয়ে বলত, হাত মুখ ধুয়ে এসো আমি খাবার রেডি করছি । তখনই বাবার পালটা প্রশ্ন, “ছেলেটা কী কিছু খেয়েছে ?” সেই বাবা নিজের সুখের দিকে তাকিয়ে তাদের ছোট দুই ভাই-বোনকে অসহায় অবস্থায় ফেলে উধাও । ভাবতে পটলের ভীষণ কষ্ট ! কান্নায় দু-চোখে জল । ঠিক সেই মুহূর্তে নারিকেল গাছ থেকে দুটো ঝুনো নারিকেল ধপাৎ করে মাটিতে পড়ল । এদিক ওদিক তাকিয়ে যখন পটল দেখল আশে পাশে কেউ নেই, তখন নারিকেল দুটি হাতে তুলে সোজা বাড়ি । পটল ভাবল, এই দুটো নারিকেল বিক্রি করলে অন্তত কুড়িটা টাকা পাওয়া যাবে । তাতে চাল কিনে পেট ভরে অন্তত ভাত খেতে পারবে ।
বাড়িতে ফিরে পটল মাকে বলল, “আমি একটু বাজারে যাচ্ছি ।“
হঠাৎ বাজারে কেন ?
নারিকেল বেচতে ।
নারিকেল ! অবাক হয়ে গেল ময়মী । তারপর জিজ্ঞাসা করল, ”কোথায় পেলি ?”
দীনবন্ধু মোড়লের বাগান থেকে ।
“অর্থাৎ মোড়লকে না জানিয়ে নারিকেল দুটো চুরি করেছিস । শিগ্‌গির মোড়লের বাড়ি নারিকেল দুটো ফেরত দিয়ে আয় । আমরা না খেয়ে থাকব তবুও চুরির পয়সায় পেট ভরাবো না ।“ ময়মী চোখ গরম করে ছেলেকে ধমকাল ।
মা, বোনটা সারাদিন কিছু খায়নি । তার খাবার কী হবে ?
“পারলে, গতর খাটিয়ে উপার্জন কর্‌ । কিন্তু কখনই বিনা পরিশ্রমে উপার্জনের কথা ভাববি না ।“ ময়মী তারপর নারিকেল দুটো ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে পটলের হাতে ধরিয়ে দিলো ।
অগত্যা কাস্তে হাতে নিয়ে বের হল পটল । মাঠে তখন রবি শস্যে ভরা । জমির আইলে বড় বড় ঘাস । কাস্তে দিয়ে ঘাস কাটতে শুরু করল । কয়েকটা জমির আইল থেকে এক বস্তা সতেজ ঘাস কাটলো । ঘাসের বস্তা মাথায় নিয়ে পটল সোজা গাঁয়ের হরিনন্দন ঘোষের বাড়ি । তাজা ঘাস দেখে হরিনন্দন ঘোষ খুব খুশী । তাঁদের বাড়িতে তিনটি গাই গরু । তার মধ্যে দুটো দুগ্ধবতী গরু । ঘোষেরা জানে, ছোট করে কাটা বিচালির সাথে ঘাস মিশিয়ে দিলে গরু খুব ভাল খায় । বিশেষ করে দুধেল গাই গরুকে খাওয়াতে পারলে দুধ সুস্বাদু হয় । তাই হরিনন্দন ঘোষ পটলকে বললেন, “পাঁচ টাকা দিলে খুশী তো ?”
টাকা না কাকা, আমাকে মুড়ি দেন । বোন আর আমি খাবো ।
হরিনন্দন ঘোষ ঘর থেকে মুড়ির টিন এনে পটলের গামছায় ঢেলে দিলেন । তারপর আবার বললেন, “আর লাগবে ?”
পটল ফ্যাল ফ্যাল করে ঘোষের দিকে তাকিয়ে রইল ।
পটলের করুণ মুখ দেখে হরিনন্দন বুঝতে পারলেন, “তারা ক্ষুধার্ত । তাই টিনের সমস্ত মুড়ি পটলার গামছায় ঢেলে দিলেন ।“
তখন সূর্য অস্তগামী । বোনটা তখনও ঘুমোচ্ছে । ঝিঙেকে ডেকে তুলে মা ও বোন মিলে মনের আনন্দে মুড়ি খাওয়া শুরু করল । ইতিমধ্যে ময়মী গাছ থেকে কয়েকটা কাঁচা লঙ্কা ছিঁড়ে আনলো মুড়ির সঙ্গে খাওয়ার জন্য । কাঁচা লঙ্কা দিয়ে পেট ভরে তারা মুড়ি খেলো । তারপর ঢকঢক করে জল খেয়ে তাদের কী শান্তি । বোনটার মুখে হাসি ! মা ও বোনের চোখে মুখে খুশীর ঘনঘটা দেখতে পেয়ে পটল আড়ালে গিয়ে গামছা দিয়ে চোখের জল মুছলো । তারপর দুই ভাই বোনের মধ্যে কী সুন্দর হাসি-মস্করা !
পরের দিন সকাল বেলায় পটল তাদের এলাকার বিলে গিয়ে হাজির । বিশাল বিল । বিলটা অনেকদিনের পুরানো । সেই বিল থেকে এলাকার মানুষ অহরহ মাছ ধরে । তবে বিলটার জলে আগাছায় ভরতি । বন্যার জল ঢুকলে বরং বিলের মাছ অনেক বেরিয়ে যায় । পটল দূরে দেখতে পেলো জেলেরা ডিঙি নৌকায় খেপলা জালে মাছ ধরছে । বিলের একদিকে প্রচুর শাপলা ও কলমি শাক । জলে নেমে পটল অনেকগুলি শাপলা তুলল, তেমনি কলমি শাক । পেছনে পেছনে তার পুচকি বোন ঝিঙে উপস্থিত । বোনটা শাপলা শাকগুলি ডাঙায় গুছিয়ে রাখল । তারপর বিলের জল থেকে ডাঙ্গায় উঠল পটল । শাপলা ও কলমি শাকগুলি ছোট ছোট আঁটিতে বাঁধলো । দশ আঁটি শাপলা ও পাঁচ আঁটি কলমি শাক নিয়ে তারা দুজনে ছুটলো স্টেশন বাজারে । তারা বাজারের এক কোনে শাকের দোকান সাজিয়ে বসল । বাজারের সব্জি বিক্রেতা নিজের দোকানের জন্য ওদের কাছ থেকে দশ আঁটি শাপলা পাঁচ টাকা দরে পঞ্চাশ টাকায় কিনল । কিন্তু কলমি শাকের জন্য দশ টাকার বেশি দিতে চাইল না । পটলা ঐদামে দিতে গররাজি । তাই তারা আরও কিছুক্ষণ বসল । এক ঘন্টা বসার পর কুড়ি টাকায় বিক্রি করল কলমি শাক ।
বাজার থেকে চাল, ডাল, তেল ও আনুসঙ্গিক রান্নার জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরল । পটলার কাণ্ড দেখে ময়মী খুশীতে বিহ্বল । ছেলেটা ক্রমশ উপায় করতে শিখছে । ভাবতেই ময়মীর চোখে আনন্দাশ্রু !
পরেরদিন পটলার ভীষণ জ্বর । বিলের ঠাণ্ডা জলে নেমে শাপলা তোলার জন্য জ্বর । জ্বরে তার হাত-পা পুড়ে যাচ্ছে । ময়মী মাথায় জল ঢেলে, কপালে জল পট্টি দিয়ে জ্বর আয়ত্তে আনে । তারপর হাসপাতালে পটলাকে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ আনে । নিয়মিত ঔষধ খেয়ে পটল শারীরিকভাবে সুস্থ হল ।
গাঁয়ের ত্রিনাথবাবুর বাড়িতে ত্রিনাথ গিন্নিকে ময়মী জিজ্ঞাসা করল, “আপনারা নাকি কাজের লোক খোঁজ করছেন ?”
“খোঁজ করছি । কিন্তু আমরা তোমাকে কাজে নিতে পারব না । কেননা তোমার প্রচন্ড হাঁচি কাশি । আমার নাতির জন্যেই মূলত কাজের লোক রাখা । সুতরাং তোমার হাঁচি কাশি আমার নাতির হতে বাধ্য । তাই তোমাকে কাজে লাগানো যাবে না ।“
বাড়ি ফিরে আবার মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে ময়মী । ঘরে একটুও খাবার নেই । বাড়ির চারিদিকে মেয়েটার ঘোরাঘুরি । সে বেচারাও সকাল থেকে না খাওয়া । মেয়ের মুখের দিকে তাকালে ময়মী ঠিক থাকতে পারে না । কষ্টে তার চোখে জল আসে । তাই ময়মী আবার পাড়ায় বের হল যদি কোথাও কাজ জোটে । বেলা তখন তিনটে । হঠাৎ ময়মী গদাধর মণ্ডলের বাড়ির সামনে দাঁড়াল । গদাধর গাঁয়ের বর্ধিষ্ণু চাষি । গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু । চাষের জমিতে অনেক লোকজন কাজ করে । গৃহস্থালির কাজে গাঁয়ের পলাশের মা মাসকাবারি চুক্তিতে গা-গতরে খাটে । ময়মী ছুটে গিয়ে গদাধরকে বলল, “দাদা ভাতগুলি গরুকে দেবেন না । আমাকে বরং দেন, ছেলে মেয়ে সকাল থেকে না খাওয়া ।“ গদাধর তখন খাওয়া দাওয়ার পর বাড়ির অবশিষ্ট সাদা ভাতগুলি গরুকে খাওয়াতে উদ্যত । সেই মুহূর্তে খাবারগুলি নেওয়ার জন্য গদাধর মণ্ডলের কাছে ময়মীর কাতর আবেদন ।
গদাধর ময়মীর দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমার স্বামী তোমাকে ছেড়ে পালিয়েছে, তার খবর কী ?”
মাথা নীচু করে থাকে ময়মী ।
বুঝেছি, কথাটা তোমার শরমে লেগেছে । দাঁড়াও বাছা ! এইটুকু ভাতে তো তোমাদের তিনজনের পেট ভরবে না । আমি বরং আরও কিছু মুড়ি দিই ।
সেই ভাত বাড়ি আনামাত্র ঝিঙে খেতে পারল না । ভাত না খেয়ে মাকে বলল, “দাদা বাড়ি ফিরুক, তারপর তিনজনে একসঙ্গে বসে খাবো ।“
পটল রাত্রিতে খালি হাতে বাড়ি ঢুকল । ময়মী কৌতুহলী দৃষ্টিতে জিজ্ঞাসা করল, “তুই সারাদিন কোথায় কাটালি ?”
ঠিকে কাজের সন্ধানে । তারপর এক চিলতে হাসি দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “জানো মা শালিকডাঙ্গার বাঁকে আমি তালপাতা দিয়ে চালা বেঁধেছি । সেখানে চায়ের দোকান খুলব । সিরাজডাঙ্গার মাসুদুল মিঞা আমাকে চা, চিনি, দুধের প্যাকেট, আর …।“
আর কী বাবা ?
“আর কিছু টাকা ধার দেবে দোকানের সরঞ্জাম কেনার জন্য । জানো মা, আমি চায়ের দোকান খুললে আর আমাদের অভাব থাকবে না ।“
দাদার কথা শুনে ঝিঙে হাত তালি দিয়ে লাফিয়ে উঠল, “কী মজা ! কী মজা ! আমরা এবার রোজ ভাত খেতে পাবো ।“
অন্যদিকে শাড়ির আঁচল দিয়ে ময়মী চোখের জল মুছতে ব্যস্ত ।
 চলবে