কোচবিহারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রচুর বেআইনি সামগ্রী উদ্ধার করল বিএসএফের।

0
136

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ গত এক বছরে কোচবিহারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রচুর সংখ্যায় গরু, ফেন্সিডিল কফ সিরাফ, গাঁজা, পোশাক ওষুধ ও বীজ উদ্ধার করেছে বিএসএফ। আজ বিএসএফের কোচবিহার গোপালপুর সেক্টর হেড কোয়াটার থেকে একটি প্রেস রিলিস দিয়ে এখবর জানানো হয়েছে। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ দিনহাটা সহ ১৯০.৮২ কিলোমিটার ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত গোপালপুর সেক্টরের অধীনে। ২০২১ সালে এই এলাকা থেকে বিএসএফ অভিযানে বাংলাদেশে পাচার হওয়ার সময় ১৩১০ গরু উদ্ধার হয়েছে। কফ সিরাফ উদ্ধার হয়েছে ১৯২৫৬ বোতল, যার মূল্য ৩৪ লক্ষ ১২ হাজার ৬৪২ টাকা। গাঁজা উদ্ধার হয়েছে ১৪৭৯.২৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও পোশাক, বীজ ওষুধ সহ আরও ১৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ২৪৭ টাকা মূল্যের সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
সীমান্ত চোরাকারবার দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। কাঁটাতাঁরের বেড়া দেওয়ার পরেও চোরাকারবারে খুব একটা প্রভাব যে পড়ে নি, তা বিএসএফের এক বছরে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী দেখেই বোঝা যায়। মূলত শীতের সময় কুয়াশার সুযোগ নিয়ে এবং বর্ষায় বৃষ্টি ও নদী গুলোতে জল বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ নিয়ে চরাকারবিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই ডিউটি করতে হয় বিএসএফ জওয়ানদের। আর মাঝে মধ্যেই চোরাকারবারিদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। কখনও কখনও দুপক্ষের মধ্যে লড়াইয়ে প্রাণও চলে যায়। কিন্তু তারপরেও প্রকৃতির সাথে লড়াই করে সীমান্ত পাহারার কাজ চালিয়ে যেতে হয় জওয়ানদের।
সীমান্তে পাহারারত অবস্থায় এক জওয়ান বলেন, “ঠাণ্ডা হোক আর বৃষ্টি, আমরা সব সময় সীমান্তে পাহারার কাজ করে থাকি সততার সাথে। পাচারকারীরা দল বেধে আসে। নানান রকম শব্দ করে দুপাশের চোরাকারবারিরা বিভিন্ন সামগ্রী পাচার করার চেষ্টা করে থাকে। বাধা দিতে গেলে আক্রমণ করতে আসে। পাথর দিয়ে ঢিল ছুঁড়তে শুরু করে। অনেক সময় এতে আমাদের আহতও হতে হয়।”
৫৭ বছর ধরে সীমান্ত পাহারার কাজ করে আসছে বিএসএফ। ১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্থান যুদ্ধেও অংশ নিয়েছে। বিশ্ব শান্তির জন্য রাষ্ট্র সঙ্ঘের মাধ্যমে অন্য রাষ্ট্রে গিয়েও কাজ করেছে। সীমান্তে পাহারার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যায় পাশে দাঁড়াতেও দেখা গিয়েছে বিএসএফকে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করতে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিএসএফের এক্তিয়ার বৃদ্ধি করেছে। তা নিয়ে রাজ্য কেন্দ্র বিরোধ রয়েছে ঠিকই, তবে সীমান্ত রক্ষায় বিএসএফের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে দেশের মানুষ মনে করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here