খড়্গপুরে চায় পে চর্চায় যোগ দিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা দিলীপ ঘোষের।

0
250

নিজস্ব সংবাদদাতা,পশ্চিম মেদিনীপুর:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার সকালে প্রাতভ্রমণে খড়্গপুরে বেরোলেন দিলীপ ঘোষ।প্রাতভ্রমণের পর কর্মীদের সাথে আলাপচারিতা এবং  চা চক্রে যোগ দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ দিলীপ ঘোষ।পরে খড়গপুর শহরের ইন্দা এলাকায় দেওয়াল লিখন করেন দিলীপ ঘোষ। এই দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। এদিন তিনি বলেন করোনার বাড়বাড়ন্ত রাজ্যে।যার জেরে আংশিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।ফলতঃ সেই মোতাবেক লোকাল ট্রেন সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত প্রথমে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।কিন্তু  আংশিক লকডাউনের প্রথম দিন বিপাকে পড়েন যাত্রীরা।বিক্ষোভ দেখান রেলের আধিকারিকের অফিসের সামনে।তারপরই সেই সময় সুচির বদল হয়।এই নিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলিপ ঘোষ বলেন-“এই সিডিউল তৈরি করা রেলের হাতে নেই, রাজ্য সরকার যেমন বলে তেমন হয়।না ভেবে চিন্তে মুখ্যমন্ত্রী যা মুখে আসে বলে দেন।তার পরিনাম সাধারণ মানুষকে ভুগতে হয়।চিন্তাভাবনা করে এই ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।অবৈজ্ঞানিক ভাবে ঘোষনা হয়ে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে।”পাশাপাশি
স্কুল খুললেও করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার ফলে ফের বন্ধ করা হয়।অন্যদিকে এখনও খোলা পানশালা।সেই প্রসঙ্গে দিলিপ ঘোষের কটাক্ষ -“স্কুল খোলা হল, স্কুল বন্ধ করা হল।মদের দাম বাড়ানো হচ্ছে, আবার কমানো হচ্ছে।যদি করের জন্য করতে হয়, বাকি কড়াকড়ির কোন মানে হয়না।আর যারা ওখানে (রাজ্য সরকারে) যায়, তারা আইনকানুনের উপরে চলে যায়।সেজন্য সরকারের ভাবনা চিন্তা করা উচিত।পশ্চিমবঙ্গ সরকার লোক দেখানোর জন্য করেন, তার ব্যবহারিক প্রয়োগ হয়না।”
দিন কয়েক পরে খড়্গপুরে পৌর নির্বাচন।পৌরভোট প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন-” তৃণমূলের কাছে গড় খড়্গপুর, মানুষ তৃণমূল কে বারবার হারিয়েছেন।কারণ এধরনের গুন্ডামি, দূর্নীতি, অত্যাচার মাফিয়ারাজ তারা চান না।পুলিশ ও গুন্ডাদের কাজে লাগিয়ে এখানে জেতার চেষ্টা আগেও হয়েছে,এবারেরও হবে কিন্তু  খড়্গপুরের মানুষ দেখিয়েছেন তারা এগুলো চান না।তারা মোকাবিলা করবেন আমরা সঙ্গে আছি।”
অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন রেলনগরী খড়্গপুরে।সে প্রসঙ্গে দিলিপ ঘোষ বলেন-“আমরা রেল কে বলে অনেক কাজ করেছি, কিন্তু  যারা অনেক অন্যদলের কাউন্সিলার ভাঙিয়ে নিয়ে বোর্ড গঠন করেছে, তৃণমূল কি করল।এর জবাব দিতে হবে।”
মন্ত্রী সাধণ পান্ডের মেয়ের বিরুদ্ধে রোজভ্যালি কান্ডে চার্জশিট জমা করে সিবিআই।সে প্রসঙ্গে দিলিপ বলেন-“সবাই জানে সাধন পান্ডের মেয়ে কিসের সাথে যুক্ত।সিবিআই তাদের কাজ করছে।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু  ঠাকুর বিজেপির বেশ কয়েকটি গ্রুপ থেকে লেফট করেছেন।সে প্রসঙ্গ সর্বভারতীয় সহ সভাপতি বলেন-“অনেক লোক অনেক গ্রুপ থেকে লেফট করে, অনেকে অনেক গ্রুপ তৈরী করে।গ্রুপ নিয়ে বিজেপি চিন্তা করেনা।সে উনি(শান্তনু  ঠাকুর) বলতে পারবেন।”
বেশ কয়েকমাস ধরে খড়্গপুরে নানা অসামাজিক কাজ সহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।সে প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেন দিলিপ ঘোষ।তিনি বলেন-“ভোট এলে ক্রাইম বাড়ানো হয়, যাতে তৃণমূল জিততে পারে।পুলিশ ক্রাইম বাড়ায়।যারা ফেয়ার ইলেকশনে জিততে পারেন না।তারা ভয় দেখেিয়ে লুঠপাঠের চেষ্টা করে।খড়্গপুরের মানুষ জবাব দেবে।”
সোমবার খেজুরিতে বোমা ফেটে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু  হয়েছে, আহত অপর তিন।সে প্রসঙ্গে দিলিপ ঘোষ বলেন-“খেজুরি একটা উপদ্রুত এলাকা।যখন থেকে বিজেপি ওখানে শক্তিশালী হয়েছে, বারবার আক্রমনের চেষ্টা হয়েছে।লোকে তৃণমূল কে হারিয়েছে বিজেপি জিতিয়েছে।হারের পরে মানতে চায়না, সেই অভ্যাসে এই ঘটনা।”