‘মকর হাটে’ হাজার হাজার মানুষের ভিড়! বাড়ছে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা।

0
282

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: একদিকে করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। অন্যদিকে হাতে গোনা কয়েকটা দিনের পরই মকর সংক্রান্তি। মকর সংক্রান্তির আগে জেলাজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বসে হাট। সেই হাটেই করোনা বিধিকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। এবারও সেই একই চিত্র ফুটে উঠছে হাটগুলিতে। মকরকে ঘিরে জামবনি ব্লকের ঘুটিয়াতে শুরু হয়েছে ‘মকর হাট’। এই হাট চলবে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। করোনার সংক্রমণের জেরে যখন একের পর এক মেলা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এমনকি ঝাড়গ্রামে বই মেলা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। অথচ সেই সময় হাটগুলিতে মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। মকরের আগে প্রতিদিনই হাটগুলিতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। হাটে ভিড় নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসক মহলও। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা বলেন, ‘‘এই সময় সংক্রমণ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার বা হাট যেখানে বেশি মানুষের সমাগম ঘটে সেখান থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই করোনা বিধি মেনে এসব করা উচিত।’’ তবে জেলাশাসক জয়সি দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘সমস্ত আধিকারিকদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করা হয়েছে। আমরা হাট কমিটিকে বলেছি দোকানগুলি যত সম্ভব ছড়িয়ে রাখতে হবে। বাধ্যতামূলক ভাবে মাস্ক পরার কথা বলা হয়েছে। হাট কমিটির সদস্যরা যেন দেখেন মাস্ক পরে মানুষজন ঢুকছে। তাছাড়া হাট প্রাঙ্গণ প্রতিদিন স্যানিটাইজ করতে বলা হয়েছে।’’
মকরকে ঘিরে জামবনি ব্লকের ঘুটিয়াতে গত কয়েক বছর ধরে শুরু হয়েছে ‘মকর হাট’। এবারও কয়েকদিন আগে থেকেই সেই হাট বসেছে। সেখানে পঞ্চাশের বেশি দোকান রয়েছে। মকর হাটে অধিকাংশই জামা কাপড়ের দোকান। কিন্তু এই হাটগুলিতে করোনা বিধি তো দূরের কথা অনেক মানুষজন মাস্কও পরেন না। রবিবার ছিল গোপীবল্লভপুরে সাপ্তাহিক হাট। গোপীবল্লভপুরের রাধাগোবিন্দ জিউর পাশ থেকে গোপীবল্লভপুরের ইকো পার্ক এই হাট বসে। প্রশাসনের নির্দেশকে উপেক্ষা করেই হাটে অধিকাংশ মানুষজনের মুখে মাস্ক ছিল না। এমনকি বহু মানুষের ভিড় ছিল। সোমবার বিনপুরে হাট ছিল। জেলার সবচেয়ে বড় হাট হয় বেলিয়াবেড়া ব্লকের ফেকোতে। মঙ্গলবার ছিল সেখানকার হাট। মকরের আগে ফোকো হাটে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়। মকরের আগে শেষ ফোকো হাট হয়েছে। সেই ফেকো হাটেও দেখা গেল সেই একই চিত্র। একদিকে যখন সংক্রমণ বাড়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সেই সময় হাটে মানুষের সমাগম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে? জেলাশাসক বলেন, ‘‘এখন ভিড় করা যাবে না। আমরা সরকারি অনুষ্ঠান কম লোকজন নিয়ে করছি। এমনকি একদিন ছাড়া ছাড়া অফিস খোলা থাকছে।’’