প্রভুপাদ বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী— এক আশ্চর্য মহাজীবন কথা : (পর্ব-১৩) : রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক।

0
350

বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীজীর ব্রাহ্মধর্ম পরিত্যাগ করা বা শ্রীকেশবচন্দ্রের প্রতি তাঁর অন্তরে অভিযোগ , অমান্যতার বীজ উপ্ত হয়ে অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে ক্রমশঃ তা চারাগাছে রূপ নেওয়া—- এসব সত্য যদিও কিন্তু তিনি যে কতখানি কেশবান্ত প্রাণ ছিলেন তা কল্পনারও অতীত। এব্যাপারে ছোট একটি ঘটনার উদাহরণ দেবো। পাঠকগণ আপনারা এতেই তা আন্দাজ করতে পারবেন।

একদিন কোন বিশেষ কার্যোপলক্ষে গোস্বামীজী বাগবাজারে এসেছেন সাধু অঘোরনাথকে সাথে নিয়ে । কাজ সারতে সারতে বেলা পড়ন্ত হল। ক্ষিধেও পেল ভীষণ। তিনি অঘোরনাথকে উদ্দেশ্য করে বললেন—- “অঘোর ভাই ! ক্ষুধা পেয়েছে খুব । চল না কিছু খাই !” মাত্র চার পয়সাই সম্বল ছিল গোস্বামীজীর কাছে। তাঁরা বাগবাজারের একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকলেন । রসগোল্লা দেখেই গোস্বামীজীর কেশবচন্দ্রের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি বললেন, “যদি কিছু মনে না করো একটা কথা বলবো, ভাই,? ” অঘোরনাথ– ” হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয় । কী বলো ?” গোস্বামীজি— “চল, আমরা বরং মুড়ি মুড়কি খাই। আসলে কেশব রসগোল্লা খেতে ভালোবাসে ‌। আর, আমার কাছে চার পয়সাই আছে । দু’পয়সার যদি আমরা মুড়ি মুড়কি খেয়ে নিই, তাহলে বাকি দুই পয়সায় কেশবের জন্য একটা রসগোল্লা কিনতে পারবো।” অঘোর সানন্দে রাজি হলেন। তিনি জানেন কেশবচন্দ্রের প্রতি বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর টান কেমন প্রগাঢ়।

এরপর দুই পয়সায় একটা রসগোল্লা নিয়ে বাকি পয়সা দিয়ে মুড়ি-মুড়কি কিনে খেতে খেতে ফেরার পথ ধরলেন বিজয়কৃষ্ণ ও অঘোরনাথ। কেশবচন্দ্রের কাছে এলেন তাঁরা। কেশবচন্দ্র রসগোল্লা খেলেন । আর তা দেখে পরম পরিতৃপ্ত হলেন গোস্বামীজী।

গোস্বামীজী প্রায়ই বলতেন, কেশব হলো অভিজাত ঘরের ছেলে। ওর ভালোভাবে থাকা খাওয়ার অভ্যাস। ওর কী আমাদের মত কষ্ট করা সাজে ! ওর আহারাদির কোন কমতি দেখলে আমার কষ্ট হয়।

অপরদিকে কেশবচন্দ্র সেনও কিন্তু প্রচন্ড স্নেহ করতেন গোস্বামীজীকে । সাথে অঘোরনাথকেও। তিনি জানতেনও যে বিজয়কৃষ্ণ কতখানি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন তাঁকে। যখন পরবর্তীতে অঘোরনাথ পরলোকগত হলেন এবং কোচবিহার বিবাহ আন্দোলনের পর( পূর্বে আলোচিত) তাঁকে ত্যাগ করে গোস্বামীজী সাধারণ ব্রাহ্মসমাজে যোগদান করলেন , তখন একদিন তাঁদের হারিয়ে কেশবচন্দ্র অন্যদের কাছে বিলাপ করে বলেছিলেন, “আমার ডান হাত বিকল আর বা হাত ভেঙে গেছে যে!”

–—ক্রমশঃ
ভক্তানুগ্রহ প্রার্থিনী
রাধাবিনোদিনী বিন্তি বণিক