জয় কিষাণ আন্দোলনের লাগাতার প্রচেষ্টার জেরে বাংলা উদ্বাস্তু চাষীদের বিশাল জয়; এবার সবাই হাতে হাতে পাবে জমির পরচা: যোগেন্দ্র যাদব।

0
223

কোলকাতা/বাঁকুড়া, ১৭ই জুন, ২০২২: জয় কিষাণ আন্দোলনের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া ব্লকের উদ্বাস্তু চাষীদের পরচা জারি করা শুরু করতে বাধ্য হল প্রশাসন। প্রথম পরচা জারি হল জয় কিষাণ আন্দোলনের বর্ষীয়ান সদস্য ধীরেন রায়ের নামে। মানাচর অঞ্চলে তার কৃষি জমির পরচা প্রদান করলো বড়জোড়া ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর।

জয় কিষাণ আন্দোলনের সংস্থাপক যোগেন্দ্র যাদব বলেন: “এই পরচা জারি সাধারণ ব্যপার নয়। এ এক ঐতিহাসিক পর্বের শুরু। পূর্ববঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা উদ্বাস্তু চাষীর সংখ্যা আজ প্রায় ২৫ লক্ষ। সরকার উদ্বাস্তু চাষীদের জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য চাষের জমি দেয়। সেই জমির দলিলও সরকার দেয়, যেমন ১৯৯০ সালে ধীরেন রায়কে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার ৩০ বছর পরও ছোটাছুটি করে জমির পরচা তিনি পাননি এবং এই একই অবস্থা প্রায় সব উদ্বাস্তু চাষীর। তাই আজ ধীরেন রায়ের পরচা পাওয়া অবশ্যই ঐতিহাসিক ঘটনা এবং সব উদ্বাস্তু চাষীদের জন্য এ এক বিশাল জয়।”

জয় কিষাণ আন্দোলনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভীক সাহা বলেন: “এটা মনে রাখতে হবে যে পরচা পাওয়ার আইনি অধিকার ধীরেন রায়কে আদায় করতে হয়েছে, বহু কাঠখড় পুড়িয়ে। জয় কিষাণ আন্দোলন ধীরেন বাবুর হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে আবেদন জানায় পরচা জারি করার জন্য। আদালত পরচা জারি করার আদেশ দেয়। সরকারি আধিকারিকরা সেই আদেশ অমান্য করে। তখন জয় কিষাণ আন্দোলন সেই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দাখিল করে। আজ সেই অবমাননার মামলার শুনানির ঠিক আগে ধীরেন রায়ের নামে পরচা জারি হয়েছে। এটাও মনে রাখতে হবে যে পরচা না পাওয়ার দরুন ধীরেন বাবু ও সব উদ্বাস্তু চাষী প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি, কৃষক বন্ধু, বাংলা শস্য বীমা এবং আরো অনেক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছেন। এবার এই বঞ্চনার প্রতিকারের লড়াই শুরু হবে।”

জয় কিষাণ আন্দোলনের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি প্রবীর মিশ্র বলেন: “বাংলায় প্রায় ২৫ লক্ষ উদ্বাস্তু চাষী দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পরচা থেকে বঞ্চিত ছিল, আজ তারা সকলে পরচা পাওয়ার অধিকারী হয়েছে। আদালতের আদেশ এবং সরকারের সেই আদেশ পালনে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে প্রত্যেক উদ্বাস্তু চাষী তার জমির পরচা পেতে পারে এবং এতদিন তাদের পরচা না দেওয়াটা অবৈধ এবং অনৈতিক। চাষী আজ আর একা নেই। তাদের আর রাজনৈতিক দলেদের পিছনে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে হবে না। তারা নিজেদের সংগঠনের সঙ্ঘবদ্ধ শক্তি দিয়ে অধিকার ছিনিয়ে নেবে।”

জয় কিষাণ আন্দোলনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ননী রায় বলেন: ” লড়াইয়ে চাষীদের এই বিশাল জয় ঘোষণা করেই জয় কিষাণ আন্দোলন কিন্তু বসে থাকবেনা। আগামী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। আমরা (১) পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলার সমস্ত উদ্বাস্তু চাষী যাতে পরচা পায় তার সংগ্রাম-সংঘর্ষ শুরু করবো ও (২) ধীরেন বাবু সহ অন্য সমস্ত উদ্বাস্তু চাষী যাতে আজ অবধি বঞ্চিত সরকারি সমর্থনের বকেয়া (বাৎসরিক প্রায় ১৬,০০০ টাকা) পেতে পারে তার ব্যবস্থা করবো।”

ধীরেন রায়ের এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ ও তার সাফল্যের জন্য জয় কিষাণ আন্দোলন তাঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছে এবং বাংলার সমস্ত চাষীদের রাস্তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে।

*মিডিয়া সেল | জয় কিষাণ আন্দোলন*
যোগাযোগ: ৮৩৩৬ ৯৩৯৩৯৩