নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা;২৫ফেব্রুয়ারী: শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তার পরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিছুতেই থামতে চাইছে না তৃণমূলের। দুর্নীতির অভিযোগে অঞ্চল সভাপতিকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের।বিক্ষোভে সামিল শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্যা। অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি অঞ্চল সভাপতির। পাল্টা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। আই প্যাক কে তদন্তের আহ্বান। প্রকাশ্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত।খোঁচা বিজেপির।পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে ক্রমশ অস্বস্তি বাড়ছে শাসকদলের। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত কুশিদা অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ নুর আজমের বিরুদ্ধে এবার বিক্ষোভ এলাকার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের।কুশিদা অঞ্চলের হুসেনপুরে হয় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি। বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন হুসেনপুর বুথের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা আরাধনা সরকার। উপস্থিত ছিলেন তার স্বামী তৃণমূল নেতা অলোক পোদ্দার। হুসেনপুর এলাকায় প্রথমে তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। তারপরে প্ল্যাকার্ড হাতে মোহাম্মদ নুর আজমের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।তাদের অভিযোগ কুশিদা অঞ্চল সভাপতি তথা কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান মোঃ নুর আজম বন্যা ত্রাণ এবং আবাস যোজনা দুর্নীতিতে যুক্ত।এছাড়াও পিএইচই, হাসপাতাল সহ বিভিন্ন জায়গায় চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছে।রাতের অন্ধকারে এলাকায় এসে পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তুলছে বলেও অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের দাবি দ্রুত অঞ্চল সভাপতি পরিবর্তন করতে হবে। না তো দলের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।পঞ্চায়েত সদস্যা আরাধনা সরকার বলেন মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে সেটা আজ প্রমাণ হচ্ছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অঞ্চল সভাপতি মহম্মদ নুর আজম। পাল্টা তিনি অভিযোগ করেন অলোক পোদ্দার দুর্নীতিতে যুক্ত। ঘর দেওয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে এনে বিক্ষোভ করাচ্ছে সে।মহম্মদ নুর আজম দাবি করেন আইপ্যাক এসে তদন্ত করুক।তাহলে কে দুর্নীতিগ্রস্ত সেটা প্রমাণ হয়ে যাবে।
বেশ কিছুদিন ধরেই হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে আসছে। দলের মধ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে।এর আগেও বেশ কয়েকবার অলক পোদ্দার এবং মোঃ নুর আজমের মধ্যে সংঘাত সামনে এসেছে। গতকাল জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন এই ধরনের বিক্ষোভ বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকে বলে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু তারপরেও শনিবার বিক্ষোভের ফলে চাঞ্চল্য এলাকায়।
বিক্ষোভকারী পঞ্চায়েত সদস্যা আরাধনা সরকার বলেন, মহম্মদ নুর আজম বহু দুর্নীতিতে যুক্ত। মানুষ তাকে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে মানতে চাইছে না। তাকে পরিবর্তন না করলে দলের ক্ষতি হয়ে যাবে।
বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মী মোঃ সালাম মোস্তফা বলেন, মহম্মদ নুর আজম মনে হয় বিজেপিতে যাবে। তাই জন্য দলের মধ্যে থেকে দলের এত বড় ক্ষতি করছে। মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী বিক্ষোভকারী তৃণমূল নেতা অলক পোদ্দার বলেন, মহম্মদ নুর আজম বলেছিল আমাদের সঙ্গে মানুষ নেই। আমরা নাকি দুর্নীতি করেছি। আজ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এসে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। শোনা যাচ্ছে চাকরি দেওয়ার নাম করে পঞ্চায়েত ভোটের টিকিট দেওয়ার নাম করে সে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছে।ওকে অঞ্চল সভাপতি রাখলে সমগ্র অঞ্চলে দলকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তথা অঞ্চল সভাপতি মোঃ নুর আজম বলেন, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি দুর্নীতিও করি না দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করি না। শুধুমাত্র অলোক পোদ্দার সারা অঞ্চলে দলের ক্ষতি করছে। আমি বলব আইপ্যাক এসে সরজমিনে তদন্ত করুক। সব প্রমাণ হয়ে যাবে।
উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, এটা এখন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তৃণমূলের একাংশ আর একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছে। ভাগ বাটোয়ার নিয়ে সমস্যা হচ্ছে হয়তো। মানুষ সব দেখছে জবাব দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে।
প্রসঙ্গত হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক কে সাংগঠনিক ভাবে দুই ভাগে ভাগ করেছে তৃণমূল।চাঁচল বিধানসভার অন্তর্গত তিনটি অঞ্চলকে নিয়ে হয় একটি ভাগ। সেখানে নতুন অঞ্চল কমিটিতে বিভিন্ন অঞ্চলকেও দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও কিছুতেই থামছে না গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।ভোট যত এগিয়ে আসছে অভ্যন্তরীণ সংঘাতে জর্জরিত হচ্ছে শাসকদল।












Leave a Reply