নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা: জামাই ষষ্ঠী মানেই জামাই আদর এবং জামাই আদরের উপকরণ গুলো টেলিভিশনের পর্দা থেকে শুরু করে বাস্তবে সর্বত্রই যেনো আলোচনার মুখ্য প্রতিপাদ্য বিষয় । আর কেউ নতুন জামাই হলে তো এক্কে বারে সোনায় সোহাগা ; চিকেন , মটন , ইলিশ, পাবদা , চিংড়ি থেকে শুরু করে আম, জাম, কাঁঠাল আরো কতো কিছু । যদিও জামাই পক্ষ এবং তার শ্বশুর বাড়ির পক্ষ — উভয় তরফ থেকেই একে অন্যকে কিছু উপঢৌকন দেবারও কিছু রীতিনীতি রয়েছে ।
তবে খাদ্য রসিক জামাইদের ব্যায়বহুল মধ্যাহ্নের খাদ্য তালিকার দিকে নজর না দিয়ে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো জলখাবার বা টিফিনের খাদ্য খাবার বিষয়ক। ষষ্ঠীর দিনে অনেক পরিবারেই আটা ময়দার রুটি , লুচি , কচুরি ও পরোটা মধ্যাহ্নের আহার হিসাবে খাবার রেওয়াজ রয়েছে । সকালেও অনেকেই বিশেষ করে এই দিন কচুরি বা লুচি টিফিন হিসাবে খেয়ে থাকেন ।
তবে এই জামাই ষষ্ঠী র দিনে মুখের স্বাদ বদলে একটু কচুরির গল্পে আসা যাক । শান্তিপুরে পুরোনো কচুরি র দোকান গুলির মধ্যে সর্ব প্রাচীন ও জনপ্রিয়তম একটা দোকান হলো ডাকঘর মোড়ের চন্দনের কচুরীর দোকান । বর্তমানে এই দোকানের মালিক চন্দন প্রামাণিক প্রয়াত হয়েছেন । তার পুত্র অনিরুদ্ধ প্রামাণিক ওরফে পিন্টু বর্তমানে এই দোকানের কর্মকর্তা । হিংয়ের কচুরি মানেই স্বাদে ও গন্দে শান্তিপুরের চন্দনের কচুরী র নাম বহুল প্রচারিত । এই দোকানের কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ ওরফে পিন্টু আমাদের সংবাদ মাধ্যমকে জানাচ্ছেন মোটর ডালে র ব্যাসমের সাথে হিং, খাবার সোডা , লবণ মিশিয়ে কচুরির পোর তৈরি করা হয় , বর্তমানে কচুরি এবং ডালপুরি প্রতি পিস পাঁচ টাকা । তবে এই দোকানের আরো একটি অভিনব খাবার ছিল ফুলুরি তরকারির ঝোলের ভিতরে ফেলে খাওয়া । এই ব্যাপারেই এই দোকানের বর্তমান কর্মকর্তা পিন্টু প্রামাণিক আমাদের যা জানালেন আমরা দেখে নেবো এক নজরে ।
শান্তিপুর নেতাজি মোড় নিকটস্থ রাজু দাস নামে অপর এক কচুরি বিক্রেতা জানাচ্ছেন জামাই ষষ্ঠীর দিনে কচুরীর মার্কেট যথেষ্ঠ ভালো । তিনি আরও জানাচ্ছেন তার কাছে প্রতি পিস কচুরির দাম পাঁচ টাকা , তিনি সকাল সাত টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত এই ব্যাবসায়িক কর্মে নিযুক্ত থাকেন ।
অন্যদিকে শান্তিপুর ডাকঘর বাস স্ট্যান্ড নিকটস্থ অঞ্চল থেকে বাপি দাস নামের আরও এক কচুরি ব্যাবসায়ী জানাচ্ছেন তার কাছেও প্রতি পিস কচুড়ির দাম পাঁচ টাকা , সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত তিনি এই ব্যাবসায়িক কর্মে লিপ্ত থাকেন , বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ বিষয় হলো মধ্যাহ্নের আহার করার সময়েও অনেকই তার কাছে কচুরি খেতে আসেন , যেটা সচরাচর সেভাবে চোখে পড়ে না , তার কচুড়ীর সাথে তরকারি ছাড়াও কাসুন্দি , সস , শশা দেওয়া হয় খাবারের স্বাদকে আরো রুচিশীল করে তুলতে ।
আবার বাইগাছি পাড়ায় দুলাল দাসের দোকানে ১০ টাকায় চার পিস লুচি পাওয়া যায় , সাথে শশা কুচি , এবং শস দেওয়া হয় । এই খাবার পাওয়া যায় সকাল থেকে প্রায় দুপুর ১২ টা পর্যন্ত , অন্যদিকে সন্ধ্যাবেলাতেও এই খাবারের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয় । তবে প্রত্যেকটি দোকানেই কচুরি , লুচি বা ডালপুরীর সাথে তরকারি যাই হোক, সেটা একেবারে বিনামূল্যে ।
এই সকল দোকান গুলি ছাড়াও শান্তিপুর শহরের শুত্রাগর অঞ্চলে ষড়ভুজ বাজার নিকটস্থ এলাকায় প্রায় ১০ থেকে বারো টির বেশী দোকানে সকালে কচুরি , ডালপুরি, লুচি এবং কোথাও পরোটা বিক্রয় করা হয় । এই অঞ্চলে প্রত্যেকটি দোকানেই যথেষ্ঠ ভালো ব্যাবসা হয় বলেই বিশেষ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে । যদিও দিপে ময়রার দোকান সহ শহরের বেশ কিছু খ্যাতনামা দোকানের কর্মকর্তারা আমাদের সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হন নি তাদের ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা বজায় রাখার তাগিদে।
জামাই ষষ্ঠীর দিনে কচুরীর মার্কেট যথেষ্ঠ ভালো ।












Leave a Reply