স্মৃতিই আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু :: রাণু সরকার।।

আমার স্ত্রীকে ভীষণ ভালোবাসতাম জানেন-
হঠাৎই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লো, নিয়ে গেলাম চিকিৎসকের কাছে বললেন আপনার স্ত্রী মারা গেছেন।
সেখানেই আমি বাকরুদ্ধ হলাম, অনেকেই নানারকমের নিরর্থক ফালতু কথা বলে কানে আসছে কিন্তু উত্তর দেবার শারীর ক্ষমতা ছিলো না, যাইহোক
নিয়ে গেলাম দাহ করতে চিতায় তুলেদিলাম আমি ও আর কয়েকজন মিলে,
প্রবল ভাবে আগুন জ্বলছে, অব্যক্ত আওয়াজ বিভিন্ন রকমের যেন কিছু বলতে চাইছে কানে আসছে আমার।

আমার দু’চোখ ভেসে যাচ্ছে চলে বাকরুদ্ধ নিশ্চল যাকে পাথর বলে-
অনেক শুভাকাঙ্খী পাশ থেকে বলছে পুরুষ মানুষ কাঁদে নাকি আরে বাবা ভাগ্যবানের বৌ মরে- একটা বিয়ে করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে, কতদিন একা থাকা যায়- এভাবে কতদিনই বা চলে,
ওরা কেউ বুঝলোনা যে পুরুষেরও হৃদয়ে কষ্ট আছে,
আচ্ছা বলুন তো শুধু কি নারীদের কষ্ট হয়?
পুরুষের কি কোন কষ্ট থাকতে নেই?
সব পুরুষ,নারী কি কামাতুর হয়? সেটা কে বোঝাবে-সব পুরুষ কি অত্যাচারী হতে পারে না?
আমাদের মধ্যে অনেকের জানা নেই-
স্ত্রী বিয়োগে কোন কোন পুরুষ নারীর মত বৈধব্য দশা পালন করেন-
অনেক প্রতিবেশী সমালোচনার বৈঠক বসায়।

যখন চিতার আগুন নিভে আসচ্ছিল তখন মনের আগুন জ্বলছিলো দাউদাউ করে স্মৃতি গুলো আক্রে ধরে, পরিজনেরা বলে এতো ভেঙে পড়লে চলবে? যেটা হওয়ার সেটা হয়েছে– তার মানে পুরুষের শোক বা আর্তনাদে উচ্চ ধ্বনী করতে নেই বা ভেঙে পড়তে নেই। তবে কি পুরুষের সব কিছুতেই মানা?কেন কেউ বোঝেনা পুরুষের ও নিরাশায় বুক ফাটে।

কারো সোহাগ মাখা প্রেমে সে মাখতে চায় না সিঁদুর তার সাদা সার্টে,
সব কাজ সম্পন্ন হলো এবার ঘরে ফিরতে হবে,
নিঃসঙ্গ একা তার স্মৃতি হৃদয়ে রেখে কর্ম করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *