পথ কুকুরকে লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পথে বসে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা।।

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- প্রকাশ্য দিবালোকে একটি পথ কুকুরকে লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পথে বসে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। শুক্রবার দুপুরে অতনু দাস নামের অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেফতারি দাবিতে কৃষ্ণনগর শহরের প্রাণকেন্দ্র কালেক্টারির মোড়ে রাস্তার উপরে বসে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসীরা। অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ও বেশ কিছুক্ষণ কৃষ্ণনগরে পথ অবরোধ চলে। পরে পুলিশের অশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। প্রসঙ্গত, গত রবিবার সকালে কৃষ্ণনগর পৌরসভার চাষাপাড়া এলাকার প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা একটি পথ কুকুরকে লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে ওই এলাকার বাসিন্দা অতনু দাস ওরফে রানার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমাজ মাধ্যমে। সেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিন্দার ঝড় উঠতে শুরু করে সমাজ মাধ্যমে। পাশাপাশি অভিযুক্ত অতনু দাসের গ্রেপ্তারির দাবি জানিয়ে পথে নেমে বিক্ষোভ দেখায় এলাকাবাসীরা। অতনু দাসের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় কোতোয়ালি থানায়। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অতনু দাস (রানা) নামের ওই ব্যক্তি এলাকায় পশুপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি ওই ব্যক্তি শহরের বিভিন্ন এলাকায় অসুস্থ কুকুরদের শুশ্রসা করত বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তাঁর এই অমানবিক আচরণে স্বাভাবিক ভাবেই অবাক হয়েছেন এলাকাবাসীরা। যদিও পথ কুকুরটি রেবিস রোগে আক্রান্ত ছিল, অতনু দাস তাঁর চিকিৎসা করার চেষ্টা করলে, কুকুরটি তাঁকে কামড়ানোর চেষ্টা চালায়, সেই সময় নিজেকে বাঁচাতে অতনু তাঁকে মারে বলে দাবি অভিযুক্ত অতনু দাসের ঘনিষ্ট মহলের একাংশের। অভিযোগের পরেও কেন অতনু দাসকে এখনো গ্রেপ্তার করা হলো না মূলত সেই দাবিতেই শুক্রবার দুপুরে কালেক্টারি মোড় এলাকায় রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শহরের পশুপ্রেমী ও এলাকাবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের কথায় কাজ না হলে ভিক্ষুক কারী তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে বিক্ষোভকারী পশু প্রেমী নিশা বিশ্বাস জানান, এটি একটি খুনের ঘটনা, মৃত কুকুরটি রেবিস আক্রান্ত ছিল বলে যে দাবি করা হচ্ছে তার সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে অপরাধীর গ্রেপ্তার চাই। পুলিশ অপরাধীকে গ্রেপ্তার না করলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *