মানবিক মুখ বাঁকুড়া জেলা পুলিশের: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কলম ও পরীক্ষা সামগ্রী উপহার দিয়ে উৎসাহিত করলেন জয়পুর থানার ওসি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জয়পুর: পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এক মানবিক ও সংবেদনশীল ছবি ধরা পড়ল। জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগে এবং জয়পুর থানার ব্যবস্থাপনায় সোমবার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে এক অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জয়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) কৌশিক হাজরা স্বয়ং পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষার্থীদের হাতে কলম, পরীক্ষার বোর্ড ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন।
সোমবার সকালে জয়পুর থানার উত্তরবাড় এলাকার বৈতল গোপেশ্বর পাল বিদ্যাপীঠ পরীক্ষা কেন্দ্রে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা মোট ২৩৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ওসি কৌশিক হাজরার পাশাপাশি এদিন উপস্থিত ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর (SI) নাড়ু গোপাল মণ্ডল সহ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা।
সাধারণত পরীক্ষা কেন্দ্র মানেই কড়া নিরাপত্তা এবং পুলিশের টহলদারি—এমন এক পরিচিত ছবির বাইরে বেরিয়ে জয়পুর থানা কর্তৃপক্ষ এবার পরীক্ষার্থীদের মন থেকে ভয় দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে। পর্ষদের নির্দেশিকা মেনে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও, পরীক্ষার্থীরা যাতে হাসিমুখে এবং নির্ভয়ে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
কেবল উপহার প্রদানই নয়, পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে জয়পুর থানা। এলাকাটিকে সম্পূর্ণ শব্দদূষণমুক্ত রাখার জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এছাড়া, দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীরা যাতে যানজটে না পড়ে এবং সঠিক সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষারত অভিভাবকদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে পানীয় জল এবং বসার জায়গার (অপেক্ষাগার) সুব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পুলিশের এই ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয় পক্ষই। পরীক্ষার্থী সফিকুল খাঁ, নাজিরা সেখ ও অদিতি ঘোষ জানায়, “পরীক্ষার শুরুর আগে পুলিশের কাছ থেকে এভাবে শুভেচ্ছা এবং কলম-বোর্ড পাওয়ায় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে গেছে। যাতায়াতের নিরাপত্তা এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।” অন্যদিকে, ফায়জুল হক ও বিপিন চক্রবর্তীর মতো অভিভাবকরা পুলিশের এই সংবেদনশীল মানসিকতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “সাধারণত পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা থাকে, কিন্তু এবার জয়পুর থানার তৎপরতায় পানীয় জল থেকে শুরু করে বসার জায়গা—সবকিছুরই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
জয়পুর থানার ওসি কৌশিক হাজরা এ প্রসঙ্গে বলেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ও অনুপ্রেরণায় আমরা ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। পরীক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ। তারা যেন কোনো প্রকার মানসিক চাপ ছাড়াই শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা প্রতিটি পরীক্ষার্থীর সাফল্য কামনা করি।”
পুলিশের এই ইতিবাচক ভূমিকা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, পুলিশের এই ধরনের উদ্যোগ ছাত্র-পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে এক সুন্দর সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *