চুঁচুড়ায় ভোট-পরবর্তী উত্তেজনা অব্যাহত, প্রাক্তন কাউন্সিলরের বাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ।

হুগলী, নিজস্ব সংবাদদাতা:- চুঁচুড়ায় ভোট-পরবর্তী অশান্তি থামার নাম নেই। ফলাফল প্রকাশের নয় দিন পরেও উত্তেজনা অব্যাহত শহরের বিভিন্ন এলাকায়। বুধবার গভীর রাতে ফের আতঙ্কের ঘটনা ঘটল চুঁচুড়ার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ, প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সৌমিত্র ঘোষ ওরফে রামুর বাড়ির দোতলা লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা পাথর ছোড়ে। ঘটনায় ভেঙে যায় জানালার কাঁচ। সেই সময় জানালার পাশের খাটে ঘুমিয়ে ছিল সৌমিত্রর সাত বছরের কন্যা। আচমকা বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় শিশুটির। আতঙ্কে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।
পরিবারের দাবি, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই লাগাতার ভয়ের মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের। সৌমিত্র ঘোষ জানান, এর আগেও একবার তাঁদের বাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছিল। সেবার লোহার গ্রিল থাকায় বড় ক্ষতি হয়নি। কিন্তু এবার সরাসরি কাঁচ ভেঙে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ঘরছাড়া হতে হবে। গোটা পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সৌমিত্র ঘোষের বাড়িতে পৌঁছন প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার। সেখান থেকেই তিনি চুঁচুড়া থানায় ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান। পাশাপাশি সৌমিত্র ঘোষকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন।
অসিত মজুমদার বলেন, “বিজেপির সভাপতি থেকে মুখ্যমন্ত্রী— সকলেই অশান্তি বরদাস্ত না করার কথা বলছেন। তারপরেও এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, ঘটনাকে ঘিরে ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ-এর গলায়। তিনি দাবি করেন, সৌমিত্র ঘোষের নিজের এলাকাতেই গ্রহণযোগ্যতা নেই। কয়েকদিন আগেই তাঁর পার্টি অফিস দখল হয়ে গিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বিধায়ক। সুবীর নাগের বক্তব্য, “আমি নিজে পার্টি অফিস খুলতে গিয়েছিলাম। তখন এলাকার মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। আমার মনে হয় এটা হয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নয়তো নিজের লোক দিয়েই ভাঙচুর করিয়ে হাইলাইট হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তবে একই সঙ্গে বিধায়কও জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হবে। তাঁর বক্তব্য, “প্রকৃত বিজেপি কর্মীরা এই ধরনের কাজ কখনও করতে পারেন না।”
ভোট-পরবর্তী উত্তেজনার আবহে ফের এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চুঁচুড়া শহরে। রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *