
প্রকাশ কালি ঘোষাল, হাওড়া :- সাঁকরাইল বিধানসভার বানুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট সদস্য সংখ্যা ১২ এর মধ্যে সাতটি তৃণমূলের চারটি বিজেপির। ১ নম্বর পঞ্চায়েতে আবর্জনা ফেলার জায়গার না থাকায় আবর্জনা ফেলা নিয়ে এলাকাবাসীর সমস্যা দীর্ঘদিনের।
বানুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে আবর্জনা পরিষ্কারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপির অঞ্চল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘সস্তার রাজনীতি’ এবং ‘মিথ্যা প্রচার’-এর অভিযোগ তুললেন পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান রাজকুমার গুপ্তা। শনিবার গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি ও প্রধান অঞ্জলি কুমারী রাম বিজেপির সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বিজেপির অঞ্চল নেতৃত্ব বানুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে আবর্জনা পরিষ্কার-সহ একাধিক দাবি নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের আন্দোলন ও ডেপুটেশনের ফলেই এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে উপ-প্রধান রাজকুমার গুপ্তা বলেন, “যে বিষয়গুলি নিয়ে বিজেপি ডেপুটেশন জমা দিতে এসেছিল, সেগুলি নিয়ে পঞ্চায়েতের আগেই পরিকল্পনা ছিল। ডেপুটেশন জমা দেওয়ার দু’দিনের মধ্যেই আমরা কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই কাজ বাস্তবায়িত হওয়ার পর বিজেপি তার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপির নেতৃত্ব দাবি করেছে যে আগামী দু’মাসের মধ্যে পঞ্চায়েত সঠিকভাবে কাজ না করলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে। এ প্রসঙ্গে রাজকুমার গুপ্তার বক্তব্য, “আমরা মানুষের জন্য কাজ করি, কোনও রাজনৈতিক দলের জন্য নয়। উন্নয়নের প্রশ্নে পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্যদের সঙ্গেও আমরা মিলেমিশে কাজ করি। অথচ এখন রাজনৈতিক স্বার্থে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
পঞ্চায়েত প্রধান অঞ্জলি কুমারী রাম বলেন, বানুপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা নেই। এটি একটি পুরনো সমস্যা। ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের পর সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে আবর্জনা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি একটি বেসরকারি এনজিওর মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের ব্যবস্থাও চালু করা হয়। যদিও সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবুও সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য পঞ্চায়েত ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে বলে দাবি তাঁর।
পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিজেপির সদস্যরা এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁদের মতে, উন্নয়নের কাজকে রাজনৈতিক রঙ না দিয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসাই উচিত।












Leave a Reply