দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার: এক নজরে সব বড় মন্তব্য।

প্রশ্ন ১: কলকাতায় তাসলিমা নাসরিনের আগমন নিয়ে আপনার মত?
দিলীপ ঘোষ: ওনাকে স্বাগত। কলকাতা সবসময়ই বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের জন্য উন্মুক্ত শহর। অতীতেও বহু মানুষ এখানে এসেছেন, ভবিষ্যতেও আসবেন। একসময় পশ্চিমবঙ্গে মৌলবাদের প্রভাব বেড়েছিল, কিন্তু মানুষ তা থেকে মুক্ত হয়েছে। কলকাতার মানুষ তাসলিমা নাসরিনের কথা শুনতে আগ্রহী।

প্রশ্ন ২: মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইস্কনের হাতে, পিঙ্ক কার্ড ও নাইট বাস চালু—আপনার প্রতিক্রিয়া?
দিলীপ ঘোষ: এগুলো অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রী আগেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। রাতের শহরে এখন মানুষের যাতায়াত বেড়েছে, মহিলারা নিরাপদে বেরোতে পারছেন। আগের সরকার মহিলাদের রাতে বেরোতে নিরুৎসাহিত করত, রাজ্যকে মধ্যযুগের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। নতুন সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রশ্ন ৩: কলকাতা–কল্যাণী পিঙ্ক মেট্রো প্রকল্প নিয়ে কী বলবেন?
দিলীপ ঘোষ: গত ৫০ বছরে প্রকল্পের নামে শুধু শিলান্যাস হয়েছে, কাজ এগোয়নি। কলকাতা মেট্রো দেশের প্রাচীনতম হলেও আজ দিল্লি ও বেঙ্গালুরু অনেক এগিয়ে গেছে। এতদিনে মেট্রো বারুইপুর ও কল্যাণী পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত ছিল। মেট্রো মানুষের জীবনকে গতিশীল করে। কিন্তু এই নিয়ে রাজনীতি হয়েছে, চিংড়িঘাটায় ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ আটকে রাখা হয়েছিল। তৃণমূল রাজ্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিয়েছে। আমাদের সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে কাজ শুরু করেছে।

প্রশ্ন ৪: জনগণনা ও স্ব-শুমারি শুরু হওয়া নিয়ে আপনার মন্তব্য?
দিলীপ ঘোষ: গত বছর থেকেই সারা দেশে জনগণনা শুরু হয়েছে, কিন্তু এই রাজ্যে তা আটকে রাখা হয়েছিল। সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ গেছে। শেষ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে—গত ১৫ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সরকারের কাছে তার তথ্য নেই। এভাবে চললে সরকারি প্রকল্প ব্যর্থ হবে। তাই নতুন সরকার জনগণনা শুরুর অনুমতি দিয়েছে।

প্রশ্ন ৫: বর্ধমানে জঙ্গি স্লিপার সেল প্রসঙ্গে কী বলবেন?
দিলীপ ঘোষ: দেশ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। অতীতে কেন্দ্রের সরকার সন্ত্রাসবাদী দেশের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। পাকিস্তান-স্পন্সর সন্ত্রাস চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছি, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছি। দেশের শীর্ষ নেতাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে—কিন্তু এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে শক্ত সরকার আছে। যেখানে জঙ্গি পাওয়া যাবে, মূলসহ উপড়ে ফেলা হবে।

প্রশ্ন ৬: নিরাপত্তা নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত অবস্থান কী?
দিলীপ ঘোষ: আমি সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করি। যদি আমরা ভয়ে ঘরে বসে থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে রাস্তায় বেরোবে? আমি নিজে বহুবার তৃণমূলের সন্ত্রাসের শিকার হয়েছি, কিন্তু আমাকে কেউ থামাতে পারেনি। ভগবান যতদিন আয়ু দিয়েছেন, তার আগে কেউ কিছু করতে পারবে না।

প্রশ্ন ৭: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শুক্রবারিয়া’ কবিতা নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া?
দিলীপ ঘোষ: আমি জানি না কেন তাঁর শুক্রবার নিয়ে এত আকর্ষণ। এমনকি পরিবারের সদস্যদের নামও সেই প্রভাবেই রাখা হয়েছে। বাংলার সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে বদলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের উন্নয়নে কোনও ইতিবাচক কাজ করা হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে।

প্রশ্ন ৮: NEET আন্দোলন নিয়ে আপনার মন্তব্য?
দিলীপ ঘোষ: প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু অর্বাচীন গালিগালাজ করেছে, তাদের পিছনে কিছু শক্তি কাজ করেছে। কিশোর পড়ুয়ারা অনেক সময় না বুঝে এই ফাঁদে পা দেয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার লোভে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কলুষিত করা হয়েছে। যারা এর পিছনে রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অনেকেই নিজেদের ভুল বুঝে ক্ষমা চাইছে।

প্রশ্ন ৯: মিনার মণ্ডল কেস নিয়ে কী বলবেন?
দিলীপ ঘোষ: একসময় ইডি এই মামলার দায়িত্ব নিয়েছিল, কিন্তু সহযোগিতা না পাওয়ায় এগোতে পারেনি। এখন পুলিশ তদন্ত করছে। কাউকে ছাড়া হবে না, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপসংহার:
দিলীপ ঘোষের এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে রাজ্যের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, রাজনীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক তীব্র মন্তব্য ও অবস্থান। নতুন সরকারের কাজ, পুরনো সরকারের সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *