
পরিচিতি:- আলু পোস্ত বাঙালি রান্নার এক অত্যন্ত জনপ্রিয় নিরামিষ পদ। খুব সাধারণ উপকরণ দিয়ে তৈরি হলেও এর স্বাদ অসাধারণ। পোস্তদানার মিহি পেস্ট এবং আলুর অনবদ্য মেলবন্ধন এই পদকে বাঙালির দৈনন্দিন খাবারের অন্যতম প্রিয় রেসিপিতে পরিণত করেছে। গরম ভাতের সঙ্গে আলু পোস্ত মানেই এক স্বর্গীয় অনুভূতি।
উপকরণ (৪ জনের জন্য)
আলু – ৫টি মাঝারি (চৌকো করে কাটা)
পোস্তদানা – ৬ টেবিল চামচ
কাঁচা লঙ্কা – ৫–৬টি
কালোজিরে – ½ চা চামচ
সরিষার তেল – ৪ টেবিল চামচ
হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
লবণ – স্বাদমতো
জল – প্রয়োজনমতো
প্রণালী
১. পোস্তদানা ৩০ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ৩–৪টি কাঁচা লঙ্কা দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করুন।
২. আলু ধুয়ে চৌকো টুকরো করে কেটে নিন।
৩. কড়াইয়ে সরিষার তেল গরম করে কালোজিরে ও দুটি চেরা কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন।
৪. এবার আলু দিয়ে মাঝারি আঁচে ৪–৫ মিনিট ভাজুন।
৫. চাইলে সামান্য হলুদ গুঁড়ো যোগ করতে পারেন, তবে অনেকেই আলু পোস্তে হলুদ ব্যবহার করেন না।
৬. আলু অল্প ভাজা হয়ে গেলে পোস্ত বাটা ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
৭. অল্প গরম জল দিন যাতে মশলা পুড়ে না যায়।
৮. ঢেকে ১০–১২ মিনিট রান্না করুন। মাঝে মাঝে নেড়ে দিন।
৯. আলু নরম হয়ে এলে এবং পোস্তর মাখামাখা ঝোল তৈরি হলে চুলা বন্ধ করুন।
১০. উপর থেকে একটি কাঁচা লঙ্কা চিরে দিয়ে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন।
পরিবেশন
গরম সাদা ভাতের সঙ্গে আলু পোস্ত পরিবেশন করুন। সঙ্গে মুসুর ডাল বা বিউলির ডাল থাকলে খাবারের স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
কিছু টিপস
পোস্ত যত মিহি বাটা হবে, স্বাদ তত ভালো হবে।
সরিষার তেল ব্যবহার করলে আসল বাঙালি স্বাদ পাওয়া যায়।
বেশি জল দেবেন না, আলু পোস্ত সাধারণত মাখামাখা হয়।
পুষ্টিগুণ
পোস্তদানায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। আলু শরীরে শক্তি জোগায় এবং পোস্তর সঙ্গে মিলিয়ে এটি একটি পুষ্টিকর নিরামিষ পদ হয়ে ওঠে।
রন্ধন-ঐতিহ্য
আলু পোস্ত পশ্চিমবঙ্গের ঘরোয়া রান্নার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বহু বাঙালি পরিবারের দুপুরের খাবারে আজও এই পদ নিয়মিত রান্না হয়। এর সহজ প্রস্তুতি এবং অনন্য স্বাদের জন্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি সমান জনপ্রিয়।












Leave a Reply