
পরিচিতি— দম আলু বা আলুর দম বাঙালির অন্যতম জনপ্রিয় নিরামিষ পদ। ছোট আলু, সুগন্ধি মশলা এবং ঘন মাখামাখা ঝোল দিয়ে তৈরি এই রেসিপি লুচি, কচুরি, পরোটা কিংবা পোলাও—সব কিছুর সঙ্গেই দারুণ মানিয়ে যায়। বিশেষ করে দুর্গাপূজা, জন্মদিন, অন্নপ্রাশন, বিয়ে বা ঘরোয়া নিরামিষ ভোজে দম আলু একটি অপরিহার্য পদ। ধীরে ধীরে কম আঁচে বা “দমে” রান্না করা হয় বলেই এর নাম হয়েছে দম আলু।
উপকরণ (৪–৫ জনের জন্য)—
ছোট আলু – ৫০০ গ্রাম
টক দই – ½ কাপ
পেঁয়াজ বাটা – ½ কাপ
আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ
টমেটো বাটা – ২টি
কাজুবাদাম বাটা – ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
তেজপাতা – ২টি
দারুচিনি – ১ টুকরো
এলাচ – ৩টি
লবঙ্গ – ৩টি
ঘি – ১ টেবিল চামচ
সরিষার তেল বা সাদা তেল – ৪ টেবিল চামচ
চিনি – ১ চা চামচ
লবণ – স্বাদমতো
গরম জল – ১½ কাপ
প্রণালী—-
১. ছোট আলুগুলো ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ সেদ্ধ করুন। ঠান্ডা হলে খোসা ছাড়িয়ে কাঁটাচামচ দিয়ে হালকা ফুটো করে নিন।
২. আলুতে সামান্য হলুদ ও লবণ মাখিয়ে তেলে হালকা সোনালি করে ভেজে তুলে রাখুন।
৩. একই কড়াইয়ে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফোড়ন দিন।
৪. পেঁয়াজ বাটা দিয়ে মাঝারি আঁচে সোনালি হওয়া পর্যন্ত কষান।
৫. আদা বাটা, টমেটো বাটা, ধনে, জিরা, হলুদ ও কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে তেল ছাড়া পর্যন্ত ভালোভাবে কষান।
৬. আঁচ কমিয়ে ফেটানো দই ও কাজুবাটা মিশিয়ে দ্রুত নাড়তে থাকুন যাতে দই না ফেটে যায়।
৭. ভাজা আলু মশলার মধ্যে দিয়ে ৪–৫ মিনিট কষিয়ে নিন।
৮. গরম জল ঢেলে ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ১০–১২ মিনিট দমে রান্না করুন।
৯. ঝোল ঘন হয়ে এলে চিনি, গরম মশলা গুঁড়ো ও ঘি মিশিয়ে আরও ২ মিনিট রান্না করুন।
১০. চুলা বন্ধ করে ৫ মিনিট ঢেকে রেখে তারপর পরিবেশন করুন।
পরিবেশন–
গরম লুচি, কচুরি, রাধাবল্লভী, পরোটা, নান অথবা বাসন্তী পোলাওয়ের সঙ্গে দম আলু পরিবেশন করুন। উপর থেকে ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিলে দেখতে আরও আকর্ষণীয় লাগে।
কিছু টিপস
ছোট আলু ব্যবহার করলে দম আলুর স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়।
দই দেওয়ার সময় আঁচ কম রাখুন, নইলে দই কেটে যেতে পারে।
শেষে সামান্য ঘি যোগ করলে সুগন্ধ ও স্বাদ অনেক বেড়ে যায়।
চাইলে সামান্য কাসুরি মেথি চূর্ণ করে যোগ করতে পারেন।
পুষ্টিগুণ—-
আলুতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং খাদ্যআঁশ। দই শরীরে ক্যালসিয়াম ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া সরবরাহ করে, যা হজমে সহায়তা করে। পরিমিত পরিমাণে খেলে এই পদটি শক্তিদায়ক ও তৃপ্তিদায়ক।
রন্ধন-ঐতিহ্য—
দম আলুর উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও বাংলা ও উত্তর ভারত—উভয় অঞ্চলের রান্নায় এই পদ বিশেষভাবে জনপ্রিয়। বাঙালি ঘরানার দম আলুতে হালকা মিষ্টি স্বাদ, ঘন মশলার ঝোল এবং সুগন্ধি গরম মশলার ব্যবহার একে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। আজও এটি বাঙালির উৎসবের রান্নার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।












Leave a Reply