আর শুধু ডিম নয়,এবার থেকে “মা” ক্যান্টিনের খাবারের পাতে মিলবে মাছের ঝোলও,মেদিনীপুর শহরে চালু হলো দুটি “মা” ক্যান্টিন।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আর শুধু ডিম নয়,এবার থেকে “মা” ক্যান্টিনের খাবারের পাতে মিলবে মাছের ঝোলও। আর্থিকভাবে দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের জন্য রাজ্য সরকারের জনপ্রিয় ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পে এই নতুন সংযোজনকে ঘিরে খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরে। সোমবার, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম দিবস উপলক্ষে থেকে মেদিনীপুর শহরের দুটি মা ক্যান্টিনে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে মাত্র ৫ টাকায় মাছ-ভাত পরিবেশন।
মেদিনীপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জনকল্যাণ ভবন এবং মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত রাজীব গান্ধী পুর নিলয়ম—এই দুটি কেন্দ্রেই সোমবার থেকে গ্রাহকদের মাছ-ভাত পরিবেশন শুরু হয়েছে। এতদিন এই ক্যান্টিনগুলিতে মূলত ডিম-ভাত বা নিরামিষ খাবার দেওয়া হতো। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মাছের ঝোল, যা সাধারণ মানুষের কাছে আরও পুষ্টিকর ও আকর্ষণীয় খাবার হিসেবে ধরা হচ্ছে।
মেদিনীপুর পুরসভার প্রধান সৌমেন খান জানান, নতুন মেনু অনুযায়ী সপ্তাহে দুদিন মাছ, চারদিন ডিম এবং একদিন নিরামিষ আহার পরিবেশন করা হবে। তিনি বলেন, “আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ, হাসপাতালের রোগীর পরিজন, দিনমজুর, শ্রমজীবী ও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্প মূল্যে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর পরিবারের সদস্যদের অনেক সময় বাইরে হোটেলে খাবার কেনার সামর্থ্য থাকে না। তাঁদের জন্য হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত রাজীব গান্ধী পুর নিলয়মের মা ক্যান্টিন দীর্ঘদিন ধরেই আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। মাত্র ৫ টাকায় ভরপেট খাবার পাওয়ায় বহু মানুষ এখানেই দুপুরের আহার সেরে নেন।
অন্যদিকে, মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের জনকল্যাণ ভবনের মা ক্যান্টিনেও প্রতিদিন বহু যাত্রী, শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা দুপুরের খাবার খান। এতদিন ডিম বা নিরামিষ তরকারি থাকলেও সোমবার থেকে প্রথমবারের মতো মাছের ঝোল পরিবেশন করা হয়। খাবারের পাতে মাছ দেখে অনেকেই আনন্দ প্রকাশ করেন এবং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
গ্রাহকদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমান বাজারদরে মাছ কেনা অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়েছে। সেখানে মাত্র ৫ টাকায় ভাতের সঙ্গে মাছের ঝোল পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির বিষয়। তাঁদের মতে, এতে শুধু পেটই ভরবে না, পুষ্টির চাহিদাও অনেকটাই পূরণ হবে।
মেদিনীপুর পুরসভার এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করেছেন। স্বল্প মূল্যে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে মা ক্যান্টিনের এই নতুন সংযোজন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *