এনকাউন্টার, মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ ও রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ, তৃণমূলকে তীব্র নিশানা।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এনকাউন্টার বিতর্ক, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিতর্ক এবং দলীয় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

১) বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন সকালে জমা বিকেলে খরচ।

এনকাউন্টার হয়েছে বাংলায় প্রথমবার। নকশাল আমলে অতীতে হতো। আমরা এনকাউন্টার করতে চাইনা। কিন্তু বিহার উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমজনতা কে শান্তি দিয়েছে। তখন এখানে তৃণমূল সরকার ছিল। যারা অন্য রাজ্যের এনকাউন্টারের বিরোধিতা চালিয়ে গেছে। তারা দুষ্কৃতীদের মাথায় তুলে রেখেছিল। তাই আজ বাংলার এই অবস্থা। বাংলার পুলিশ চাইলে সব পারে। আমরা সেটাই ভুলতে বসেছিলাম। পুলিশ হিম্মত করেছে। মানুষের আশা আকাঙ্খা অগ্রাধিকার দিয়েছে। অপরাধে আমরা জিরো টলারেন্স। অপরাধী ধরা এবং পালানোর চেষ্টা করায় নিকেশ করতে দ্বিধা করেনি। অপরাধ দমনে পুলিশের হাত আর কাঁপবে না। সরকার আর পিছিয়ে যাবেনা এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে স্পটে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করতে হয়। বিরোধীরা ওখানে ফটো তুলতে গেছে। আর সরকার কাজ করে দেখিয়েছে।

৩) এনকাউন্টার ঘিরে মায়ের থেকে মাসির দরদ বেশি।

এরা বুদ্ধিজীবীর নামে সমাজবিরোধী। এদের নিজের ইমেজ আর নাম ছাড়া কিচ্ছু লাগে না। যখন অপরাধ হয়েছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন। আবার অপরাধী সাজা পেলে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন। ডিম এই সব বুদ্ধিজীবীদের মাথায় ভাঙ্গুন। এদের বুঝিয়ে দিন। অপরাধী এবং অপরাধের পাশে দাঁড়ানো এইসব মানুষকে সমান ট্রিটমেন্ট দিন।

৩) কাল মমতার বাড়ির সামনে ফাইল চোর গান এবং মমতার মিছিলে হামলা।

কাল মাননীয়া একজনকে থাপ্পড় মারলেন। ওনার তার কেটে গেছে। এতদিন কয়েকটা তার কাটা ছিল। কাল দেখলাম সব তার কেটে গেছে। ক্ষমতায় থেকে চোখ রাঙানো যায়। বিরোধী থেকে ধৈর্য ধরতে হয়। শুধু ড্রামা করলে হয়না। এতদিন ড্রামা করেছেন। আপনি লড়াই করুন। আমরাও তো লড়াই করেছি। আমাদের রাস্তায় আটকেছেন। গাড়ি ভেঙেছেন। খেলা হবে গান মাইকে বা ডিজে দিয়ে বাজিয়েছেন। সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না। *কাল আমাদের ছেলেরা একটু গান টান বাজিয়েছে। নাচ টাচ করেছে। জিতেছি আমরা একটু নাচব না? তোমার বাড়ির বিছানায় গিয়ে তো নাচিনি। যদি প্রয়োজন হয় সেটাও করব।*

৪) এনকাউন্টার নিয়ে অনেক ফাঁক অনেক প্রশ্ন বিরোধীদের।

আর কি কি দেখাবো? আর কি কি ওরা দেখতে চায়? ছোটবেলায় একটা গান শুনতাম দেখাবো নাকি। সেই গান ওরা শুনতে চাইছেন? সবকিছুর একটা শেষ থাকে। ন্যাকামোর শেষ নেই ওদের। *মাঠের মধ্যে একনকাউন্টার হয়েছে। সেখানে সিসিটিভি থাকবে? ভিডিওগ্রাফি থাকবে? অপরাধী সাজা পেয়েছে তাতে ওরা খুশি নয়। কি চাইছেন, অপরাধীদের বাঁচিয়ে রেখে ট্রায়ালের পর ট্রায়াল চলবে? এই সুযোগ ওদের দেব না।*

৫) একনিষ্ঠ এবং দুর্দিনে পাশে থাকা এক বর্ষীয়ান কর্মীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মমতার।

মমতা চিরকাল লোকজনকে ইউজ করেছেন। মানুষ কাল প্রকাশ্যে দেখল ওনার আর ধৈর্য নেই। সিপিএম কে লোকে ত্যাগ করেছিল বলে ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো তৃণমূল এসেছিল। আজ মানুষ প্রকৃত বিকল্প হিসেবে বিজেপিকে পেয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারের কাজকর্মে খুশি।

৬) দুর্দিনে পাশে থাকা কর্মীর কোনো সম্মান নেই?

উনি চিরকাল এরকম। বাড়ির লোকেদের ধমকেছেন। থানার ওসি কে বিডিও দের চমকেছেন। লুঠ যারা করেছে তাদের প্রমোশন দিয়েছেন। সিপিএম আমলে তার কর্মীদের ওপর যারা গুলি চালিয়েছিল উনি তাদেরকে পাশে টেনে নিয়েছেন।

৭) যাকে থাপ্পড় মারা হয়েছে তিনি নাকি সন্তানতুল্য। দাবি কুণাল ঘোষের।

কুণাল ঘোষের ভাষণ শুনে আর ডায়লগ শুনে আজ তৃণমূলের এই দুরবস্থা। কুণাল ঘোষ শকুনির ভূমিকায় অভিনয় করে গেছেন। কুরু বংশ কে শেষ করেছেন কুণাল ঘোষ।

৮) থাপ্পড় টা আগে সঠিক গালে পড়লে আজ কি তৃণমূলের এই দুর্দিন হতো?

কে কাকে থাপ্পড় মারবে জানিনা। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা। মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছিল। আমরা মানুষকে উন্নয়ন এবং জাস্টিস একসঙ্গে দিচ্ছি।

৯) মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর আক্রমণের জেরে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ী এলাকায় ১১ ক্লাসের ছাত্র গ্রেফতার।

বাঙালি বহুদিন পর একটা ভালো জিনিস আবিষ্কার করেছে। শারীরিক ভাবে কারুর ক্ষতি না করে ডিম থেরাপি দিচ্ছে। কিছু সাংবাদিক ডিম খেয়েছেন। পোস্তা বাজারে এক সম্পাদক ডিম খেয়েছেন। বাজারের লোক ধর্মঘট করেছে। তার মানে সরকারকে তারা চ্যালেঞ্জ করছে। একজন দুষ্কৃতী। তৃণমূল ক্যাডার। তাকে সেক্রেটারি করে রাখা হয়েছিল। তার পাশে দাঁড়ানো মনে সরকারকে চ্যালেঞ্জ করা। এই ভুলগুলি করবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *