
মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা: একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে মালদার ইংরেজবাজার শহরের একটি বেসরকারি হোটেলে ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূলের উদ্যোগে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন এই শিবিরের তিনজন বিধায়ক ও এক প্রাক্তন মন্ত্রী। তবে ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদার অধিকাংশ কাউন্সিলর এবং জেলার বহু শীর্ষ নেতা অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক মহলে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দলের সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে শুদ্ধিকরণ প্রয়োজন। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে প্রকৃত সংগঠকদের গুরুত্ব না দিয়ে অনেক “বেনোজল” এবং জনসমর্থনহীন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে বহু অভিজ্ঞ নেতা-কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। তাঁদের ফের সক্রিয় করে জনসমর্থন রয়েছে এমন নেতৃত্বকে সামনে এনে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, আমাদের ভুল বুঝবেন না। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে শুদ্ধিকরণ অত্যন্ত জরুরি। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।”
সাবিনা ইয়াসমিন অভিযোগ করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে থাকা কিছু ব্যক্তির কারণেই সংগঠন দুর্বল হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা দিদিকে ঘিরে রেখেছিল, তারাই দলকে ডুবিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখেন, আমরা তাঁর পাশেই থাকব।”
সভায় জানানো হয়, ইতিমধ্যেই নতুন রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এবার পর্যায়ক্রমে জেলা, ব্লক এবং অঞ্চল কমিটি গঠন করা হবে। ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূলের মালদা জেলা সভাপতি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জেলার প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, জেলার আরও দুই বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী ও মতিউর রহমান ভবিষ্যতে এই শিবিরে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নেতৃত্ব জানায়, বিষয়টি জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে তাঁদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই সভাকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত সংগঠন পুনর্গঠন এবং নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে ঋতব্রত-পন্থী তৃণমূলের অবস্থান আগামী দিনে জেলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।












Leave a Reply