স্কুলের জমিতে দোকান, আবাস যোজনার টাকা অপব্যবহারের অভিযোগে তৃণমূল উপপ্রধান; তদন্তে প্রশাসন।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- স্কুলের জমিতে দোকান নির্মাণ ও আবাস যোজনার টাকা ব্যবহারের অভিযোগ তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে, তদন্তে প্রশাসন।মালদার বামনগোলা ব্লকের মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে স্কুলের জমি দখল করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ এবং আবাস যোজনার অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামবাসীরা বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত উপপ্রধান। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।

স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান অরজিৎ রায় কুপাদহ নবাবনগর কে.কে.জে.কে. বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। তাঁদের দাবি, আবাস যোজনার ঘর তৈরির জন্য পাওয়া সরকারি অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, স্কুলের জমিতে কীভাবে এই নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি স্কুলের বাগানের গাছ বনদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেই বিক্রির অর্থ কোথায় গেল, তা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বামনগোলা ব্লকের বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, নবাবনগর কে.কে.জে.কে. বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌমিক ভৌমিক জানান, স্কুলের পক্ষ থেকে বহুদিন আগেই ওই জমি লিজ দেওয়া হয়েছিল। তবে আবাস যোজনার অর্থ ব্যবহার করে নির্মাণ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁর কোনও তথ্য নেই।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। উত্তর মালদা বিজেপির সহ-সভাপতি অভিষেক মিশ্র দাবি করেন, আবাস যোজনার অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মদনাবতী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অরজিৎ রায়। তাঁর দাবি, আবাস যোজনার টাকায় তিনি কোনও দোকানঘর নির্মাণ করেননি। প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও ব্যক্তিগত কারণে এখনও আবাসের ঘরের কাজ শুরু করতে পারেননি এবং শীঘ্রই সেই কাজ শুরু করবেন। তিনি আরও বলেন, স্কুলের জমি দখল করা হয়নি; বহু বছর আগে বৈধভাবে লিজ নেওয়া জমিতেই নিজের অর্থে দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিদ্বেষবশত কয়েকজন গ্রামবাসী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝে বামনগোলা ব্লক প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্টের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *