
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে পূর্ব রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতি গীতিকা পান্ডে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ‘রেল সিনার্জি’ ও ‘বেঙ্গল এমএসএমই ভেন্ডর কানেক্ট সামিট ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই ঘোষণা করেন।
পূর্ব রেলের সক্ষমতা বাড়ানো, মাল্টি-ট্র্যাকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, রেল ইয়ার্ড আধুনিকীকরণ এবং বিভিন্ন টার্মিনালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে আগামী দিনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন গীতিকা পান্ডে। তাঁর বক্তব্য, বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশে শক্তিশালী রেল পরিকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
গীতিকা পান্ডে বলেন, “রেলপথ বাজার, মানুষ এবং আকাঙ্ক্ষাকে সংযুক্ত করে।” তাঁর মতে, শক্তিশালী রেল নেটওয়ার্ক লজিস্টিকসের খরচ কমানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে এবং উৎপাদন শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
এমএসএমই ক্ষেত্রের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। অর্থনীতিতে নিজেদের অবদান আরও বাড়াতে এমএসএমই সংস্থাগুলিকে উদ্ভাবনী পণ্য এবং সাশ্রয়ী সমাধান তৈরিতে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার।
অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পলাশ শ্রীবাস্তব শিল্পক্ষেত্রে শক্তিশালী ভ্যালু-চেইন অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। উৎপাদন খাতের দ্রুত প্রসারের জন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শিল্প ব্যবস্থায় ‘মিসিং মিডল’ বা মধ্যবর্তী স্তরের ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দেন তিনি। ক্লাস্টার-ভিত্তিক অর্থায়ন এবং সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্প-পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কলকাতার এমএসএমই ডিএফও-এর ডিরেক্টর পি কে দাস সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া এমএসএমই উন্নয়ন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এমএসএমই সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে অর্থপ্রদানে বিলম্ব একটি বড় সমস্যা। নতুন সংশোধনী এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থায়ন, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজারে সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যের এমএসএমই ক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
টেক্সম্যাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুদীপ্ত মুখার্জি ভারতের বিশাল রেল পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে দেশের রেল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে, কলকাতা মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার প্রেম সাগর গুপ্ত জানান, কলকাতা মেট্রোতে প্রতিদিন প্রায় ৬.৫ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। বর্তমানে শহরে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন চালু রয়েছে এবং শীঘ্রই আরও ৩১টি স্টেশন চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের মেট্রো যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে টাস্ক ফোর্সের সহ-চেয়ারম্যান এবং রাহী ইনফ্রাটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল খৈতান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় রেল ব্যবস্থাকে শুধু ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য বা মালবাহী পরিবহণের পরিমাণের বিচারে নয়, নির্ভরযোগ্যতা, টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প-পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে।
সিআইআই পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান এবং জুপিটার ওয়াগন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিবেক লোহিয়া পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিকাশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। দক্ষ কর্মীর সহজলভ্যতা, খনি ও খনিজ সম্পদের নৈকট্য এবং মালবাহী করিডোরের উপস্থিতিকে রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
‘বেঙ্গল এমএসএমই ভেন্ডর কানেক্ট সামিট ২০২৬’-এ পূর্বাঞ্চলের শিল্প ও রেলক্ষেত্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার অংশ নেন। বি২বি ও বি২জি বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন বিক্রেতা, শিল্পপ্রতিনিধি এবং সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের এমএসএমই ক্ষেত্রের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনার পথও খুলে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।












Leave a Reply